
জেলায় চলতি মৌসুমে লিচুর বাম্পার ফলন হয়েছে। এই মৌসুমে জেলার ১ হাজার ৪৩৭ হেক্টর জমিতে গড়ে ওঠা লিচু বাগান থেকে ২৭ হাজার ৩৭৫ মেট্রিক টন লিচু উৎপাদন হবে বলে আশা প্রকাশ করছে গাজীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। অধিদপ্তর সূত্র জানায়, লাভজনক হওয়ায় এই জেলায় প্রতিবছর বাণিজ্যিকভাবে লিচু চাষ বাড়ছে। জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি লিচু উৎপাদন হয় শ্রীপুরে। এছাড়া কাপাসিয়া, কালীগঞ্জ, কালিয়াকৈর ও সদর উপজেলায়ও লিচু চাষ হয়। তবে বিশেষ রসালো স্বাদ ও ভিন্নতার কারণে শ্রীপুরের লিচুর চাহিদা দেশজুড়ে সবচেয়ে বেশি।
জেলায় সাধারণত চায়না-৩, বোম্বাই ও পাতি এই তিন জাতের লিচু বেশি উৎপাদন হয়ে থাকে।
স্থানীয় লিচু চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জ্যৈষ্ঠ মাসজুড়ে লিচু সংগ্রহ ও বিক্রির ধুম চলছে। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে পরিবারের সবাই এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন। রাতের বেলায় বাদুড় ও পাখির কবল থেকে লিচু রক্ষায় বাগান পাহারা দেওয়া এবং দিনের বেলায় লিচু সংগ্রহ করে বাজারে পাঠানোই এখন চাষিদের প্রধান কাজ। শ্রীপুর উপজেলার বারতোপা এলাকার ফজলুল হক জানান, এবার ফলন যেমন ভালো হয়েছে, বাজারে দামও সন্তোষজনক। চাষি ও ব্যবসায়ীরা বাগান থেকে লিচু সংগ্রহ করে স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি অধিক লাভের আশায় রাজধানী ঢাকাতেও পাঠাচ্ছেন।
রাজাবাড়ি গ্রামের লিচুচাষি আবুল খায়ের বলেন, এই মৌসুমে লিচুই আমাদের আয়-রোজগারের প্রধান ফসল। এখানকার লিচুর কদর বেশি থাকায় দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা মুকুল আসার সঙ্গে সঙ্গেই অগ্রিম বাগান কিনে নেন। তিনি এবার তার বাগানের ৩৫টি গাছের লিচু দেড় লাখ টাকায় বিক্রি করেছেন বলে জানান। তবে মৌসুম সংক্ষিপ্ত হওয়ায় লিচু সংরক্ষণ নিয়ে কিছুটা চিন্তিত ব্যবসায়ীরা। কাপাসিয়ার রানীগঞ্জ বাজারের লিচু ব্যবসায়ী মামুনুর রশিদ বলেন, লিচু বেশি দিন গাছে রাখা যায় না। সরকারি উদ্যোগে লিচু সংরক্ষণের ব্যবস্থা বা হিমাগার স্থাপন করা হলে চাষি, ব্যবসায়ী ও ভোক্তা সবাই উপকৃত হতেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
গাজীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাহবুব আলম বাসসকে জানান, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কয়েক বছর ধরে স্থানীয়দের লিচু চাষে আগ্রহী করার জন্য সব ধরনের পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে প্রতিবছরই জেলায় বাণিজ্যিকভাবে লিচু উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ভোক্তাদের কাছে যেন সম্পূর্ণ বিষমুক্ত ও নিরাপদ লিচু পৌঁছায়, সেব্যাপারে আমরা শুরু থেকেই নিবিড় নজরদারি রেখেছি। এবার জেলাজুড়েই লিচুর চমৎকার ফলন হয়েছে। লিচু চাষের এই ব্যাপক সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক সাফল্যের মাধ্যমে গাজীপুরের গ্রামীণ অর্থনীতির ভিত আরও শক্তিশালী হচ্ছে।