ঢাকা শনিবার, ২৩ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

নদীতে মাছ না পেয়ে হতাশ জেলেরা

নদীতে মাছ না পেয়ে হতাশ জেলেরা

পটুয়াখালীর দশমিনায় তেঁতুলিয়া-বুড়াগৌরাঙ্গ নদীতে আশানুরূপ ইলিশসহ অন্যান্য মাছ না পেয়ে হতাশ জেলেরা। আশানুরূপ মাছ না পেয়ে জেলেদের পরিশ্রমই বৃথা হয়ে যাচ্ছে মাছ শিকারের নিষেধাজ্ঞা শেষে জেলেরা জাল-ট্রালার নিয়ে নদীতে গিয়ে আশা অনুরুপ মাছ পাচ্ছে না। ফলে হতাশ হয়ে বাড়ি ফিরছেন জেলেরা।

উপজেলার বাঁশবাড়িয়া, হাজীরহাট, গোলখালী মৎস্যঘাট এবং বাঁশবাড়িয়াঘাটসহ হাট-বাজার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, নদীর পাড়ে অনেক জেলে বসে আছেন। কেউ মাছ ধরতে জাল নিয়ে নদীতে যাচ্ছেন। আবার কেউ জাল ফেলে তেমন মাছ না পেয়ে নদীর পাড়ে চুপচাপ বসে আছেন। নিষেধাজ্ঞা শেষে যেখানে জালভর্তি মাছ পেয়ে জেলেদের মুখে সব সময় হাসির ঝিলিক লেগে থাকার কথা, সেখানে জেলের মুখ হয়ে আছে মলিন। কারণ নদীতে ইলিশ শিকারের আয়োজনে তাদের খরচের টাকাই উঠছে না।

অপরদিকে, উপজেলার বাঁশবাড়িয়া, দশমিনা, রনগোপালদী ও চরবোরহান ইউনিয়নের অনেক জেলে এ পেশা পরিবর্তন করে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্নস্থনে জীবিকার তাগিদে চলে গেছে।

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে কার্ডধারী ১০ হাজার ১৭১ জন পেশাজীবী জেলে রয়েছে। আর সরকারি সাহায্য সহযোগিতার আওতায় ভিজিএফর ৬ হাজার জেলে সমুদ্রগামী।

উপজেলার গোলখালী এলাকা থেকে একাধিক জেলে জাল ও নৌকা নিয়ে নদীতে নামেন মাছ শিকারে। রাতে তিনটি ‘খেও’ (জাল ফেলে) দেওয়ার পর অল্প কিছু পোয়া মাছ ও রাম ছোর পেয়ে ঘাটে এসে নোঙর করে দুরচিন্তায় বসে আছেন।

একাধিক জেলে বলেন বলেন, অভিযান (নিষেধাজ্ঞার) সময় আমরা নদীতে মাছ ধরতে যাইনায়। ওই সময় গেলে মাছ বেশি পাইতাম। অভিযান (নিষেধাজ্ঞা) শেষে নদীতি নামি দেহি কোনো মাছ নেই। রাতভর তিন খেপ দিয়া মাত্র ২-৩ কেজি পোয়া আর ছোর মাছ পাইছি । তাও সব ছোট মাছ আর ৩৩০ টাকা কেজি দরে বেঁচিছি। কি আর করমু। মনডা বেশি ভালা নাই। তাই চুপচাপ বইসা আছি।’

এবিষয়ে বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের বাঁশবাড়িয়া তেঁতুলিয়া নাদীতে মাছ শিকারি শাহ আলম খাঁ, জাহাঙ্গীর ও লাল মিয়াসহ প্রায় শতাধিক জেলে হতাশার সুরে বলেন, ‘নৌকা নামাতে প্রায় এক থেকে দেড় লাখ টাকা খরচ হয়েছে। কেই গরু-বাছুর বিক্রি করে আবার কেউ ঋন নিয়ে জাল-নৌকা নামাইছি। তয় নদীতে কোথাও মাছ নাই। গেল বছর প্রতি খেয় ২০-২৫ কেজি কইরা বিভিন্ন প্রজাতের মাছ পাইছি। এবার দুই খেও দিইয়া মাত্র ২ কেজি মাছ পাইছি।’ তারা আরও বলেন, নিষেধাজ্ঞা শেষে যেখানে জালভর্তি মাছ পেয়ে জেলেদের মুখে সব সময় হাসির ঝিলিক লেগে থাকার কথা, সেখানে অধিকাংশ জেলের মুখ ছিল মলিন। কারণ, নদীতে ইলিশ শিকারের আয়োজনে তাঁদের খরচের টাকাই উঠছে না। বাজারে দেখা যায়, নিষেধাজ্ঞা শেষে নদীতে অনেক ইলিশ ধরা পড়বে ভেবে বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষজন বাজারে মাছ কিনতে এসেছেন। বাজারে মাছ না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন ক্রেতারা। অধিকাংশ মাছের আড়ৎ ঘর তালা বন্ধ হয়ে আছে। তবে ক্রেতাদের ভিড়ে মাছের বাজারগুলো বেশ চড়া।

বাঁশবাড়িয়া ঘাটে মৎস্য ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর হোসেন ও মিরাজ খাঁন বলেন, ‘অন্যান্য বছর নিষেধাজ্ঞা শেষে ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতের প্রচুর মাছ ধরা পড়ত। গত বছরও অনেক মাছ বেচাকেনা করেছি। অভিযান শেষে ভালো মাছ ধরা পড়বে এমন আশায় অনেকে ধারদেনা ও দাদন এবং ঋণ করে নদীতে জাল-নৌকা নামিয়েছে। জেলেরা নদীতে মাছ না পাওয়ায় হতাশ হচ্ছি।’

এবিষয়ে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তপন মজুমদার বলেন, জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে জীববৈচিত্র্যের ওপর ভারসাম্যহীন আঘাত এবং তেঁতুলিয়া-বুড়াগৌরাঙ্গ নদীতে গভীরতা ক্রমান্বয়ে কমে যাওয়া ও নদীর বিভিন্নস্থানে ডুবোচরের ফলে বাধাগ্রস্ত হয়।

অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার নদীতে মাছের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক কম।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত