ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

বৃষ্টি কম হওয়া সত্ত্বেও চট্টগ্রামে আমনের বাম্পার ফলনের আশা কৃষকদের

বৃষ্টি কম হওয়া সত্ত্বেও চট্টগ্রামে আমনের বাম্পার ফলনের আশা কৃষকদের

স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টিপাত সত্ত্বেও চলতি মৌসুমে চট্টগ্রাম অঞ্চলে আমন ধানের বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। এতে এ অঞ্চলে ভালো উৎপাদনের সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক আপ্রু মারমা বলেন, আমন ক্ষেতের সার্বিক অবস্থা সন্তোষজনক। এবার বাম্পার ফলনের জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, বৃষ্টি স্বাভাবিকের চেয়ে কম হলেও সরকারি বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থার সহায়তায় কৃষকরা প্রয়োজনমতো ক্ষেতে সেচ দিতে পেরেছেন। এছাড়া মৌসুমজুড়ে থেমে থেমে হওয়া বৃষ্টিও ধানের চারা ভালোভাবে বেড়ে উঠতে সহায়তা করেছে।

আপ্রু মারমা বলেন, বর্তমানে মাটিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা আছে, যা আমন গাছের বৃদ্ধিতে সহায়ক হচ্ছে। ক্ষেতের বর্তমান অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, ফসল কাটার আগে আর বৃষ্টি না হলেও এবার বাম্পার ফলন হবে। তিনি আরও বলেন, সময়মতো বৃষ্টি হলে ফলন আরও বাড়বে। বৃষ্টি না হলেও উঁচু জমিতে দেরিতে রোপণ করা আমন ক্ষেতে এক-দুই দফা সেচ দিতে পারলে একই ফল পাওয়া যাবে।

জেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফ আহমেদ চৌধুরী বলেন, চলতি মৌসুমে চট্টগ্রাম অঞ্চলে ১ লাখ ৭৯ হাজার ৭৮০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের মাধ্যমে ৫ লাখ ৫৩ হাজার ১৩৯ টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। ধানের হিসাবে এ লক্ষ্যমাত্রা ৮ লাখ ২৯ হাজার ৭৮০ টন। তিনি জানান, মৌসুমের শুরুতে পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় পানির সংকটসহ নানা চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছিল। তারপরও কৃষকরা এক লাখ ৭৯ হাজার ৭৮০ হেক্টর জমিতে আমন চাষ করেছেন, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৪০ হেক্টর বেশি। এ মৌসুমে ১ লাখ ১৩ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে স্বল্পমেয়াদি জাতের আমন চাষ হয়েছে। এসব জাতের ধান কাটা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভালো ফলনের পাশাপাশি নতুন আমন ধানের ভালো বাজারমূল্যও গ্রামের কৃষকদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।

আপ্রু মারমা বলেন, সফলভাবে আমন চাষ নিশ্চিত করতে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দিচ্ছেন। তিনি জানান, এ মৌসুমে কৃষকরা জৈব সার ব্যবহারের পাশাপাশি পোকা দমনে পার্চিং ও আলোর ফাঁদের মতো পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন। এতে ফসল সুরক্ষা ও ভালো ফলন নিশ্চিত হচ্ছে।

সম্প্রতি চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকার আমন ক্ষেত পরিদর্শনের কথা উল্লেখ করে আপ্রু মারমা বলেন, ফসলের সার্বিক অবস্থা তিনি সন্তোষজনক পেয়েছেন। আগামী মাস থেকে পুরোদমে ধান কাটা শুরু হলে কৃষকরা এবার বাম্পার ফলন পাবেন বলে তিনি আশাবাদী। তিনি বলেন, পাকা, আধাপাকা ও বেড়ে ওঠা আমন ধানে ভরা বিস্তীর্ণ মাঠ এখন গ্রামবাংলার প্রকৃতিতে নয়নাভিরাম দৃশ্যের সৃষ্টি করেছে। চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার কৃষক নজরুল ইসলাম, জাবের মিয়া, মো. ইসমাইল ও আবদুর রহিম জানান, স্বল্পমেয়াদি জাতের আমনে তারা ভালো ফলনের আশা করছেন।

পটিয়া উপজেলার পূর্ব রতনপুর গ্রামের কৃষক আবু তাহের বলেন, তিনি আগামী মাসে ধান কাটা শুরু করবেন। এ মৌসুমে তাদের এলাকার কৃষকরা প্রতি একরে ৫০ থেকে ৫৫ মণ ধান পাওয়ার আশা করছেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত