ঢাকা বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ৩ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

বিএনপি নেতা হত্যার বিচার দাবি

বিএনপি নেতা হত্যার বিচার দাবি

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল করিম (৪০) হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে তার পরিবার ও গ্রামবাসী। গত সোমবার সকাল ১১টার দিকে কিশোরগঞ্জ উপজেলা প্রেসক্লাবের সামনে ঘণ্টাব্যাপী ওই মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। মানববন্ধন শেষে সেখানে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তব্য দেন নিহতের মা আফরোজা বেগম, ভাই মো. এনামুল হক, মো. আব্দুল ওয়াদুদ, আব্দুল মাজেদ, স্থানীয় বাসিন্দা নাসির হোসেন প্রমুখ।

আন্দোলনকারীরা জানান, গত ১ জুন বিকালে রেজাউল করিম তার বাড়ির পাশবর্তী উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের গড়েরপাড় গ্রামে ফুপুর বাড়িতে দাওয়াত খেতে যান। সেখানে জমিজমা-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে তার ফুপা আমিনুর রহমানের ভাইদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় প্রতিপক্ষরা রেজাউল করিমকে মারধর করে এবং মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে পরদিন ২ জুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় ২ জুন নিহতের ছোট ভাই আব্দুল ওয়াদুদ বাদী হয়ে কিশোরগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর-১। মামলায় আটজনকে আসামি করা হয়।

সমাবেশে নিহতের ছোট ভাই আব্দুল ওয়াদুদ অভিযোগ করে বলেন, এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার আসামি রাকিব ইসলাম, মো. আসাদুজ্জামান, আব্দুল আজিজ ও আক্তারুজ্জামান বিদেশে লোক পাঠানোর নামে ভিসা প্রতারণা এবং থাই জুয়া খেলার সঙ্গে জড়িত। প্রতারণার মাধ্যমে তারা বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। অর্থের প্রভাব খাটিয়ে তারা আইনের আওতার বাইরে থাকার চেষ্টা করছেন।

দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচির হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন বক্তারা। পরে আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে কিশোরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেন আন্দোলনকারীরা।

নিহত রেজাউল করিম মাগুড়া ইউনিয়নের দোলাপাড়া পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল ওহাবের ছেলে এবং দোলাপাড়া ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

কিশোরগঞ্জ থানার ওসি লুৎফর রহমান বলেন, ঘটনার পর দুইজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে। আশা করছি, দ্রুত তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত