প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষা শুধু রাষ্ট্র বা কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়; এটি প্রত্যেক নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতি, পরিবেশ ও প্রাণিকুলের প্রতি মমত্ববোধ গড়ে তোলা গেলে ভবিষ্যতে একটি মানবিক ও দায়িত্বশীল সমাজ নির্মাণ সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রাণীকে আঘাত না করে তাদের প্রতি মমত্ববোধ দেখানোর যে আহ্বান জানিয়েছেন, তা এ কারণেই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
মানুষ প্রকৃতির বাইরে নয়; বরং প্রকৃতিরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। গাছপালা, পাখি, পশু ও অন্যান্য প্রাণীর অস্তিত্বের সঙ্গে মানুষের জীবন ও পরিবেশের ভারসাম্য গভীরভাবে যুক্ত। অথচ নগরায়ণ, বন উজাড়, দূষণ ও মানুষের অসচেতন আচরণের কারণে বহু প্রাণী আজ আবাসস্থল হারাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বিনোদন কিংবা কৌতূহলের বশে প্রাণীকে নির্যাতনও করা হয়। এ প্রবণতা বন্ধ করতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি প্রয়োজন মানবিক মূল্যবোধ ও সচেতনতা।
শিক্ষার্থীদের বেশি করে গাছ লাগানো, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং দূষণমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বানও সময়োপযোগী। পরিবেশবান্ধব আচরণ কোনো একদিনের কর্মসূচি নয়; এটি দৈনন্দিন জীবনের অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। একটি গাছ রোপণ, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলা কিংবা অসহায় প্রাণীকে সাহায্য করার মতো ছোট ছোট উদ্যোগই বড় পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করতে পারে।
একই সঙ্গে পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রশংসনীয়। গান, কবিতা, চিত্রাঙ্কন, বাদ্যযন্ত্র ও ক্বিরাত চর্চার মতো কার্যক্রম যেমন সৃজনশীলতা বাড়ায়, তেমনি খেলাধুলা শৃঙ্খলা, আত্মবিশ্বাস, মনোযোগ ও দলগত চেতনা গড়ে তোলে। একটি শিক্ষার্থীর পূর্ণাঙ্গ বিকাশের জন্য এসবের সমন্বয় অপরিহার্য।
জাতীয় সংসদ ভবনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ তাই নিছক সৌজন্য সাক্ষাৎ নয়; এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে দায়িত্বশীল নাগরিক হওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা, প্রাণীর প্রতি সহমর্মিতা এবং সমাজের প্রতি দায়িত্ববোধ— এ মূল্যবোধগুলো শিক্ষার্থীদের জীবনের অংশ হয়ে উঠুক। তাহলেই উন্নয়ন হবে শুধু অবকাঠামোর নয়, মানুষের মন ও মানবিকতারও।