প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ২৭ এপ্রিল, ২০২৬
বাংলাদেশ আজ এক জটিল বাস্তবতার মুখোমুখি যেখানে তাপদাহ, জ্বালানি সংকট এবং বিদ্যুৎ ঘাটতি মিলেমিশে এক বহুমাত্রিক জাতীয় চ্যালেঞ্জে রূপ নিয়েছে। গ্রীষ্মের তীব্রতা শুধু প্রকৃতির বৈরিতার ইঙ্গিত নয়; এটি আমাদের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতা, বৈশ্বিক নির্ভরতার ঝুঁকি এবং অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত দুর্বলতার প্রতিফলন। দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে একই চিত্র লোডশেডিংয়ের দীর্ঘসূত্রতা জনজীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলছে, কৃষি থেকে শিল্প, শিক্ষা থেকে ব্যবসা প্রতিটি খাতে এর প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন শুধু সংকটের নয়, বরং এর কার্যকর ও টেকসই সমাধানের পথ খুঁজে বের করার। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থার বাস্তব চিত্র, জ্বালানি ঘাটতির কারণ, তাপপ্রবাহের দীর্ঘায়ন এবং এর বহুমুখী প্রভাব বিশ্লেষণের পাশাপাশি এই আলোচনায় উঠে এসেছে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ, নীতিনির্ধারণের চ্যালেঞ্জ এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার দিকনির্দেশনা। একই সঙ্গে একজন সচেতন নাগরিক ও বর্তমান সরকারের প্রতি আস্থাশীল দৃষ্টিকোণ থেকে এখানে প্রতিফলিত হয়েছে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা যে প্রত্যাশা শুধু সংকট উত্তরণের নয়, বরং একটি স্থিতিশীল, টেকসই ও জনবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থার প্রতিষ্ঠার।
বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে এখন সবচেয়ে বড় বাস্তবতা হলো চাহিদা ও সরবরাহের স্পষ্ট ফারাক। চলমান তাপদাহে সর্বোচ্চ চাহিদা ১৭৫০০ থেকে ১৮৫০০ মেগাওয়াটের ঘরে ওঠানামা করছে, অথচ কার্যকর উৎপাদন প্রায়শই ১৪০০০-১৫৫০০ মেগাওয়াটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে। স্থাপিত উৎপাদন সক্ষমতা ২৬ হাজার মেগাওয়াট ছাড়ালেও জ্বালানি সংকট, রক্ষণাবেক্ষণ সীমাবদ্ধতা এবং আর্থিক জটিলতার কারণে এর বড় অংশ ব্যবহারযোগ্য নয়। ফলে গড়ে ২০০০-৩০০০ মেগাওয়াট ঘাটতি লোডশেডিংকে প্রায় অনিবার্য বাস্তবতায় পরিণত করেছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের মূল চালিকাশক্তি জ্বালানি সরবরাহই এখন সবচেয়ে বড় সংকটের জায়গা। দেশে প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন দৈনিক প্রায় ২৩০০-২৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটে সীমাবদ্ধ, যেখানে চাহিদা ৩৫০০ মিলিয়ন ঘনফুটেরও বেশি। এলএনজি আমদানি বাড়ানো হলেও বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে দামের অস্থিরতা সরবরাহকে অনিশ্চিত করে তুলেছে। কয়লা আমদানিনির্ভর বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোও বৈশ্বিক বাজারের মূল্য ওঠানামা ও ডলার সংকটে পূর্ণ সক্ষমতায় চলতে পারছে না। তেলের ওপর নির্ভরশীল কেন্দ্রগুলো চালাতে উচ্চ ব্যয় সরকারকে ভর্তুকির চাপে ফেলছে।
দেশে বিদ্যুৎকেন্দ্রের সংখ্যা ১৩০-১৪০টির মধ্যে হলেও বাস্তবে সব কেন্দ্র সমানভাবে কার্যকর নয়। প্রায় ১৫-২০টি কেন্দ্র সম্পূর্ণ বন্ধ এবং আরও ৩০টির বেশি কেন্দ্র আংশিক সক্ষমতায় চলছে। অনেক ক্ষেত্রে জ্বালানির অভাব, আবার কোথাও রক্ষণাবেক্ষণ বিলম্ব বা প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। ফলে কাগজে-কলমে উচ্চ সক্ষমতা থাকলেও বাস্তবে তা পূর্ণমাত্রায় কাজে লাগানো যাচ্ছে না, যা খাতটির কাঠামোগত দুর্বলতার প্রতিফলন।
বাংলাদেশে তাপপ্রবাহের প্রকৃতি গত এক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বদলেছে। আগে এপ্রিল-মে মাসে সীমাবদ্ধ থাকা তীব্র গরম এখন জুন পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হচ্ছে। আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মৌসুমজুড়ে ৬-৮টি তাপপ্রবাহ, যার মধ্যে কয়েকটি তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। উচ্চ তাপমাত্রায় বিদ্যুতের চাহিদা ১০-১৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাচ্ছে, বিশেষ করে শহরাঞ্চলে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে। এই অতিরিক্ত চাপ বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনাকে আরও কঠিন করে তুলছে।
এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সময় ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট শিক্ষার্থীদের জন্য বড় ধরনের মানসিক ও একাডেমিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। অনলাইন রিসোর্স ব্যবহার ব্যাহত হচ্ছে, রাতের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে এবং দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিং মনোযোগ ও প্রস্তুতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এই পরিস্থিতি একটি প্রজন্মের শিক্ষাগত ধারাবাহিকতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশের কৃষি খাত এখন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিনির্ভর সেচব্যবস্থার ওপর দাঁড়িয়ে। দেশে প্রায় ১৫ লাখের বেশি সেচ পাম্প রয়েছে, যার বড় অংশই বিদ্যুৎ বা ডিজেলচালিত। বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি সেচ কার্যক্রম ব্যাহত করছে, ফলে বোরো ও অন্যান্য ফসলের উৎপাদনে ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। উৎপাদন ব্যাহত হলে খাদ্য সরবরাহে চাপ বাড়বে এবং মূল্যস্ফীতি আরও ত্বরান্বিত হতে পারে।
দেশের রপ্তানিমুখী শিল্প বিশেষ করে তৈরি পোশাক, টেক্সটাইল, ওষুধ ও চামড়া খাত বিদ্যুৎ সংকটে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় ডেলিভারি সময়সীমা রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। অনেক কারখানা বিকল্প হিসেবে ডিজেলচালিত জেনারেটরের ওপর নির্ভর করছে, যার ফলে উৎপাদন ব্যয় ২০-৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাচ্ছে। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিদ্যুৎ সংকট ব্যবসায়িক পরিবেশে এক ধরনের অনিশ্চয়তার ছায়া ফেলেছে। উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, সরবরাহে বিলম্ব এবং বাজারে পণ্যের ঘাটতি- সব মিলিয়ে ব্যবসায়ীরা এখন দ্বিধায় পড়েছেন। বিশেষ করে উৎসবমুখর মৌসুমেও প্রত্যাশিত বাণিজ্যিক গতি অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে না, যা অর্থনীতির সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিকে প্রভাবিত করতে পারে।
স্বাধীন বিদ্যুৎ উৎপাদকদের (IPP) বকেয়া বিল পরিশোধে বিলম্ব একটি বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (BPDB) ওপর ভর্তুকির চাপ ও বৈদেশিক মুদ্রা সংকট এই বিল পরিশোধকে ধীর করে দিয়েছে। ফলে উৎপাদকদের মধ্যে আর্থিক অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটাতে পারে।
বাংলাদেশ বর্তমানে ভারতসহ বিভিন্ন উৎস থেকে প্রায় ১০০০-১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করে। পাশাপাশি এলএনজি ও কয়লা আমদানির ওপর নির্ভরতা ক্রমেই বাড়ছে। কিন্তু বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়া এবং বৈশ্বিক বাজারের অস্থিরতা এই নির্ভরতাকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে। সময়মতো অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়, যা জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য একটি কৌশলগত চ্যালেঞ্জ।
লোডশেডিংয়ের প্রভাব এখন ডিজিটাল খাতেও স্পষ্ট। দেশে প্রায় দুই লাখের বেশি টেলিকম টাওয়ার রয়েছে, যেগুলো সচল রাখতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রয়োজন। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় এসব টাওয়ার ডিজেলচালিত ব্যাকআপের ওপর নির্ভর করে, ফলে পরিচালন ব্যয় বেড়ে যায়। দীর্ঘমেয়াদে এটি ইন্টারনেট সেবার মান ও স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, যা ডিজিটাল অর্থনীতির অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতে সক্ষম।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার এরইমধ্যে একাধিক তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিয়েছে অফিস সময় পুনর্নির্ধারণ, শপিং মল ও বাণিজ্যিক স্থাপনার সময়সীমা সীমিতকরণ, এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা। এসব উদ্যোগ চাহিদা নিয়ন্ত্রণে কিছুটা কার্যকর হলেও বাস্তবতা স্পষ্ট করে সংকটের গভীরতা সামাল দিতে এগুলো যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন এমন কাঠামোগত সংস্কার, যা সরবরাহ ব্যবস্থাকে দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য করে তুলতে পারে।
বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান সংকট শুধু প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতা নয়; এটি নীতিনির্ধারণে রাজনৈতিক দায়িত্ববোধেরও এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সময়োপযোগী ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এখন অপরিহার্য। পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মধ্যকার ব্যবধান কমিয়ে আনা, সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং জবাবদিহিমূলক কাঠামো গড়ে তোলাই হতে পারে আস্থার পুনর্গঠনের মূল চাবিকাঠি।
এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য প্রয়োজন সমন্বিত ও বহুমাত্রিক কৌশল। জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য আনয়ন বিশেষত তরল জ্বালানি ও আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার করা, দেশীয় কয়লা সম্পদের সম্ভাবনা মূল্যায়ন এবং সৌর ও বায়ুশক্তির মতো নবায়নযোগ্য উৎসের দ্রুত সম্প্রসারণ সময়ের দাবি। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ খাতে দক্ষতা বৃদ্ধি, সঞ্চালন ও বিতরণ ক্ষতি (system loss) কমিয়ে বর্তমানে গড়ে ৮-৯ শতাংশ থেকে আরও নিচে নামানো, এবং আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমান সরকার বিদ্যুৎ সংকটকে একটি সাময়িক সমস্যা হিসেবে না দেখে জাতীয় অগ্রাধিকারের প্রশ্নে পরিণত করেছে যার প্রতিফলন সাম্প্রতিক বিভিন্ন পদক্ষেপে দৃশ্যমান। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে নতুন চুক্তি, কয়লা আমদানির পরিমাণ বৃদ্ধি এবং এলএনজি আমদানির সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পুনরায় সচল করতে সরবরাহ বাড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নাধীন, যেখানে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ ধীরে ধীরে ১০০০ মিলিয়ন ঘনফুটের কাছাকাছি নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে বন্ধ বা অচল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর দ্রুত মেরামত ও পুনরায় উৎপাদনে ফিরিয়ে আনার কাজ এগিয়ে চলছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বয়ে লোড ম্যানেজমেন্টকে আরও কার্যকর করা হয়েছে, যাতে সীমিত উৎপাদনের মধ্যেও সর্বোচ্চ সংখ্যক গ্রাহককে সেবা দেওয়া সম্ভব হয়।
সরকার এরইমধ্যে নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে জোরালো নজর দিয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের সম্প্রসারণ, ছাদভিত্তিক সোলার নেট-মিটারিং ব্যবস্থা এবং শিল্পাঞ্চলে বিকল্প জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ একটি টেকসই জ্বালানি ভবিষ্যতের ভিত্তি তৈরি করছে। দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলএনজি টার্মিনাল সম্প্রসারণ, আঞ্চলিক বিদ্যুৎ বাণিজ্য এবং আন্তঃদেশীয় গ্রিড সংযোগের মতো পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে।
বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সংকট মোকাবিলা নিঃসন্দেহে কঠিন; তবু ধারাবাহিক উদ্যোগে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত স্পষ্ট হচ্ছে। উৎপাদন বাড়ানো, বিকল্প উৎসের সন্ধান এবং ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনয়নের এই প্রচেষ্টা সংকট উত্তরণের পথকে সুদৃঢ় করছে। যদি এই পরিকল্পনাগুলো ধারাবাহিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে বাস্তবায়িত হয়, তবে অদূর ভবিষ্যতেই বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ার বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হবে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে এগিয়ে যাবে একটি টেকসই, নির্ভরযোগ্য ও আধুনিক জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে যেখানে সংকট নয়, স্থিতিশীলতাই হবে উন্নয়নের মূল ভিত্তি।
পরিশেষে, বর্তমান বৈশ্বিক সংকটের ঘনঘটায় যখন অনেক দেশই দিশাহারা, তখন দেশনায়ক তারেক রহমান এর দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশের সরকার এক ভিন্ন উচ্চতায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করছে। সংকটকে শুধুই চ্যালেঞ্জ হিসেবে না দেখে তিনি তা রূপান্তর করছেন সম্ভাবনার নতুন দিগন্তে যেখানে পরিকল্পনা শুধু কাগজে সীমাবদ্ধ নয়, বাস্তবতায় তার প্রতিফলন স্পষ্ট। জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে সরকারের ধারাবাহিক পদক্ষেপ আজ এক সুসংগঠিত রূপ নিচ্ছে। উৎপাদন বৃদ্ধি, নবায়নযোগ্য শক্তির প্রসার এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যে সাহসী রূপরেখা গ্রহণ করা হয়েছে, তা শুধু সময়োপযোগীই নয় এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক স্থিতিশীল ভিত্তি নির্মাণের অঙ্গীকার।
এই নেতৃত্বের বৈশিষ্ট্যই হলো সংকটের গভীরতা বুঝে সুনির্দিষ্ট সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়া। আজকের এই তাপদাহ, লোডশেডিং ও জনভোগান্তির মধ্যেও মানুষের মনে যে আশার আলো জ্বলছে, তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এই নেতৃত্বের প্রতি অটল আস্থা। কারণ মানুষ বিশ্বাস করতে শিখেছে এই সরকার প্রতিশ্রুতি দেয় শুধু নয়, তা বাস্তবায়নের সক্ষমতাও রাখে। প্রশাসনিক গতিশীলতা, রাজনৈতিক দৃঢ়তা এবং বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনার সমন্বয়ে একটি নতুন বাংলাদেশের রূপরেখা ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে উঠছে। লোডশেডিংমুক্ত, টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থায় সমৃদ্ধ একটি বাংলাদেশ এখন আর শুধু স্বপ্ন নয়; এটি হয়ে উঠছে এক অবধারিত বাস্তবতা। আর এই পথচলার অগ্রনায়ক হিসেবে তারেক রহমানের নেতৃত্ব আজ দেশের মানুষের কাছে শুধু আশার প্রতীক নয়, বরং আস্থার এক দৃঢ় স্তম্ভ।
জুবাইয়া বিন্তে কবির
অর্থনীতিবিদ, গবেষক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট