ঢাকা শুক্রবার, ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২৫ পৌষ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

মোস্তাফিজ ইস্যুতে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের নির্দেশ

মোস্তাফিজ ইস্যুতে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের নির্দেশ

তারকা পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ থেকে বাদ দেওয়ায় কড়া অবস্থান নিল বাংলাদেশ সরকার। আগামী ২৬ মার্চ শুরু হতে যাওয়া আইপিএলের সকল খেলা ও অনুষ্ঠান সম্প্রচার বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছে তথ্য মন্ত্রণালায়। গতকাল সোমবার মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সম্প্রচারমাধ্যমগুলোকে চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড আগামী ২৬ মার্চ থেকে অনুষ্ঠেয় ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ক্রিকেট খেলায় বাংলাদেশের তারকা খেলোয়াড় মোস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্স দল থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দৃষ্টিগোচর হয়েছে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের এই সিদ্ধান্তের কোনো যৌক্তিক কারণ জানা নেই। এমন সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জনগণকে ব্যথিত, মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ করেছে। এ অবস্থায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আইপিএলের সব খেলা এবং অনুষ্ঠান প্রচার বা সম্প্রচার বন্ধ রাখার জন্য অনুরোধ করা হলো।

এমন একটি নির্দেশ আসতে পারে, তা ধারণাই করা হচ্ছিল। কারণ, ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের উদ্যোগ নিতে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টাকে অনুরোধ করেছিলেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। আগের দিন গত শনিবার আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের এই অনুরোধের বিষয়ে গত রোববার তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান সাংবাদিকদের বলেছিলেন, আইনি ভিত্তি পর্যালোচনা করছেন, এটা কোন মাধ্যমে, কীভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে, সেই বিষয়টা দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তিনি এ-ও বলেছিলেন, এখানে একটি সিচুয়েশন তাঁর জন্য তৈরি করা হয়েছে। তাঁকে এ ব্যাপারে একটা ব্যবস্থা নিতে হবে। তাঁর চুপ করে বসে থাকার উপায় নেই।

তথ্য উপদেষ্টার এই বক্তব্যের এক দিন পরেই তথ্য মন্ত্রণালয় চিঠি দিয়ে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধ রাখার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিল। সবকিছুর সূত্রপাত মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে। গত কিছুদিন ধরেই ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে খবর উঠে আসছিল, বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংস নানা ঘটনার পর ভারতে ক্ষোভ দানা বাঁধছে। মোস্তাফিজের আইপিলে খেলতে দেওয়া নিয়েও নানা বিতর্ক চলছিল। সেসবের জের ধরেই গত শনিবার ভারতীয় বোর্ডের সচিব দেবাজিৎ সাইকিয়া জানান, বাংলাদেশের পেসারকে বাদ দিতে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে নির্দেশ দিয়েছেন তারা। এর পরপরই কলকাতা দল খেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়, ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে নেওয়া পেসারকে তারা ছেড়ে দিয়েছে। মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি বাংলাদেশে। শনিবার রাতেই ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল সামাজিক মাধ্যমে লিখেন, বিশ্বকাপ খেলতে বাংলাদেশ দলের ভারতে যাওয়া তিনি নিরাপদ মনে করছেন না। বাংলাদেশে আইপিএলের সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়ার উদ্যোগ নিতে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টাকে অনুরোধ করেছেন বলেও জানান তিনি। পরদিন আইসিসির কাছে চিঠি পাঠিয়ে বিসিবি জানায়, নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় আগামী মাসের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যাবে না তারা। বাংলাদেশের ম্যাচগুলো ভারতের বাইরে নেওয়ার অনুরোধ করা হয় সেই চিঠিতে। আইসিসির পক্ষ থেকে এখনও কোনো সাড়া পায়নি বিসিবি। এর মধ্যেই বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের এই নির্দেশনা এলো।

বাংলাদেশে আইপিএল দেখা বন্ধ, বিসিসিআইয়ের সাবেক কর্তার প্রতিক্রিয়া : টাইগার পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) ২০২৬ মৌসুমের সব ম্যাচের সম্প্রচার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। গতকাল সোমবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড কর্তৃক আগামী ২৬ মার্চ ২০২৬ থেকে অনুষ্ঠেয় ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ (আইপিএল) ক্রিকেট খেলায় বাংলাদেশের তারকা খেলোয়াড় মোস্তাফিজুর রহমানকে কলকাতা নাইট রাইডার্স দল থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দৃষ্টিগোচর হয়েছে। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের এহেন সিদ্ধান্তের কোনো যৌক্তিক কারণ জানা নেই এবং এমন সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জনগণকে ব্যথিত, মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ করেছে। এমতাবস্থায়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ (আইপিএল)-এর সব খেলা এবং অনুষ্ঠান প্রচার-সম্প্রচার বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে ও জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হলো। বাংলাদেশের এমন সিদ্ধান্ত ভারতীয় গণমাধ্যমে বেশ গুরুত্ব সহকারে প্রচার করা হচ্ছে। সম্প্রচার বন্ধ করা প্রসঙ্গে এবার প্রতিক্রিয়া জানালেন ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের বিসিসিআইয়ের এক সাবেক কর্মকর্তা। সংবাদ সংস্থা আইএএনএসকে তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রতিক্রিয়াকে স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন তারা।

বিসিসিআইয়ের সাবেক ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রত্যেক ক্রিয়ারই একটি প্রতিক্রিয়া থাকে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তাদের ক্ষমতার মধ্যেই যা করা সম্ভব, সেটাই করেছে। বিষয়টি তাদের ব্যথিত করেছে বলেই প্রতিক্রিয়া এসেছে। তবে এতে ভারত বা আইপিএলে তেমন বড় প্রভাব পড়বে বলে মনে করি না। কট্টর হিন্দুত্ববাদীদের আন্দোলনের মুখে মোস্তাফিজকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার পর বাংলাদেশে ব্যাপক তোলপাড় চলছে। এক জরুরি সভায় বসেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সেই সভা শেষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সঙ্গে যোগাযোগ করে বিসিবি। ভারতের ভেন্যুতে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়ে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো অন্যত্র সরানোর অনুরোধ জানানো হয়।

ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সসহ ভারতের একাধিক ভেন্যুতে বাংলাদেশের ম্যাচ নির্ধারিত ছিল। মোস্তাফিজ ইস্যু শুধু মাঠের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। ক্রীড়া ও কূটনৈতিক অঙ্গনেও এর প্রভাব পড়ছে। আইপিএলের সম্প্রচার স্থগিতের সিদ্ধান্তে দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্ক নতুন করে আলোচনায় এসেছে। আইসিসি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। তবে সামনের দিনগুলোতে বিশ্বকাপের সূচি ও ভেন্যু নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নিজেরাই বিব্রতকর পরিস্থিতি ডেকে এনেছি - কংগ্রেস নেতা : আইপিএল থেকে মোস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ায় ফের সরব হলেন কংগ্রেস নেতা শশী থারুর। আবারও বিসিসিআইয়ের দিকে আঙুল তাক করলেন ভারতের এই সাংসদ। মোস্তাফিজকে ছেড়ে দেওয়া নিয়ে কলকাতাকে বিসিসিআইয়ের নির্দেশের পর পাল্টা পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশও। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না আসার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে বিসিবি। তাদের ম্যাচ অন্যত্র সরিয়ে নিতে আইসিসিকে চিঠিও দেয় বিসিবি। এতে ‘অবাক’ হননি থারুর। কংগ্রেসের এই সাংসের মতে, ‘আমি মনে করি, বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্তটা একেবারেই নিন্দনীয়। এটি খেলাধুলার ক্ষেত্রে অযথা রাজনীতি ঢুকিয়ে দেওয়ার শামিল। এ বিষয়ে আমার একাধিক আপত্তি রয়েছে।’ বাংলাদেশে বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে ক্রিকেটকে মেশাতে চান না বলে আগেই স্পষ্ট করেছিলেন কংগ্রেস সাংসদ। এবার পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে ভারতে খেলতে রাজি নয় বাংলাদেশ বোর্ড। এই আবহে শশী থারুর বললেন, ‘এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। আমরা নিজেরাই নিজেদের ওপর এই বিব্রতকর পরিস্থিতি ডেকে এনেছি।’ প্রসঙ্গত, গত রোববার বিজ্ঞপ্তি দিয়ে নিজেদের অবস্থান পরিস্কার করেছে বিসিবি। সেখানে ভারতে ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়। একই সঙ্গে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ সরকারের পরামর্শ’ মেনেই ভারতে না খেলার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। এমন পরিস্থিতির পেছনে মূল কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্সকে (কেকেআর) বাংলাদেশি পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য বিসিসিআইয়ের নির্দেশ। ‘সাম্প্রতিক পরিস্থিতি’র কথা উল্লেখ করে বিসিসিআই এই সিদ্ধান্ত নেয়, যদিও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতার ‘কথিত’ অভিযোগই এই সিদ্ধান্তের পেছনে বড় কারণ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে থারুর বলেন, ‘এটি ক্রিকেটীয় দিক থেকেও কোনো অর্থ বহন করে না। বিসিসিআই নিজেই একটি নিবন্ধিত খেলোয়াড় তালিকা তৈরি করে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে দিয়েছে। যদি মোস্তাফিজ সেই তালিকায় থেকে থাকেন, তাহলে কেকেআরের দোষ কোথায়? বিসিসিআই নিজে যাকে যোগ্য খেলোয়াড় হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে, তাকেই পরে নিয়ে আপত্তি তোলা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক।’

বর্তমানে বিসিসিআইয়ের সঙ্গে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই বৈরী। রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কোনো দ্বিপক্ষীয় সিরিজ হয় না, এমনকি পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের আইপিএলেও খেলতে দেওয়া হয় না। তবে থারুর মনে করেন, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে একই দৃষ্টান্ত টানা ভয়ঙ্কর নজির তৈরি করবে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ পাকিস্তান নয়। বাংলাদেশ সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাস পাঠায়নি। দুই দেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এক নয়। কূটনৈতিক বাস্তবতা, আলোচনার স্তর- সবকিছুই আলাদা। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানকে এক পাল্লায় মাপা যায় না।’

বিসিসিআইয়ের সিদ্ধান্তে নৈতিক প্রশ্নও তুলেছেন শশী থারুর। তার প্রশ্ন, বাংলাদেশি হিন্দু ক্রিকেটার হলে কি একই আচরণ করা হতো? তিনি বলেন, ‘ধরা যাক, লিটন দাস বা সৌম্য সরকার—যারা বাংলাদেশ দলের হিন্দু ক্রিকেটার-এবার আইপিএল নিলামে বিক্রি হতেন, তাহলে কি তাদেরও বাদ দেওয়া হতো? যদি না হতো, তাহলে আমরা কী বার্তা দিচ্ছি? আমরা কি মুসলিম বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে, কিন্তু হিন্দু বাংলাদেশিদের বিরুদ্ধে নই?’ থারুর আরও বলেন, ‘এই খেলোয়াড় কখনো ঘৃণাত্মক বক্তব্য দেননি, কখনো ভারতের বিরুদ্ধে বা বাংলাদেশের হিন্দু সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে কথা বলেননি। তিনি শুধুই একজন ক্রীড়াবিদ। তাহলে এখানে শাস্তি পাচ্ছে কে?’ তিনি ক্ষোভের সঙ্গে যোগ করেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ক্ষোভের বোঝা কেন শুধু ক্রিকেটকেই বইতে হবে? বাংলাদেশে সঙ্গে ভারতের আরও বহুস্তরের সম্পর্ক রয়েছে- বাণিজ্য, কূটনীতি, সংস্কৃতি। কিন্তু সব চাপ এসে পড়ছে ক্রিকেটের ওপর।’ শশী থারুরের ভাষায়, ‘এই সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই ভেবে–চিন্তে নেওয়া হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের চাপে নেওয়া এক ধরনের প্রতিক্রিয়াশীল পদক্ষেপ। এটি আমাদের দেশ হিসেবে ছোট করে, আমাদের কূটনীতিকে ছোট করে, আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ছোট করে।’

সোহান জানালেন, ‘বিন্দাস’ আছেন মোস্তাফিজ : গেল দুই দিন ধরে বিশ্বজুড়ে আলোচনার শীর্ষে মোস্তাফিজুর রহমান। কেননা, আসন্ন আইপিএল স্কোয়াড থেকে বাংলাদেশের এই পেসারকে বাদ দিয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স। এরপরই আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের মাটিতে না খেলার দাবিতে আইসিসিকে চিঠি দিয়েছে বিসিবি। অবশ্য গতকাল বিপিএলে রংপুর রাইডার্সকে বল হাতে জিতিয়েছেন মোস্তাফিজ। পরে সংবাদ সম্মেলনে রংপুর অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান বলেছেন, ‘আমার কাছে মনে হয় মোস্তাফিজ বিশ্বমানের বোলার। সে এটা অনেক দিন ধরে প্রমাণ করে আসছে। এই বিশ্বাস সবার ওপর আছে। ওকে নিয়ে আর বলার কিছু নেই। সবাই সবসময় মুগ্ধ। ও বিন্দাস (আরামে) আছে। একইসাথে (কেকেআর ইস্যুতে) খারাপ লাগা থাকতেই পারে। সে যেটা ডিজার্ভ করে, আগেও আরও ডিজার্ভ করতো। তবে আমার কাছে মনে হয় সে ভালোই আছে।’ সোহান আরও বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত বিশ্বাস ছিল, মোস্তাফিজ আছে। আকিফ জাভেদও ভালো করেছে। শেষ বলে বাউন্ডারি হওয়াতে মোস্তাফিজের ওপর একটু চাপ বেশিই গিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সে তার সেরাটা দিতে পারে।’ সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে সোহান জানান, ‘সত্যি কথা বলতে, আমি সোশ্যাল মিডিয়া অত ফলো করি না। বাইরে কী হচ্ছে, খুব একটা বেশি জানি না। হ্যাঁ কথা হচ্ছিল। মোস্তাফিজের খারাপ লাগা থাকতে পারে। ও সবসময় স্বপ্ন দেখে বাংলাদেশের হয়ে সেরাটা দেওয়ার। আমার কাছে মনে হয় বিন্দাস আছে।’

কলকাতা চাইলেও মোস্তাফিজকে যেতে দেবে না বিসিবি : আইপিএল খেলার জন্য মোস্তাফিজুর রহমানকে দেওয়া অনাপত্তিপত্র প্রত্যাহার করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এছাড়া পুনরায় কলকাতা নাইট রাইডার্স চাইলেও মোস্তাফিজকে আর ছাড়বে না বিসিবি। বোর্ডের একজন পরিচালক এটা নিশ্চিত করেছেন। নিলাম থেকে মোস্তাফিজকে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে দলে ভেড়ায় কলকাতা নাইট রাইডার্স। যেটা বাংলাদেশি হিসেবে আইপিএলে সর্বোচ্চ দামে বিক্রির রেকর্ড। তবে গত শনিবার উগ্রপন্থিদের হুমকির মুখে বিসিসিআইয়ের নির্দেশে নিরাপত্তা ইস্যুতে মোস্তাফিজকে স্কোয়াড থেকে বাদ দেয় কলকাতা। এরপর বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের নিরাপত্তার বিষয়টি সামনে আসে। এরপর আজ জরুরি মিটিং করে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ভেন্যু পরিবর্তন করার জন্য আইসিসিকে চিঠি দেয় বিসিবি। একই সঙ্গে বোর্ড পরিচালকরা একমত হয়ে আইপিএলে মোস্তাফিজের অনাপত্তিপত্র প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেন। কলকাতা ফের আগ্রহ দেখালেও মোস্তাফিজকে কোনোভাবে আইপিএলে পাঠাবে না বিসিবি।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত