ঢাকা মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

উলিপুরে প্রেমের ফাঁদে ফেলে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে রাতভর ধর্ষণ

উলিপুরে প্রেমের ফাঁদে ফেলে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীকে রাতভর ধর্ষণ

কুড়িগ্রামের উলিপুরে হাফেজিয়া মাদ্রাসার শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে ঐ মাদ্রাসা শিক্ষকসহ দুই জনকে আসামী করে উলিপুর থানায় মামলা করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে, গত ৩০ জুন, ২০২৬ দিবাগত রাতে উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কাজির মসজিদ সংলগ্ন নুরানী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসায়। আসামীরা হলেন ঐ মাদ্রাসার শিক্ষক সহিদুল ইসলাম (৪০) ও উপজেলার গুনাইগাছ ইউনিয়নের নাগড়াকুড়া গ্রামের আনু মিয়ার ছেলে রাকিব (১৯)। এ রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত আসামীরা গ্রেপ্তার হয়নি। এদিকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য ভিকটিমকে হাসপাতালে প্রেরণ করেছে পুলিশ।

এলাকাবাসী ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, নাগড়াকুড়া বাজার এলাকার আনু মিয়ার ছেলে রাকিব উক্ত মহিলা হাফেজিয়া মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের কিশোরী শিক্ষার্থী মুন্নী আক্তারের (১৭) (ছদ¥নাম) সাথে দীর্ঘদিন থেকে প্রেমের মাম্পর্ক বিদ্যমান। সেই সুবাদে গত ৩০ জুন বিকালে রাকিব ওই শিক্ষার্থীকে কাজির মসজিদ সংলগ্ন নুরানী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসায় আসতে বললে প্রমিকের ডাকে সে সেখানে আসে এবং মাদ্রাসার একটি শ্রেণি কক্ষে উভয়ে প্রেমালাপ করে ।

এ সময় প্রেমিক যুগোলকে মাদ্রাসায় দায়িত্বে থাকা শিক্ষক সহিদুল ইসলামের (৪০) নজরে পরলে তিনি সেখানে যান। প্রেমিক রাকিব তাকে নিজেদের পরিচয় দেন এবং রাতেও সেখানেই অবস্থান করেন। পরবর্তীতে রাত গভীর হলে ওই শিক্ষক প্রেমিক-প্রেমিকার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে রাকিবকে শ্রেণি কক্ষেই ঘুমাতে বলে শিক্ষার্থী মুন্নিকে মাদ্রাসার অফিস কক্ষে নিয়ে যান। এরপর অফিস কক্ষের দরজা বন্ধ করে লম্পট শিক্ষক তাকে চর থাপ্পর মেরে জোর পূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করেন। এমতাবস্থায় মেয়েটির আত্মচিৎকারে রাকিব দ্রুত ছুটে এসে শিক্ষক সহিদুলের হাত থেকে ভিকটিমকে উদ্ধার করে। শিক্ষকের এহেন আচরণ ও ধর্ষণ চেষ্টার কথা রাকিবকে জানালে তাকে শান্তনা দেন এবং সে নিজেই তাকে (ভিকটিমকে) বিয়ে করবে বলে আশ্বস্ত করে রাতভর ধর্ষণ করে।

পরদিন সকালে শিক্ষার্থী বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি স্বজনদের জানায়। এরপর ভিকটিমের স্বজনরা ন্যায়বিচার চেয়ে স্থানীয় মাতাব্বর ও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে বিচার দিলে তারা বিচার না করে বরং বিষয়টি ধামাচাপা দিতে ভিকটিমের পরিবারের উপর চাপ এবং কালক্ষেপন করতে থাকেলে ধর্ষিতার নানা বাদি হয়ে গত শনিবার (৪ জুলাই) রাকিব ও সহিদুল ইসলামকে আসামী করে উলিপুর থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। উলিপুর থানার অফিসার ইনচার্জ সাঈদ ইবনে সিদ্দিক মামলা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিৎ করে ধর্ষিতাকে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে পাঠান এবং আসামীদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা অব্যাহত আছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত