
মাঠজুড়ে শুধু পাট আর পাট। সোনালি পাট কাটতে, জাগ দিতে ও আঁশ ছাড়াতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। পাটের চাহিদা বেশি ও লাভজনক হওয়ায় চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় হোসেনপুরে ফলনও বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষি বিভাগের মতে, এ বছর উপজেলায় ৪ হাজার ৭০০ টন পাট উৎপাদন হয়েছে। কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ও প্রত্যন্ত চরাঞ্চলের জমিতে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি সোনালি আঁশ পাটের আবাদ হয়েছে। দেশে সার, বীজ ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক খরচ কম থাকায় সোনালি আঁশের ফলন অধিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের হাটবাজারে পাটের দাম বেশি ও কম খরচে পাটের অধিক ফলন হওয়ায় সোনালি আঁশের সুদিন ফিরে আসবে বলে মনে করেন স্থানীয় পাটচাষিরা।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় বিভিন্ন গ্রাম ও চরাঞ্চলের সমতল ও অসমতল জমিতে এ বছর পাটের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ২ হাজার ৩৪০ হেক্টর জমিতে। তবে এ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে পাট চাষের আবাদ হয়েছে। তন্মধ্যে দেশীয় পাট ২ হাজার হেক্টর, তোষা জাত ৩ শত হেক্টর ও অন্যান্য জাতের ৪০ হেক্টর পাট রয়েছে। রং ও মসৃণতা বুঝে ভালো পাট প্রতি মণ এসব হাটে ৩ হাজার ৬০০ থেকে ৩ হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এসব হাটে নিম্নমানের পাট ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। তবে পাটের দাম নিয়ে অখুশি নন চাষিরা। গত বছর যেখানে মানভেদে পাটের দাম প্রতি মণ ছিল ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৯০০ টাকা, এবার তা বেড়ে ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৯০০ টাকায় উঠেছে। ফলে মণপ্রতি ১ হাজার ৩০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত লাভ পাচ্ছেন কৃষকরা।
কৃষকরা বলছেন, উৎপাদন খরচও বেড়েছে। শুধু শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির কারণেই মণপ্রতি খরচ বেড়েছে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। আগে যেখানে প্রতি মণ পাট উৎপাদনে খরচ হতো প্রায় ২ হাজার ৩০০ টাকা, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ টাকায়। হোসেনপুর বাজারের ব্যবসায়ী খোকন মেম্বার জানান, গত সপ্তাহে মণপ্রতি দাম ছিল ৩ হাজার ৬০০ টাকা, এবার তা কিছুটা বেড়ে ৩ হাজার ৭০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকায় এসেছে। তবে এখনও কৃষকেরা ভালো দামে পাট বিক্রি করতে পারছেন।’ তবে অনেক কৃষকের মধ্যে আশঙ্কা আছে, সরবরাহ বাড়লে দাম পড়ে যেতে পারে। উপজেলার জিনারী ইউনিয়নের গ্রামের পাটচাষি সাইফুল ইসলাম, সিদলা ইউনিয়নের সাহেবের চর গ্রামের পাটচাষি মফিজ উদ্দিন, চর বিশ্বনাথপুর গ্রামের হেলাল উদ্দিনসহ অনেকেই জানান, অন্যান্য কৃষি ফসলের তুলনায় পাটের আবাদে খরচ কম হয়, পাটের বাজারদামও বেশি। পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। পাটের এমন বাজারদাম বজায় থাকলে ভবিষ্যতে ব্যাপক হারে পাট চাষ হবে বলে জানান তারা।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শেখ মোহাম্মদ মহসিন বলেন, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে উপজেলায় আমাদের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি পাটের আবাদ হয়েছে এবং ফলনও হয়েছে ব্যাপক। এ বছর পাটের দাম সন্তোষজনক অবস্থায় বিরাজ করায় উপজেলায় পাটের সুদিন ফিরে আসবে বলেও জানান তিনি।