প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ০৪ নভেম্বর, ২০২৬
আজান কেবলমাত্র সময়ের ঘোষনা নয়। আজান ইসলামের এক মহিমান্বিত আহ্বান। প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত মুয়াজ্জিনের আজানের সুমধুর ধ্বনি মুমিনের হৃদয়ে ঈমানের আলো জ্বালায়, আমলের প্রেরণা অনুপ্রেরণা জোগায় এবং কল্যাণের পথে আহ্বান জানায়। মসজিদের মিনার থেকে ভেসে আসা আজানের সুর শুধু নামাজের ডাক নয়; এটি মহান আল্লাহর একত্ববাদ, আল্লাহর সঙ্গে বান্দার মিরাজ, হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর রিসালাত এবং পরকালীন মুক্তির পয়গাম।
আজানের প্রতিটি বাক্যে গভীর অর্ন্তনিহিত তাৎপর্য নিহিত রয়েছে। আজানের শুরুতে 'আল্লাহু আকবার' উচ্চারণের মাধ্যমে আল্লাহ সর্বশ্রেষ্ঠ ঘোষণা করা হয়। অর্থাৎ আল্লাহতায়ালার বড়ত্ব ঘোষণা করা হয়। দুনিয়ার সব ব্যস্ততা, অহংকার ও মোহের ঊর্ধ্বে আল্লাহ তায়ালার অবস্থান। 'আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' মানুষকে তাওহিদের শিক্ষা দিয়ে থাকে। আর 'হাইয়া আলাস সালাহ' ও 'হাইয়া আলাল ফালাহ' মানুষকে নামাজ ও প্রকৃত সফলতার পথে আহ্বান জানায়। একটি পুরো প্যাকেজের মত। একের ভেতর তিন। আজানের আহ্বানে ঈমান, আমল ও কল্যাণ তিনটি এক সঙ্গে রয়েছে।
আজানের আহ্বান 'হাইয়া আলাস সালাহ' বলে মানুষকে নামাজের দিকে ডাকে। এখানে খানিকটা সময় দুনিয়ার ব্যস্ততা থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে প্রভূর সান্নিধ্যে কাটানোর আহ্বান জানানো হয়। আর 'হাইয়া আলাল ফালাহ' এর মাধ্যমে প্রকৃত সাফল্যের পথ ঘোষণা করা হয়। আজানের আহ্বান আমাদের শেখায়, জীবনের স্বার্থকতা কেবল অর্থ সম্পদ বিত্ত বৈভব কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠান প্রতিষ্ঠায় নয়; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন, সৎকর্ম সম্পাদন এবং মানুষের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করার মধ্যেই মানব জীবনের প্রকৃত সফলতা নিহিত রয়েছে।
আজানের শিক্ষা মসজিদের চার দেয়ালের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের পাশাপাশি সত্যবাদিতা, আমানতদারিতা, ন্যায়বিচার, মানবপ্রেম, দেশপ্রেম ও পরোপকারের মাধ্যমে জীবনে অতিবাহিত করতে হবে।
প্রতিবেশীর অধিকার রক্ষা, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, অন্যায় কাজ থেকে বিরত থাকা এবং পারস্পরিক সম্প্রীতি সৌহার্দ্য বজায় রাখাও ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আজানের ধ্বনি আমাদের কানে পৌঁছালেও তার শিক্ষা আমাদের জীবনে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয় না। অথচ আযানের প্রকৃত আহ্বান হলো আল্লাহর দিকে ফিরে আসা, আত্মশুদ্ধি অর্জন করা এবং মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করা।আমরা যদি আযানের মর্ম উপলব্ধি করে তা ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক জীবনে ধারণ করতে পারি, তবে আমাদের জীবন হবে আরও সুন্দর, শান্তিময় ও আল্লাহ তালার সন্তুষ্টিমুখী। আল্লাহ তায়ালা আজানের মর্ম বুঝার তাওফিক দান করুক। আমীন।
লেখক : প্রতিষ্ঠাতা— বাব-ই-ইয়াছিন
'গুলশানে ইয়াছিন মনজিল'
এলাহাবাদ, দেবিদ্ধার, কুমিল্লা