ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

পশ্চিমবঙ্গের মুসলিমদের প্রতি ইমামের আহ্বান

গরু কোরবানি নয় ছাগল দিন

গরু কোরবানি নয় ছাগল দিন

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে গরু কুরবানি ও গরুর মাংস নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজ্য সরকারের সাম্প্রতিক নির্দেশনার পর এবার কলকাতার ঐতিহাসিক নাখোদা মসজিদণ্ডএর ইমাম মুসলিমদের প্রতি গরু কুরবানি থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ভবিষ্যতে গরুর মাংস না খাওয়ারও পরামর্শ দেন। তার এ বক্তব্য সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মাওলানা মোহাম্মদ শফিক কাসেমি নামের এ ইমাম বার্তাসংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, মুসলিমদের কুরবানির জন্য বিকল্প হিসেবে ছাগল রয়েছে। তাই সবাই যেন ছাগল দিয়েই কুরবানি করেন।

তিনি বলেন, ‘দয়া করে গরু কুরবানি করবেন না। কখনো আর গরুর মাংস খাবেন না। যদি মুসলিমরা গরুর মাংস খাওয়া বন্ধ করে, এটি মুসলিমদের নয়, বরং আমাদের হিন্দু ভাইদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করবে। কারণ বহু হিন্দু পরিবার দুগ্ধ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং তারা কুরবানির ঈদে তাদের গরু বিক্রি করেন। জীবনের সব সঞ্চয় একটি গরুর পেছনে ব্যয় করার পর যদি তারা গরু বিক্রি করতে না পারেন, তাহলে তা তাদের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হবে।’

গত সপ্তাহে পশ্চিমবঙ্গ-এর বিজেপি সরকার একটি নির্দেশনা জারি করে। এতে বলা হয়, এখন থেকে অনুমতি ছাড়া রাজ্যের কোথাও গরু ও মহিষ জবাই করা যাবে না। এর মাধ্যমে কার্যত গরুর মাংসের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়।

সরকারি নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, কোনো গরু জবাই করতে হলে তার বয়স কমপক্ষে ১৪ বছর হতে হবে। পাশাপাশি গরু ও মহিষ শুধুমাত্র সরকার নির্ধারিত কসাইখানায় জবাই করা যাবে।

তবে বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে এ ধরনের পর্যাপ্ত অবকাঠামো নেই বলে মন্তব্য করেছেন মাওলানা শফিক কাসেমি। তিনি বলেন, আগে সরকারকে কসাইখানা নির্মাণ করতে হবে এবং পর্যাপ্ত পশু চিকিৎসকের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। যদি সরকার তা করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে গরুকে জাতীয় পশু ঘোষণা করে গরু জবাই ও রপ্তানি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা উচিত।

তিনি আরও বলেন, ‘এক দেশে দুই ধরনের নীতি থাকতে পারে না। একদিকে ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহৎ গরুর মাংস রপ্তানিকারক দেশ। বড় বড় কসাইখানায় ইসলামিক পদ্ধতিতে গরু জবাই করে বিলিয়ন ডলার আয় করা হয়। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জন্য গরুর মাংসের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয় এবং মুসলিমদের গরুর মাংসের অভিযোগে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এটি কখনো গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’

পশ্চিমবঙ্গে গরু কুরবানি ও গরুর মাংসকে ঘিরে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে। নাখোদা মসজিদের ইমামের বক্তব্য একদিকে যেমন সম্প্রীতি ও বাস্তবতার বার্তা বহন করছে, অন্যদিকে তা ভারতের গরু নীতি ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে চলমান আলোচনাকেও সামনে এনেছে। এখন দেখার বিষয়, রাজ্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট মহল এই ইস্যুতে ভবিষ্যতে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত