
সিরাজগঞ্জের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে নবনিযুক্ত ভাইস-চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক তাহমিনা আখতার যোগদান করেছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আব্দুল খালেকের নিকট গত সোমবার বিকালে তিনি যোগদানপত্র জমা দেন এবং মঙ্গলবার সকালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে রবির ভিসি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এ সময় ভিসি বলেন, রবি শুধু একটি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি বাঙালির সাহিত্য, সংস্কৃতি ও মানবিক চেতনার এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং জনসম্পৃক্ততার সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে এ প্রতিষ্ঠানকে শিক্ষা, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক চর্চার উৎকর্ষের নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে কাজ করতে চাই। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং অংশীদারিত্বমূলক প্রশাসনের মাধ্যমে একটি আধুনিক, শিক্ষা-শিল্প দক্ষতাভিত্তিক, অংশীদারিত্ব, গবেষণাবান্ধব ও শিক্ষার্থী-কেন্দ্রিক বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলা হবে। রবির অগ্রযাত্রায় সবার মতামত ও সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে রবিকে জাতীয় ও পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর এবং আন্তর্জাতিক পরিমলে আরও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যাওয়াই হবে প্রধান লক্ষ্য।
গতকাল বুধবার অস্থায়ী অ্যাকাডেমিক ভবন-এ স্থাপিত শহিদ মিনার ও বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করে ভিসি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেন। উল্লেখ্য, মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে রবির ভিসি হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক তাহমিনা আখতারকে নিয়োগ দেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তিনি ৩৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই বিশিষ্ট শিক্ষাবিদের রবির ভিসি পদে নিয়োগ দেশের উচ্চ শিক্ষা ক্ষেত্রে নারী নেতৃত্বের উল্লেখযোগ্য প্রতিফলন। তিনি এসএসসিতে ঢাকা বোর্ডে মেধা তালিকায় ৬ষ্ঠ স্থান এবং এইচএসসিতে ঢাকা বোর্ডে মেধা তালিকায় ১০ম স্থাান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (ওঝডজ) থেকে বিএসএস (সম্মান)-এ প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান এবং এমএসএস-এ প্রথম শ্রেণিতে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।
তিনি যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মানসিক স্বাস্থ্য ও কাউন্সেলিং বিষয়ে ফেলোশিপ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং তিনি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বাংলাদেশে ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কের প্রবর্তক এবং সমাজকল্যাণ ও গওবষণা ইনস্টিটিউট (ওঝডজ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লিনিক্যাল সোশ্যাল ওয়ার্কের বিশেষায়িত মাস্টার্স প্রোগ্রামের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি Sage, Palgrave Macmillan (মালয়েশিয়া), Taylor & Francis, Oxford University Press ও দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মর্যাদাপূর্ণ জার্নলে পঞ্চাশটিরও অধিক গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন। তার গবেষণার মূল ক্ষেত্রে রয়েছে সামাজিক উন্নয়ন ইস্যু, নারীর ক্ষমতায়ন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার, মানসিক স্বাস্থ্য, সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন ও অন্তর্ভুক্তিকরণ এবং জলবায়ু সহনশীলতা।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বহু গবেষণার উন্নয়ন গবেষণা প্রকল্পে তিনি দলনেতা ও প্রধান গবেষক হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (ISWR)-এর পরিচালক (২০১৯-২০২১) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েয়র ৩টি হলের প্রভোস্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নির্বাচিত যুগ্ম সম্পাদক, সিনেট সদস্য এবং অ্যাকাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ১৯৯০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ও হল সংসদের কুয়েত মৈত্রী হলের নির্বাচিত ভিপি ছিলেন।