
সুন্দরবন আমাদের জন্য একটি অক্সিজেন ব্যাংক। এই বন আমাদের অস্তিত্বের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সে কারণে খুলনাবাসীসহ সারা দেশের মানুষের এই বনকে, এই বনের জীববৈচিত্রকে রক্ষা করতে সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু গতকাল শুক্রবার সকালে নগরীর সিএসএস আভা সেন্টারে সুন্দরবন সামিট-২০২৬ এর ‘সহনশীল সুন্দরবন: যুবসমাজ, জলবায়ু ও উপকূলীয় ভবিষ্যৎ’’ শীর্ষক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন। যুক্তরাজ্য সরকারের অর্থায়নে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ গবেষণা কেন্দ্র (সিথ্রিইআর), মিশন গ্রিন বাংলাদেশ (এমজিবি) এবং স্বপ্নপুরী কল্যাণ সংস্থা যৌথভাবে এ সংলাপের আয়োজন করে।
প্রশাসক বিভিন্ন দেশের বন সংরক্ষণে গৃহীত কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, এটি আমাদের জন্য খুব লজ্জার যে আমরা আমাদের সম্পদ রক্ষার চেষ্টা করি না। সুন্দরবন রক্ষায় তিনি সুন্দরবন বোর্ড গঠনের পাশাপাশি এই বনের মধ্য দিয়ে নৌযান চলাচল বন্ধ করা, সন্দুরবন কেন্দ্রীক বাণিজ্য বন্ধে সংলগ্ন অধিবাসীদের জন্য বিকল্প পেশার ব্যবস্থা করাসহ বন সংরক্ষণ আইনের কঠোর প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনা সভায় জানানো হয়, সুন্দরবন ইউনেস্কো ঘোষিত বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী এবং বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন। এই বন সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির বিরুদ্ধে বাংলাদেশের প্রথম সারির প্রতিরা হিসেবে কাজ করে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস এবং জলবায়ু-জনিত দুর্যোগ প্রতিরোধসহ জীব-বৈচিত্র ধারণ এবং ল ল মানুষের জীবিকা নির্বাহে সহায়তা করে। তবে ক্রমবর্ধমান লবণাক্ততা, জলবায়ুর পরিবর্তন এবং মানুষ-বন্যপ্রাণীর সংঘাত ক্রমশ: এই বনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। এ ঝুঁকি মোকাবেলায় ‘নবপল্লব’ এবং ‘এনগেজ ফর সুন্দরবন’ প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত গবেষণা ও বাস্তব অভিজ্ঞতাকে জাতীয় আলোচনা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় নিয়ে আসা হবে। একইসাথে ‘নবপল্লব’ প্রকল্পটি জলবায়ু-সহনশীল জীবিকা, নবায়নযোগ্য শক্তি এবং স্থানীয়ভাবে পরিচালিত অভিযোজনের মাধ্যমে জলবায়ু সহনশীলতা শক্তিশালী করার উপরও আলোকপাত করবে। সুন্দরবনের পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক সুরা জাতীয় পর্যায়ে জোরদার করা এবং পরিবেশগত প্রশাসনে যুব সম্প্রদায়ের অর্থপূর্ণ অংশগ্রহণ সহজতর করা এবং জাতীয় জলবায়ু ও উপকূলীয় নীতি সমর্থন করে এমন কার্যকর সুপারিশ প্রণয়ন করাই এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।
ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত এর সভাপতিত্বে সংলাপে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন খুলনার জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত, ট্রাস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) ড. মোঃ মনজুরুল কিবরিয়া, ওয়াটারকিপার্স-এর কান্ট্রি কোঅর্ডিনেটর শরীফ জামিল, সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স স্টাডিজ (সিএনআরএস) এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মোখলেসুর রহমান, ডিএসকে’র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ড. দিবালোক সিংহা, ফ্রেন্ডশিপ-এর সিনিয়র ডিরেক্টর কাজী এমদাদুল হক, নবপল্লব-এর চিফ অফ পাটি মিস সেলিনা শেলি খান, সাজেদা ফাউন্ডেশনের অ্যাসোসিয়েট ডিরেক্টর শামিরা মোস্তফা। স্বাগত বক্তৃতা করেন ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সিথ্রিইআর প্রকল্পের উপ-পরিচালক রউফা খানম ও মিশন গ্রিন বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক আহসান রনি। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কেয়ার-এর মানবিক ও স্থিতিস্থাপক ফিউচারস প্রোগ্রাম এর উপ-পরিচালক মৃত্যুঞ্জয় দাস ও সাজেদা ফাউন্ডেশনের প্রধান গবেষক নুরুল ইসলাম বিপ্লব। সংলাপে যুব জলবায়ু নেতা, কমিউনিটি প্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা, গবেষক ও শিাবিদ, এনজিও ও উন্নয়ন সহযোগী, সিএসআর প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও পেশাজীবীসহ প্রায় ২৫০ জন প্রতিনিধি অংগ্রহণ করেন।
সকাল সাড়ে ৯টায় কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু নগরীর ৩১নং ওয়ার্ড অফিসে মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ওয়ার্ড এলাকার ভাতাভোগী গর্ভবতী মায়েদের মাঝে আর্থিক সহায়তার ফরম বিতরণ করেন। সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে এ ভাতা প্রদান করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রশাসক ৪৫ জন ভাতাভোগীদের মাঝে অনুদানের ফরম বিতরণ করেন। ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ শফিকুল হাসান দিদারসহ স্থানীয় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
নগরীর ৩১নং ওয়ার্ড অফিসে মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ওয়ার্ড এলাকার ভাতাভোগী গর্ভবতী মায়েদের মাঝে আর্থিক সহায়তার ফরম বিতরণ করেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।