ঢাকা শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

১১ দলীয় জোটে স্বস্তি এ সপ্তাহে আসন চূড়ান্ত

১১ দলীয় জোটে স্বস্তি এ সপ্তাহে আসন চূড়ান্ত

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি আর এক মাস পাঁচদিন। নির্বাচন সামনে রেখে সংসদীয় আসন বণ্টন নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১-দলীয় জোটে কিছুটা মতানৈক্যের আভাস মিললেও শেষপর্যন্ত সব গুঞ্জন নাকচ করে ঐক্যে ফিরেছে দলগুলো। কোনো দলই আর এককভাবে ভোটে নামতে চাইছে না।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ততই উত্তেজনার পারদ বাড়ছে। আর সেই পারদে ১১ দলীয় জোট নিজ নিজ দলের আসন সংখ্যা বাড়াতে কিছুটা কৌশল অবলম্বন করে। আলোচনার একপর্যায়ে ১১ দলীয় জোটে ভাঙনের গুঞ্জন ছড়ালেও জোট নেতারা তা অস্বীকার করেছেন। পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছে নির্বাচন পর্যন্ত একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে জামায়াতে ইসলামীসহ জোটভুক্ত দলগুলো।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পর জামায়াত, অন্যান্য ইসলামী দল ও নতুন রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)র জোটবদ্ধ হয়েছে। নির্বাচন কেন্দ্র করে দলগুলোর রাজনৈতিক তৎপরতা বেড়েছে; অনেক ক্ষেত্রেই তা চোখে পড়ার মতো। দেশে পট পরিবর্তনের পর রাজনীতিতে তাদের গুরুত্বপূর্ণ একটা অবস্থান তৈরির সুযোগ এসেছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে চান ১১ দলীয় জোট। সেজন্য বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সামনের সারিতে নেতৃত্ব দেওয়া নেতাদের দ্বারা গঠিত এনসিপিকে জোটে ভিড়ানো হয়েছে।

জোটসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জামায়াত ইসলামী কমবেশি ১৮০টি আসন রাখার প্রস্তাব দেয়। শরিক দলগুলোর মধ্যে জামায়াতের পর ইসলামী আন্দোলনের সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়ার কথা। এরপর জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি)। জোট গঠনের প্রাথমিক ধাপে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনসহ মোট আটটি দল আসন ভাগাভাগির আলোচনায় ছিল। তবে মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময়ের এক দিন আগে ২৮ ডিসেম্বর, এনসিপি এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল অলি আহমদের নেতৃত্বাধীন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) জোটে যুক্ত হয়। একই রাতে আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি) যুক্ত হওয়ার খবর আসে। এতে শরিক দলের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১১টিতে।

সর্বশেষ প্রস্তাব অনুযায়ী, জামায়াত ইসলামী আন্দোলনকে ৪০টি, এনসিপিকে ৩০টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ১১টি, খেলাফত মজলিসকে তিনটি, এবি পার্টিকে তিনটি, এলডিপিকে দুটি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টিকে (জাগপা) তিনটি এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি (বিডিপি) দুটি আসন দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোটের শীর্ষপর্যায়ের নেতারা গত রোববার রাতে বৈঠকে বসেন। ওই বৈঠকে নিজেদের ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটে। বিশেষ করে নতুন করে তিনটি দল এনসিপি, এলডিপি ও এবি পার্টির প্রবেশের পর আসন বণ্টন নিয়ে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের বিরোধ অনেকটা প্রকাশ্যে আসে। আসন বণ্টনসহ নানান ইস্যুতে প্রকাশ্যে গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে ইসলামী আন্দোলন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমদ বলেন, আসন সমঝোতা নিয়ে জোটে থাকা দলগুলোর মধ্যে টানাপোড়েন, অসন্তোষ, ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়েছে। দ্রুতই আসন বিন্যাস পরিষ্কার করা হবে।

তবে চূড়ান্ত সমঝোতা না হওয়ায় মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিন ২৯ ডিসেম্বর জামায়াত ২৭৬টি আসনে প্রার্থী দেয়। ইসলামী আন্দোলন মনোনয়ন জমা দেয় ২৬৮টি আসনে। এ ছাড়া এনসিপি ৪৪টি, এবি পার্টি ৫৩টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ৯৪টি এবং খেলাফত মজলিস ৬৮টি আসনে প্রার্থী দেয়। সমঝোতার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, মনোনয়ন যাচাই শেষ হলে আমরা আবারও বসব। আমরা আশা করছি, এই সপ্তাহের মধ্যেই বিষয়টি চূড়ান্ত করে ঘোষণা দিতে পারব।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দীন আহমদ বলেন, আমরা একটি জোট হিসেবে নির্বাচন করছি। জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। জোট অটুট রাখতে প্রয়োজনে ছাড় দিতে আমরা প্রস্তুত।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম বলেন, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এখনও জোট ভাঙেনি। কেউ বহিষ্কৃত হয়নি, কেউ বেরিয়েও যায়নি। আমরা সবাইকে নিয়ে এগোতে চাই। তবে যদি কেউ এককভাবে ক্ষমতায় যাওয়ার চিন্তা করে, তাহলে সম্মিলিত পথচলা কঠিন হয়ে পড়বে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত