ঢাকা সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

অটোরিকশাচালক হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন

অটোরিকশাচালক হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় অটোরিকশা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে চালক আতাউর রহমান ওরফে আতা মিয়া (৬০) হত্যার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুণ্ঠিত অটোরিকশাটিও উদ্ধার করা হয়েছে। একই ঘটনায় চোরাই মাল কেনার অভিযোগে এক দোকানদারকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল রোববার পিবিআইয়ের পক্ষ থেকে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান গাজীপুর জেলা পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার রকিবুল আক্তার। এদিকে একমাত্র ছেলের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর শুনে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন আতাউর রহমানের বৃদ্ধা মা জহুরা খাতুন (৭৫)। পরে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তারও মৃত্যু হয়।

পিবিআই সূত্র জানায়, গত ২০ আগস্ট বিকেলে জীবিকার তাগিদে নিজের ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন আতাউর রহমান। ওই দিন রাত ৮টার আগে কাপাসিয়া উপজেলার সনমানিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণগাঁও এলাকার একটি নির্জন কলাবাগানে তাঁকে নিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা। সেখানে রশি দিয়ে গলা টিপে এবং রড ও হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে আতাউরকে হত্যা করা হয়। পরে তাঁর অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যায় হত্যাকারীরা। ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পিবিআইয়ের প্রধান অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মো. মোস্তফা কামালের দিকনির্দেশনায় এবং গাজীপুর জেলা পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার রকিবুল আক্তারের তত্ত্বাবধানে বিশেষ তদন্ত দল কাজ শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত দুইজনকে শনাক্ত করা হয়।

এর ধারাবাহিকতায় গত ২১ আগস্ট রাতে কাপাসিয়ার চালাবাজার ও নরোত্তমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাজ্জাক খানের ছেলে রাজীব খান (২৯) এবং নাসির উদ্দিনের ছেলে নকিবুল হাসান ওরফে রাকিবকে গ্রেপ্তার করা হয়। পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তারের পর আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নরসিংদীর মনোহরদী এলাকা থেকে আতাউরের লুণ্ঠিত অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া চোরাই মাল কেনার অভিযোগে মো. কিবরিয়া নামে এক দোকানদারকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামিদের আদালতে হাজির করা হলে তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। জবানবন্দিতে তাঁরা জানান, ঋণের দায়ে জর্জরিত হয়ে অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেছিলেন তাঁরা। নকিবুল নিহত আতাউরের দূরসম্পর্কের আত্মীয় হওয়ায় তাঁকে সহজেই লক্ষ্য করা হয়।

ঘটনার দিন কৌশলে আতাউরকে নির্জন স্থানে ডেকে নেওয়া হয়। পরে রড, হাতুড়ি ও রশি দিয়ে তাকে হত্যা করে অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যান তাঁরা। এরপর অটোরিকশাটি ধুয়ে-মুছে পরিষ্কার করে মাত্র ৪২ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেওয়া হয়। পুলিশ আসামিদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত এবং অটোরিকশা বিক্রির ২২ হাজার টাকা নগদ উদ্ধার করেছে।

গাজীপুর জেলা পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার বলেন, একজন নিরীহ চালককে হত্যার পর তার মায়েরও মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। অপরাধীরা নির্জন স্থানে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পার পেয়ে যাবে বলে মনে করেছিল। কিন্তু পিবিআইয়ের পেশাদার তদন্ত ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে দ্রুততম সময়ে তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত