ঢাকা রোববার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

গণভোট ইস্যুতে সরকারকে কঠোর হুঁশিয়ারি ১১ দলীয় ঐক্যের

* গণভোটের রায়কে অবজ্ঞা করলে পরিণতি ভালো হবে না : এটিএম আজহার * ড. ইউনূসসহ সাবেক উপদেষ্টাদের রাজপথে নামার আহ্বান নাহিদের * গণভোটের রায় অমান্য করে স্বৈরাচারের পথে বিএনপি : মামুনুল হক
গণভোট ইস্যুতে সরকারকে কঠোর হুঁশিয়ারি ১১ দলীয় ঐক্যের

গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে সরকারি দলের অবস্থানের প্রতিবাদ এবং গণরায় অবিলম্বে বাস্তবায়নের দাবিতে সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় ঐক্য। গতকাল শনিবার বিকেলে জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম মসজিদের উত্তর গেটে বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে ঐক্যের নেতারা দাবি করেন, সংস্কার এবং গণভোটের রায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সরকার ফ্যাসিবাদ হয়ে উঠছে। এ সময় তারা হুঁশিয়ারি দেন, ফ্যাসিবাদ কায়েম করতে গেলে অতীত সরকারের মতো পরিণতি ভোগ করতে হবে বিএনপিকে। শনিবার দুপুরে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতা-কর্মীরা খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে জড়ো হতে থাকেন। এ সময় তাদের হাতে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন চাই’, ‘গণভোট মানতে হবে’- এমন নানা দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। নেতা-কর্মীরা গণভোটের পক্ষে ও সরকারের অবস্থানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

বাংলাদেশ জামায়াতের ইসলামীর নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় এ সময় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা বক্তব্য রাখেন। আজহারুল ইসলাম বলেন, আজকে আমি সংসদে গিয়েছি জুলাই বিপ্লবের কারণে। আজ আমি এখানে বক্তব্য দিচ্ছি জুলাই বিপ্লবের কারণে। জুলাই বিপ্লব আমাদের নতুন জীবন দান করেছে। সেই জুলাই বিপ্লবকে অস্বীকার করা মানে নতুন জীবনকে অস্বীকার করা। জুলাই বিপ্লব একদলকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে আরেক দলকে ক্ষমতায় বসানোর জন্য ছিল না। তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লব ছিল পুরোনো ব্যবস্থাকে ছুড়ে ফেলে নতুন ব্যবস্থা কায়েম করা। জুলাই বিপ্লব ছিল, একদল ব্যক্তির হাতে ক্ষমতাকে কুক্ষিগত না করে জনগণের ক্ষমতাকে জনগণের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া। আজকে গণভোটকে অস্বীকার করা মানে শুধু ৭০ ভাগ মানুষের রায়কে অস্বীকার করা নয়, ৭০ ভাগ মানুষের রায়কে অস্বীকার করার মধ্য দিয়ে আবার তারা সেই ফ্যাসিবাদী কায়দায় এক ব্যক্তির কাছে সব ক্ষমতা দিতে চায়। আমরা দীর্ঘ ১৬ বছরে এক ব্যক্তির শাসন দেখেছি। আমাদের হাজার হাজার ভাইকে জীবন দিতে হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমাদের আন্দোলন কোনো দলের বিরুদ্ধে নয়, আমাদের আন্দোলন সব সময় জনগণের পক্ষে। আমরা সব সময় জনগণের পাশে থাকি। আজকে একজন ব্যক্তির কাছে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার মাধ্যমে যদি আপনারা স্বপ্ন দেখেন আবার জোর করে আপনারা ক্ষমতায় থাকতে পারবেন, বোকার স্বর্গে বাস করছেন। মনে করেন কেয়ারটেকার সরকারের আন্দোলনের কথা। কেয়ারটেকার নাকি পাগল ছাগল ছাড়া কেউ বোঝে না। আপনারা অস্বীকার করলেন, আন্দোলন দমাবার চেষ্টা করলেন, শেষ পর্যন্ত মারলেন- এমনভাবে মারলেন কেয়ারটেকার হলো, আপনারা ক্ষমতায় আসতে পারলেন না। আজহার বলেন, জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান গ্রহণ করবেন না। আমাদের রাজপথে আসতে বাধ্য করবেন না। সময় থাকতে যদি দেশকে ভালোভাবে চালাতে চান তাহলে গণভোটের রায়কে মেনে নেন। জনগণ আপনাদেরকে ভালোবাসবে, শ্রদ্ধা করবে। আর যদি অবজ্ঞা করেন সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ার কারণে তবে তার পরিণতি ভালো হবে না।

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, বিএনপির হয়েছে সুবিধাবাদের রোগ। অন্তর্বর্তী সরকারের যে অধ্যাদেশগুলো ক্ষমতাকে দীর্ঘায়িত করে সেগুলো বিএনপির কাছে খুব পছন্দনীয় আর যে অধ্যাদেশগুলো জনগণের জন্য ভালো সেগুলো তাদের কাছে অপছন্দনীয়। বিএনপির এখন সুবিধাবাদের রোগ হয়েছে। বিএনপি সারা দেশে না এর পক্ষে ভোট চেয়েছে আর প্রকাশ্যে হ্যাঁ এর পক্ষে বাধ্য হয়ে ভোট চেয়েছে। এ দেশের জনরায়কে যদি হাইকোর্ট দেখান, এ দেশের জনগণ রাজপথে আপনাদেরকে মোকাবিলা করবে। জনগণের রায়ের প্রতি সন্মান রাখেন। নাহলে সংসদে এবং রাজপথে আমরা আপনাদের প্রতিহত করব ইনশাআল্লাহ।

এ সময় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, খেলাফত মজলিশের মহাসচিব ড. আহমাদ আব্দুল কাদের, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির নায়েবে আমির মোখলেসুর রহমান কাসেমী, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য ডা. ওমর ফারুক, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ ডেভলপমেন্ট পার্টির মহাসচিব নিজামুল হক নাঈম প্রমুখ।

ড. ইউনূসসহ সাবেক উপদেষ্টাদের রাজপথে নামার আহ্বান নাহিদের : অন্তর্বর্তী সরকারের করা নানা অধ্যাদেশ বিএনপি সরকার বাতিলের উদ্যোগ নেওয়ায় এর প্রতিবাদে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ অন্য সাবেক উপদেষ্টাদের রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আমি ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে রাজপথের বিক্ষোভে নামার আহ্বান জানাচ্ছি। অন্তর্বর্তী সরকারের যেসব উপদেষ্টা ছিলেন, গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, তাদের দায়িত্ব নিতে হবে। তারা যে এই অধ্যাদেশগুলো করেছিলেন, কেন করেছিলেন, এখন সেগুলো বাতিল করা হচ্ছে- এগুলো নিয়ে তাদের কথা বলতে হবে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে মুখ খুলতে হবে।’ সৌদি আরবে ওমরাহ করে গতকাল শনিবার দুপুরে দেশে ফিরে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নাহিদ ইসলাম এসব কথা বলেন। এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘তারা (উপদেষ্টারা) অধ্যাদেশ করে চলে গেছেন। ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে বিএনপিকে ক্ষমতা দিয়ে চলে গেছেন। এখন অধ্যাদেশগুলো বাতিল হবে, সংস্কার হবে না, তারা কথা বলবেন না, যার যার ক্যারিয়ারে ফিরে যাবেন, এটা হবে না। জনগণের কাঠগড়ায় তাদের দাঁড় করাতে হবে।’ ‘মানুষের রক্তের ওপর দিয়ে আমরা তাদের ক্ষমতা দিয়েছিলাম। তারা আমাদের নিরাশ করেছেন। কিন্তু যতটুকু অর্জন সে সময় হয়েছে, সেটুকু ধরে রাখার জন্য তাদের মাঠে নামতে হবে,’ যোগ করেন তিনি।

গণভোটের রায় অমান্য করে স্বৈরাচারের পথে বিএনপি- মামুনুল হক : গণভোটের রায় অমান্য করে বিএনপি স্বৈরাচারের পথে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। তিনি বলেন, যে সংবিধানের দোহাই দিয়ে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা আজীবন ক্ষমতায় থাকার চেষ্টা করেছিলেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ সুনির্দিষ্ট বিষয়ে সুস্পষ্ট রায় দেওয়ার পরও বিএনপি সেই সংবিধান সংস্কার করতে চায় না; বরং তারা এতে কিছু সংশোধনী এনে আরও ভয়ংকর স্বৈরাচারী রূপে আবির্ভূত হতে চায়। শনিবার দুপুরে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের মাসিক বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমেদের সভাপতিত্বে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

মাওলানা মামুনুল হক বলেন, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে বিএনপি গণভোটে নির্দিষ্ট বিষয়ে জনগণের সুস্পষ্ট রায় অমান্য করছে। পৃথিবীর কোনো সভ্য দেশে সরকার নিজ জনগণের সঙ্গে এমন দৃষ্টতা প্রদর্শন করেছে এমন নজির আমাদের জানা নেই। তিনি বলেন, বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অসংখ্য অধ্যাদেশ তারা এখন বাতিল ও সংশোধন করছে; অথচ এসব অধ্যাদেশ জারির সময় তারা কোনো বিরোধিতা করেনি। বরং ক্ষেত্রবিশেষে কিছু অধ্যাদেশকে স্বাগত জানিয়েছে এবং কিছু তাদের দাবির প্রেক্ষিতে জারি হয়েছিল।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত