
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের চর নোহালী কাচারিপাড়া এলাকায় স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত একটি বাঁধ ভেঙে গত কয়েক দিনে ১১টি পরিবারের ঘরবাড়িসহ অন্তত ৫০ একর আবাদি জমি তিস্তা নদীতে বিলীন হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, অব্যাহত নদীভাঙনে পুরো নোহালী গ্রামে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ভাঙনের আশঙ্কায় অনেকেই ঘরের টিন, ইটসহ বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। নদীতীরবর্তী আরও শতাধিক পরিবার চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। ভাঙনের শিকার পরিবারগুলো কয়েক দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রহমত আলী বলেন, ভিটেমাটি রক্ষায় এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রমে বাঁধ নির্মাণ করেছিলেন। কিন্তু বাঁধে ভাঙন দেখা দেওয়ার পর বারবার যোগাযোগ করলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। তাদের অবহেলার কারণেই বাঁধটি রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। এখনই পর্যাপ্ত জিও ব্যাগসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে অন্তত বাকি পরিবারগুলোকে রক্ষা করা সম্ভব হবে। অন্যথায় পুরো গ্রাম নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যাদের ঘরবাড়ি এরইমধ্যে নদীতে বিলীন হয়েছে, তারা একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। অন্য কোথাও ঘর সরিয়ে নেওয়ার মতো জায়গাও তাদের নেই। বাধ্য হয়ে তারা খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা আক্তার হোসেন বলেন, নদীভাঙন এখনও অব্যাহত রয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে গ্রামের আরও শতাধিক পরিবারের ঘরবাড়ি নদীগর্ভে চলে যাবে। এত ক্ষয়ক্ষতির পরও পানি উন্নয়ন বোর্ডের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলে বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
নোহালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফ আলী বলেন, কয়েক দিনের অব্যাহত ভাঙনে ১১টি পরিবারের ঘরবাড়ির পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে গুরুত্বসহকারে জানানো হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পুরো গ্রাম রক্ষা করা কঠিন হবে।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, ভাঙনের খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। ভাঙনরোধে চার হাজার জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, কাজের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সেই সীমাবদ্ধতার মধ্যেই সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে।
গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা তৈরির কাজ প্রায় শেষ। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।