
কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আমন ধানখেতে ইঁদুরের ব্যাপক আক্রমণে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। সোনালী ধানের শীষ যখন ঘরে তোলার সময়, ঠিক তখনই ইঁদুরের তান্ডবে দিশাহারা হয়ে পড়েছেন তারা।
ফলন ভালো হওয়ার আশা থাকলেও ইঁদুরের উপদ্রবে ক্ষেত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় কৃষকদের মাথায় হাত পড়েছে। উপজেলার মেহার গ্রামের কৃষক হুমায়ুন কবির জানান, অনেক টাকা খরচ ও পরিশ্রম করে তিনি আমন ধানের চাষ করেছিলেন। ধানের গাছও বেশ ভালো হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই খেতে ইঁদুরের আক্রমণ শুরু হয় এবং ক্ষেতটি প্রায় শেষের পথে। রাতের আঁধারে ইঁদুরগুলো ক্ষেতে ঢুকে তাজা ধান গাছ কেটে সাবাড় করে দিচ্ছে। কৃষকরা নিজেদের উদ্যোগে ইঁদুর নিধনের নানা চেষ্টা চালালেও কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাচ্ছেন না।
ইঁদুর দমনে একেক কৃষকের কৌশল একেক রকম। আরেক কৃষক মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, তিনি ধানখেতে ইঁদুর মারার খাঁচা পেতে অভিনব কায়দায় এ পর্যন্ত ১১০টি ইঁদুর মেরেছেন। তবে অন্য কৃষকদের অভিজ্ঞতা কিছুটা ভিন্ন। কৃষক হুমায়ুন কবির বলেন, খাঁচায় টোপ হিসেবে কলা বা অন্য খাবার দিয়ে ক্ষেতে পাতলে ইঁদুরগুলো অত্যন্ত কৌশলী উপায়ে খাবার খেয়ে চলে যায়। মাঝে মধ্যে দুই-একটি ধরা পড়লেও আকার বেশ বড়। এছাড়া ইঁদুর অনেক সময় তাদের শক্ত দাঁত দিয়ে খাঁচা কেটে অথবা আস্ত খাঁচা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে বলেও জানান তিনি। এদিকে ফসলের এই ব্যাপক ক্ষতি থেকে কৃষকদের রক্ষায় উপজেলা কৃষি অফিস থেকে ইঁদুর নিধনের বিভিন্ন আধুনিক ও কার্যকরী কৌশল বাতলে দেওয়া হচ্ছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী সঠিক পদ্ধতি ও যৌথভাবে ইঁদুর দমন করা না গেলে চলতি মৌসুমে আমন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। দ্রুত সরকারি সহযোগিতায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।