
সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট, রংপুর জেলা শাখার উদ্যোগে গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১২টায় রংপুর প্রেসক্লাবে জাতীয় বাজেটের ২৫ ভাগ শিক্ষা খাতে বরাদ্দ সহ ৫ দফা দাবিতে বিক্ষোভণ্ডসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত বিক্ষোভণ্ডসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা সভাপতি সাজু বাঁশফোড়, সাধারণ সম্পাদক জয় দাসের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন জেলা কমিটি কোষাধ্যক্ষ পুজা রানী, সদস্য প্রিয়া রানী ও কারমাইকেল কলেজের প্রতিনিধি আকরাম খান প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, শিক্ষায় পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো শুধু সনদ প্রদানের কারখানায় রূপ নিয়েছে। গবেষণায় নগণ্য বরাদ্দের কারণে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের র্যাঙ্কিং আজ তলানিতে। লাইব্রেরিতে নেই আধুনিক রেফারেন্স বই, ল্যাবরেটরিতে নেই প্রয়োজনীয় রাসায়নিক ও যন্ত্রপাতি। সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত আবাসন ও পুষ্টিকর খাবারের নিশ্চয়তা রাষ্ট্র যথাযথভাবে দিতে পারছে না। প্রাথমিক থেকে উচ্চ শিক্ষা পর্যন্ত শিক্ষা ক্রমান্বয়ে বেসরকারী করণ হচ্ছে। স্কুলগুলোতে পর্যাপ্ত শিক্ষক এবং শিক্ষার উপকরণ নেই। তারা বলেন- একটি উন্নয়নশীল দেশের বাজেটের অন্তত ২৫ শতাংশ বা জিডিপির ৬ শতাংশ শিক্ষা খাতে ব্যয় করা বাধ্যতামূলক। এশিয়ার দেশগুলোর দিকে তাকালেও দেখা যায়, ভিয়েতনাম তার বাজেটের প্রায় ২০ শতাংশ, মালয়েশিয়া ১৯ শতাংশের উপরে এবং এমনকি নেপালও বাংলাদেশের তুলনায় জিডিপির অনুপাতে অনেক বেশি বরাদ্দ দিয়ে থাকে। স্পষ্টতই, বাংলাদেশে শিক্ষা খাত বরাবরই অবহেলিত ও উপেক্ষিত থেকেছে।
বর্তমান শিক্ষা খাতের বাজেট প্রত্যাখ্যান করে বক্তারা শিক্ষা-সংস্কৃতি ও মনুষ্যত্ব রক্ষায় নিম্নোক্ত দাবিগুলো তুলে ধরেন- জাতীয় বাজেটের ২৫ ভাগ এবং জিডিপির ৬ শতাংশ জাতীয় বাজেটে বরাদ্দ দাও। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ দিয়ে ক্লাস সংকট নিরসন কর এবং স্নাতক পর্যায়ে ভর্তি ও রেজিস্ট্রেশন ফি বৃদ্ধি বন্ধ কর। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ, ল্যাবে পর্যাপ্ত উপকরণ সরবরাহ, স্কুলে কোচিং বাণিজ্য বন্ধ এবং শিক্ষার মানকে উন্নত করে বিদ্যালয়কে শিক্ষার মূল কেন্দ্রে পরিণত কর। সরকারি উদ্যোগে নতুন বিদ্যালয় ও কলেজ নির্মাণ কর। শিক্ষার বেসরকারিকরণ, বাণিজ্যিকীকরণ ও কারিগরিকরণ বন্ধ কর।