
ঠাকুরগাঁও পৌরসভার সড়কের কাজে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতি ও হরিলুটের অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এবং এর সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী সোহেল রানার বিরুদ্ধে। জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের গোয়ালপাড়া পাওয়ার গ্রীড-৩৩ কেভি হতে সালন্দর ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা ঈদগাহ মাঠের গেট পর্যন্ত।
মুসলিম নগর মহল্লায় পৌরসভার আওতায় প্রায় সাড়ে ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪২০ মিটার রাস্তা পাকাকরণ কাজের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স নুপুর এন্টারপ্রাইজ’।
সিডিউল অনুযায়ী কাজ না করায় ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। ব্যবহার করা হয়েছে নিম্নমানের খোয়া, বালু, ইট ও অন্যান্য উপকরণ। যা অল্প সময়ের মধ্যে রাস্তাটি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী। স্থানীয় বাসিন্দা রোজাউল ইসলাম বলেন, ইঞ্জিনিয়াররা আসেন কি না সন্দেহ আছে।
ঠিকাদারের সঙ্গে ইঞ্জিনিয়ারের যোগসাজসে এই অনিয়ম দুর্নীতি হচ্ছে। যে সকল ইট, খোয়া, বালু ব্যবহার করা হয়েছে একেবারেই নিম্নমানের। এলাকাবাসী মতিউর রহমান জানান দুর্নীতিবাজদের কারণে আমরা সাধারণ জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। জনগণের টাকা যেন সঠিক জায়গায় সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয় এমন দাবি করেন তিনি। রহুল ইসলাম বলেন, যে ইটগুলো দেওয়া হচ্ছে তিন নম্বর। পাঁচ বছর যাবে না- তার আগেই ভেঙে যাবে। ইঞ্জিনিয়ার এসে দেখে গেছে, কিছুই বলেন না। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ফেরদৌস বলেন, জনগণের টাকা শুধু খরচেই হবে, ফলাফল জিরো, হরিলুটর চলতেছে। ইসলাম এক ব্যক্তি বলেন, এতো নিম্নমানের কাজ এর আগে কখনও দেখিনি। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি আলসিয়া মেম্বার সাংবাদিকের উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত সটকে পড়েন। তিনি বলেন, আপনাদের যা খুশি করেন, তাতে যায় আসে না।
অনিয়মের বিষয়টি স্বীকার করে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার প্রকৌশলী সোহেল রানা বলেন, অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইট রিপ্লেজ করা হয়েছে। অন্যান্য উপকরণগুলো সঠিক আছে বলে জানালেন এই প্রকৌশলী।
ঠাকুরগাঁও পৌরসভার প্রশাসক সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন, আমরা অভিযোগের প্রেক্ষিতে রাস্তা পরিদর্শদন করেছি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। নিম্নমানের কাজ অপসারণ করে নিয়ম অনুযায়ী কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীর সঙ্গে ঠিকাদারের সঙ্গে একটা যোগসাজশের বিষয় উঠে এসেছে। প্রকৌশলীর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান এই কর্মকর্তা।