
হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন দলটির সাবেক যুগ্ম মহাসচিব ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক। গতকাল রোববার জামিয়া ইসলামিয়া আজিজুল উলুম বাবুনগর মাদ্রাসায় এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাৎকালে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর বলেছেন, আজ পরিষ্কার হয়ে গেছে, আমরা এক। হেফাজতে ইসলামের মধ্যে কোনও বিভক্তি নেই।
এ সময় ‘শাপলা স্মৃতি সংসদ’ প্রকাশিত হেফাজতে ইসলামের শহীদদের জীবনী স্মারক ‘শহীদনামা’ গ্রন্থটি মামুনুল হককে হাদিয়া হিসেবে দেওয়া হয়। সৌজন্য সাক্ষাতের বিষয়ে মামুনুল হক বলেন, বৃহত্তর রাজনৈতিক বাস্তবতা ও জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন মত ও পথের রাজনৈতিক দল নিয়ে ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য গঠিত হয়। এ ঐক্যে এমন কিছু দলও রয়েছে, যারা রাষ্ট্রক্ষমতায় ইসলাম প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে ভিন্নমত পোষণ করে। তা সত্ত্বেও চলমান জাতীয় পরিস্থিতি মোকাবিলার স্বার্থে এই রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে উঠেছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন দলের সঙ্গে আকিদা, বিশ্বাস ও চিন্তাগত মতপার্থক্য আগে থেকেই বিদ্যমান এবং তা স্ব স্ব অবস্থানে বহাল রয়েছে। তবে এই রাজনৈতিক সমন্বয় কোনোভাবেই আকিদাগত বা আদর্শিক ঐক্য নয়; বরং বৃহত্তর জাতীয় প্রেক্ষাপটে একটি কৌশলগত রাজনৈতিক ঐক্য।
তিনি আরও বলেন, হেফাজতে ইসলামের আমির যে কুরআন-সুন্নাহভিত্তিক চিন্তা, বিশ্বাস ও আকিদার কথা বলেন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ হেফাজতের শরিক সংগঠনগুলো সেই আকাবির-আসলাফের ধারাকেই ধারণ করে। মাওলানা মামুনুল হক বলেন, হেফাজতে ইসলাম পূর্বসূরীদের আদর্শ অনুসরণ করে কুরআন-সুন্নাহর ভিত্তিতে পরিচালিত একটি ঐক্যবদ্ধ শক্তি। আগামী দিনে দেশ ও ইসলামের স্বার্থে, ইসলামের ওপর দেশীয় বা আন্তর্জাতিক যেকোনও আঘাতের বিরুদ্ধে হেফাজতে ইসলাম অতীতের ন্যায় দৃঢতার সঙ্গে মাঠে ভূমিকা রাখবে। এ সময় আরও ছিলেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির মাওলানা সালাহউদ্দিন নানুপুরী, মাওলানা মাহফুজুল হক, মাওলানা জাসিমউদ্দীন, মাওলানা আলী উসমান, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি বশিরুল্লাহ প্রমুখ।