
দেশে গত এক মাসে (১৫ মার্চ থেকে ১৫ এপ্রিল) হাম সন্দেহে এবং নিশ্চিত হামে ১৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা এক হাজার ৩২ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক হামরোগীর সংখ্যা ১৯ হাজার ১৬১ জন। মঙ্গলবার থেকে বুধবার ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা ৭৬ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত নিশ্চিত হামরোগীর সংখ্যা দুই হাজার ৯৭৩ জন।
গত ১৫ মার্চ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১২ হাজার ৩১৮ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছাড় পেয়েছেন নয় হাজার ৭৭২ জন। মঙ্গলবার থেকে বুধবার ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত আরও একজনের জনের মৃত্যু হয়েছে এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ১৫ এপ্রিল পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে একটি শিশুর হামে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বাকি দুই শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। একই সময় হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬৬৬ শিশু এবং হাম শনাক্ত হয়েছে ৭৬ জনের।
বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এই হিসাব ১৪ এপ্রিল সকাল আটটা থেকে আজ ১৫ এপ্রিল সকাল আটটা পর্যন্ত সময়ের। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া তিন শিশুই ঢাকা বিভাগের। এই সময়ে সর্বোচ্চ ৬১ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে। ১২ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে রাজশাহী বিভাগে। আর তিনজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে সিলেট বিভাগে।
হামের সংক্রমণ কমে আসতে সময় লাগবে- তথ্য উপদেষ্টা : দেশে হামের সংক্রমণ যে পর্যায়ে আসছে, তা কমে আসতে সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। এর কারণ ব্যাখ্যায় তিনি বলেছেন, শিশুর শরীরে টিকা দেওয়ার পর ‘ইমিউনিটি তৈরিতে সময় নেয়’। বুধবার সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কথা বলছিলেন জাহেদ উর রহমান। হাম পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন ৫ এপ্রিল থেকে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং তা চলমান রয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতির ‘উন্নতি হবে না’। তিনি বলেন, দেশের একটি অংশের শিশু টিকার কাভারেজের মধ্যে ছিল না। আমরা আবারো বলতে চাই এটা আগের একটা ব্যর্থতার সমস্যা। তারপরও এগুলো বলে আমাদের শিশুদের মর্মান্তিক মৃত্যু আমরা কোনভাবেই মেনে নিতে পারি না।
আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালগুলোতে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। তার কথায়, সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং যখন একই সেবা অনেকের প্রয়োজন হয় বিশেষ করে আইসিইউয়ের মত সেবা তখন এটা জটিল হয়ে যায়। সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে পরিস্থিতি ঠিকভাবে পরিচালনা করার জন্য। টিকাদানে ব্যর্থতার জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কী না প্রশ্নে জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রত্যেকটা নেগেটিভ ঘটনা আমরা সিরিয়াসলি ক্ষতিয়ে দেখি। একটা এয়ারপ্লেন ক্র্যাশ হলে তার কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা হয়, উদ্দেশ্য থাকে পরবর্তী ফ্লাইট যেন আরও নিরাপদ হয়। এই বিষয়টাও আমরা সিরিয়াসলি ক্ষতিয়ে দেখছি। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর একটা মন্তব্য নিয়ে কেউ কেউ সমালোচনা করেছেন, সমালোচনা করতেও পারেন কেউ। কিন্তু আমরা মনে হয় তার ফিলিংটা বুঝতে পারি যে এতগুলো শিশু মারা যাচ্ছে তিনি এটা সহ্য করতে পারেননি। এটা পারা যায় না। সো আমরা অবশ্যই এগুলো প্রত্যেকটা ক্ষতিয়ে দেখছি কোথায় কোথায় কোন কোন সমস্যা।
তিনি বলেন, আমি ডাক্তার, আমি এটা বলতে পারি কিছু প্রিভেন্ট করা শিখে গেছেন এগুলোতে মানুষ মারা যাবে না। একটা শিশুও মারা যাবে না। এ ধরনের ডিজিজে কেউ মারা গেলে মানা যায় না। কিছু কিছু ডিজিজ আছে আপনার হয়ে যেতে পারে। আপনি আমি কেউ ভেতরে ভেতরে একটা ক্যান্সার নিয়ে হাঁটছি কি না আমরা আসলে জানি না, দুদিন পর বের হতে পারে। কিন্তু এই ডিজিজটা আমরা প্রিভেন্ট করতে পেরেছিলাম, সো এইটা ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ। আমাদের প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপির ৩১ দফার মধ্যে প্রিভেন্টিভ মেডিসিন নিয়ে অনেক বেশি কথা বলা হয়েছে। সো টিকা দিতে পারা কিন্তু এক ধরনের প্রিভেনশন। তাই কাজটি আমরা যে কোনো মূল্যে করব।