ঢাকা মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

বৃদ্ধের বিরুদ্ধে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ

বৃদ্ধের বিরুদ্ধে শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ

পাবনার ভাঙ্গুড়ায় আব্দুস সাত্তার (৮০) নামের এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে পাঁচ বছরের শিশুকে বিস্কুটের লোভ দেখিয়ে ডেকে নিয়ে কবরস্থানের পাশে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল সোমবার সকালে উপজেলার পৌর সদরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর মেন্দা স্বর্ণকার পাড়া (মাবুলা) কবরস্থানের প্রধান ফটকের সামনে পরিত্যক্ত একটি টিনের ঝুপড়ি ঘরে এ ঘটনা ঘটে। শিশুটির চিৎকারে স্থানীয় লোক দেখে ফেলায় শিশুটিকে রেখে বৃদ্ধ পালিয়ে যান। এ ঘটনায় শিশুটির পিতা বাদী হয়ে ভাঙ্গুড়া থানায় মামলা করেছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা মৃত মেসের উদ্দিনের ছেলে ৮০ বছর বয়সি বৃদ্ধ আব্দুস সাত্তার শিলপাটায় ধারকাটিয়ে জীবন জীবিকা নির্বাহ করে। তার তিন ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ঘটনার দিন সকাল আটটার দিকে শীল পরিবারের ছোট্ট শিশুটি বাড়ির সামনে দিয়ে খেলাধুলা করছিলেন। লোকজন না থাকার ফাঁকে ওই বৃদ্ধ শীল পরিবারের ছোট্ট শিশুটিকে বিস্কুটের লোভ দেখিয়ে ফুঁসলিয়ে ছোট্ট একটি পরিত্যক্ত টিনের ঝুপড়ি ঘরে নিয়ে যায়। এরপর তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করলে শিশুর চিৎকারে ও চেঁচামেচিতে লোকজন এগিয়ে আসলে বৃদ্ধ সাত্তার শিশুটিকে ছেড়ে দিয়ে সটকে পড়েন। এরপর থেকে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন। ওই শিশুটি বাড়িতে গিয়ে তার মা এবং পিসির কাছে ঘটনার আদ্যপ্রান্ত খুলে বলেন। এ ঘটনা শোনার পরে শিশুটির পরিবার উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। প্রথমে স্থানীয়রা মীমাংসার চেষ্টা করেও তারা ব্যর্থ হন। পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভিকটিমের সঙ্গে কথা বলে প্রকৃত বিষয় নিশ্চিত হতে পারেন। পরে শিশুটির পিতা বাদী হয়ে থানায় একটি ধর্ষণের চেষ্টা মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে আসামিকে পুলিশ গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযুক্ত বৃদ্ধ আব্দুস সাত্তার তার তিন ছেলে ও এক মেয়ের আলাদা আলাদা বাড়ি রয়েছে। কিন্তু আব্দুস সাত্তার তার নিজস্ব বসতঘর থাকা সত্ত্বেও কবর স্থান সংলগ্ন টিনের ঝুপড়ি ঘরে মাঝে মাঝে অবস্থান করেন। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বৃদ্ধ আব্দুস সাত্তার গ্রামে গ্রামে ঘুরে সিল পাটা ধার কাটিয়ে জীবন জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু ওই ঝুপড়ি ঘরে এর আগেও দুই শিশুকে বিস্কুটের লোভ দেখিয়ে ডেকে নিয়ে এসে শ্লীলতা হানি করেছেন। পরে তার ছেলেরা প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগসাজশে ওই বিষয়টি ধামাচাপা দিয়েছেন। ওইসব ঘটনার পর থেকেই মূলত তিনি আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। ভাঙ্গুড়া থানার এস আই সুব্রত কুমার বলেন, আব্দুস সাত্তার সম্পর্কে এর আগেও আরো এমন ঘটনা শুনেছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ভাঙ্গুড়া থানার ওসি সাকিউল আযম বলেন, বৃদ্ধ কর্তৃক শিশু ধর্ষণের চেষ্টার খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। এ ঘটনায় থানায় একটি মামলা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত