ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রী

পাঁচ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত

* বিকল্প শ্রমবাজারের সন্ধানে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে * নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করে দিয়েছি * পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি শুরু হচ্ছে ১ জুলাই * প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সুদৃঢ় রাখতে আধুনিক হচ্ছে সশস্ত্র বাহিনী
পাঁচ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত

সরকার পাঁচ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল বুধবার সকালে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৪তম দিনের প্রশ্নোত্তরে তিনি এসব কথা বলেন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৪তম দিন বুধবার সকালের সেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। পাবনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার পাঁচ লাখ সরকারি কর্মচারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে শুধু জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং অধীন দফতর ও সংস্থাগুলোতে শূন্য পদের বিপরীতে ২ হাজার ৮৭৯ জন লোক নিয়োগের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সংসদ সদস্য মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষিত কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়নে সব মন্ত্রণালয় বা বিভাগ আগামী ১৮০ দিনের কর্মসূচির আলোকে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে এবং এগুলো বাস্তবায়নে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি আর্জিত হয়েছে।

বিকল্প শ্রমবাজারের সন্ধানে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে : ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক অস্থিরতার পরিপ্রেক্ষিতে বিকল্প নতুন শ্রমবাজারের সন্ধানে সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান। এ সময় তিনি বিদেশে বাংলাদেশ মিশনের সুপারিশ মোতাবেক প্রয়োজন অনুসারে দেশভিত্তিক স্থানীয় লবিস্ট বা বিশেষজ্ঞ ফার্ম নিয়োগ করাসহ সরকারের পরিকল্পনাগুলো তুলে ধরেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। নরসিংদী-৫ আসনের সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ইউরোপের বিভিন্ন দেশ, যেমন সার্বিয়া, গ্রিস, নর্থ মেসিডোনিয়া, রোমানিয়া, পর্তুগাল, ব্রাজিল, রাশিয়া ইত্যাদি নতুন দেশগুলোয় বিকল্প শ্রমবাজার সম্পসারণে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে কর্মী নিয়োগকারী বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করার লক্ষ্যে উচ্চপর্যায়ের সফরের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। থাইল্যান্ডে শ্রমবাজার খোলার বিষয়ে কর্মী নিয়োগসংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মালয়েশিয়া শ্রমবাজার উন্মুক্তকরণের জন্য কাজ চলছে। বিদেশে বাংলাদেশ মিশনের সুপারিশে প্রয়োজন অনুসারে দেশভিত্তিক স্থানীয় লবিস্ট বা বিশেষজ্ঞ ফার্ম নিয়োগ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোকে শ্রমবাজার অনুসন্ধান করে বাংলাদেশি কর্মীর পেশাভিত্তিক চাহিদা নিরূপণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জাপানে বাংলাদেশি কর্মীদের ব্যাপক চাহিদা থাকায় সে দেশে কর্মী পাঠানোর হার বাড়ানোর জন্য জাপানিজ ভাষা ও স্কিল ট্রেনিংয়ের পরিধি বাড়ানো হয়েছে। ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য নায়াব ইউসূফ আহমেদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার উন্মুক্তকরণের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ও উপদেষ্টা এ মাসের ৮-১১ তারিখ দেশটি সফর করেছেন। এর মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর পথ সুগম হবে। চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুম্মাম কাদের চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোয় মোট শিক্ষকের সংখ্যা ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮৯। এর মধ্যে ১ লাখ ৩০ হাজার শিক্ষককে ইংরেজি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১ জুলাই শুরু হতে যাওয়া পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় অবশিষ্ট শিক্ষকদের ইংরেজি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য নুরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার সমুদ্র অঞ্চল পরিকল্পনা কার্যক্রম এবং এ থেকে দেশের সম্ভাব্য অর্জনের বিষয় বিবেচনার জন্য ইতিমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে। সামুদ্রিক সম্পদ, মৎস্য, পর্যটন ও পরিবেশ সংরক্ষণের মধ্যে সমন্বিত ভারসাম্য প্রতিষ্ঠাসহ সুনীল অর্থনীতির টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রয়োজন হলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়টি সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে। পাবনা- ৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত কার্যক্রমগুলো বাস্তবায়নে ১৮০ দিনের কর্মসূচির আলোকে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ ইতিমধ্যে যেসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার অগ্রগতি জানানোর পাশাপাশি অন্য পরিকল্পনাগুলোও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ই- হেলথ কার্ড দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ-বিষয়ক একটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ৫টি জেলায় (খুলনা, নোয়াখালী, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও নরসিংদী) জনগণকে ই-হেলথ কার্ডের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম শুরু করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, সারা দেশে শহর ও গ্রাম অঞ্চলে খেলার মাঠ নির্ধারণ ও অবকাঠামো উন্নয়নে কর্মকৌশল নির্ধারণে কেন্দ্রীয় পর্যায়ে গঠিত কমিটি কাজ করছে। প্রতিটি ইউনিয়ন ও উপজেলায় যথাক্রমে ৮ বিঘা ও ১০ বিঘা করে উন্মুক্ত খেলার মাঠ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, হাইটেক/সফটওয়্যার পার্ক ও আইসিটি সেন্টারগুলো কার্যকরভাবে পরিচালনার জন্য এবং বাংলাদশে পেপ্যালের কার্যক্রম আরম্ভে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করে দিয়েছি : নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করে দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল যাকে বিগত নির্বাচনে এই দেশের মানুষ বিপুল ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করেছে দেশকে পরিচালনা করার জন্য। এই দলের কমিটমেন্ট হচ্ছে এই দেশের মানুষের প্রতি; এই দলের কমিটমেন্ট হচ্ছে এই বাংলাদেশের প্রতি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের যে ম্যানিফেস্টো ছিল, সেখানে যেরকম আমরা শিল্পদ্যোক্তা যারা আছেন তাদের জন্য যেরকম পলিসি গ্রহণ করেছি, একইভাবে খেটে খাওয়া মানুষ, তারা কীভাবে ধীরে ধীরে তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করতে পারে সেজন্য আমরা বিভিন্ন রকম পলিসি গ্রহণ করেছি। আমরা বিভিন্ন রকম প্রতিশ্রুতি দিয়েছি এবং সেসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজও আমরা শুরু করে দিয়েছি।’ সরকারপ্রধান বলেন, নির্বাচনি ইশতেহারে ঘোষিত কার্যক্রমসমূহ বাস্তবায়নে সব মন্ত্রণালয় এবং বিভাগ আগামী ১৮০ দিনের কর্মসূচির আলোকে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে এবং সেগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ এরই মধ্যে গ্রহণ করেছে। তারই একটি অংশ হিসেবে আমাদের কৃষক কার্ডের যে কমিটমেন্ট ছিল, সেটির কাজও আমরা পাইলট প্রজেক্টের মাধ্যমে শুরু করেছি। এর বাইরেও সমগ্র বাংলাদেশের মানুষ দেখছে যে, আমাদের কমিটমেন্ট যেগুলো ছিল, নির্বাচনের সময় জনগণকে দেওয়া, সেই প্রতিশ্রুতির কাজগুলো আমরা পর্যায়ক্রমে শুরু করেছি।

পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি শুরু হচ্ছে ১ জুলাই : আগামী ১ জুলাই থেকে দেশজুড়ে পাঁচ বছর মেয়াদি ‘পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি’ শুরু হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-৭ আসনের হুমাম কাদের চৌধুরীর প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী সরকারের এই পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বর্তমান সরকারের ইশতেহারে দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শিক্ষাদানের মান ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আওতায় আনার ওপর গুরুত্ব প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে মোট শিক্ষকের সংখ্যা ৩ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮৯ জন এবং তার মধ্যে চলমান চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ইতিমধ্যে ১ লাখ ৩০ হাজার জন শিক্ষককে ইংরেজি বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, আপনি জেনে আনন্দিত হবেন যে, আগামী ১ জুলাই থেকে ৫ বছর মেয়াদি পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি সরকার শুরু করতে যাচ্ছে এবং এই কর্মসূচির মাধ্যমে অবশিষ্ট যে শিক্ষকবৃন্দ আছেন তাদেরকেও ইংরেজি বিষয়ে শিক্ষা প্রদানের পরিকল্পনা বর্তমান সরকারের রয়েছে।

প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সুদৃঢ় রাখতে আধুনিক হচ্ছে সশস্ত্র বাহিনী: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকার প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সুদৃঢ় রাখতে সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি ও সময়োপযোগী শক্তিতে রূপান্তর করার নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সুদৃঢ় রাখতে সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে যাচ্ছে। এ জন্য সশস্ত্র বাহিনীকে বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রণয়ন, কলেবর বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন ও প্রশিক্ষণের উন্নয়নসহ আধুনিক, দক্ষ এবং সময়োপযোগী শক্তিতে রূপান্তর করার নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য- সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীকে এমন সক্ষমতায় উন্নীত করা, যাতে জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষায় একটি বিশ্বাসযোগ্য প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়। এ লক্ষ্যে একটি নতুন জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল ও আধুনিক প্রতিরক্ষানীতি প্রণয়ন, সেনাবাহিনীর কৌশলগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, নৌবাহিনীর মাধ্যমে সমুদ্রপথ, সামুদ্রিক সম্পদ ও ব্লু ইকোনমি সুরক্ষা এবং বিমানবাহিনীর বিমান প্রতিরক্ষা, নজরদারি ও দ্রুত মোতায়েন সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ‘ম্যাড ইন বাংলাদেশ’ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তুলতে আত্মনির্ভরতা বাড়ানোর ওপরও জোর দেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। নির্বাচনি ইশতেহারের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, বিএনপির ২০২৬ সালের নির্বাচনি ইশতেহারে সশস্ত্র বাহিনীকে মডার্ন, কুইক, সেলফ কনটেইন্ড, রাজনৈতিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকা এবং সমন্বিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা সম্পন্ন বাহিনী হিসাবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, বর্তমান নিরাপত্তা বাস্তবতায় সরকার শুধু প্রচলিত অস্ত্র সংযোজনেই সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না। বরং সাইবার স্পেস, তথ্যযুদ্ধ, ড্রোন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উপকূলীয় নিরাপত্তা, জ্বালানি অবকাঠামো সুরক্ষা এবং আন্তঃবাহিনী সমন্বয়ের মতো নতুন ক্ষেত্রেও সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছে।

বিমানবাহিনীতে ৪.৫ প্রজন্মের আধুনিক যুদ্ধবিমান সংযোজনের কথাও গুরুত্ব পাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাশাপাশি প্রশিক্ষণ, পেশাগত দক্ষতা, কল্যাণ, অবসরোত্তর মর্যাদা এবং ওয়ান র‍্যাংক ওয়ান পারশন ওয়ান পেনশনের মতো বিষয় বিবেচনায় নিয়ে একটি আধুনিক, জ্ঞানভিত্তিক, প্রযুক্তিমুখী ও জনআস্থাসম্পন্ন সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর জন্য উন্নত অস্ত্রশস্ত্র, আধুনিক যুদ্ধবিমান, নৌযান ও সাবমেরিন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অত্যাধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি সংযোজনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত