ঢাকা রোববার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

বাংলাদেশ হবে আন্তর্জাতিক শিক্ষা হাব

বললেন শিক্ষামন্ত্রী
বাংলাদেশ হবে আন্তর্জাতিক শিক্ষা হাব

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, বাংলাদেশ হবে আন্তর্জাতিক শিক্ষা হাব। সেভাবেই আমরা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে গড়ে তুলছি। গতকাল শনিবার নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এ কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এক সময় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে প্রচুর শিক্ষার্থী পড়তে আসতো। এখন এদেশ থেকে শিক্ষার্থীরা বিদেশে পড়তে যায়। আমরা চাই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ‘সেন্টার অফ এক্সিলেন্স’ হিসেবে গড়ে তুলতে। এর ফলে বিদেশি শিক্ষার্থীরা এদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনা করতে আরও আগ্রহী হবে। আমাদের লক্ষ্য এ দেশকে আন্তর্জাতিক ‘এডুকেশন হাব’ এ পরিণত করা।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত মেধাবী। এদেশ থেকে যারা দেশের বাইরে পড়তে গিয়েছে, তারা ভালো ফলাফল ও সুনাম অর্জন করেছে। এদেশের প্রচুর জনসম্পদ রয়েছে। এ জাতি গঠনে আমাদের যে অপার সম্ভাবনা রয়েছে, তা কাজে লাগাতে হলে আমাদের জনশক্তিকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।’ শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমাকে নিয়ে যারা ট্রল করলো তারা কেউ পরীক্ষার্থী না। সিটি কলেজ, আইডিয়াল কলেজ, ভিকারুন্নেসার মতো প্রতিষ্ঠানের কাউকে দেখিনি আন্দোলন করতে। এইভাবে আন্দোলন করে মিসগাইডেড করে কি একটা হ্যাভক সৃষ্টি করা হলো। স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমরা এসেছি, এই জাতিকে সুশিক্ষিত করার দায়িত্ব নিয়ে। যে যত ট্রলই করেন না কেন? যে যত অপবাদই দেন না কেন? দায়িত্ব থেকে আমাদের বিচ্যুত করতে পারবেন না। শিক্ষা ভাবনাকে বাদ দিয়ে যারা উশৃঙ্খল কথা বলে সমাজকে উস্কানি দিতে চায় আমাদের এই তরুণ প্রজন্ম তাদের ব্যর্থ করে দিবে। তিনি বলেন, ‘২০০১ সাল থেকে ২০০৬ সাল।

বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে এই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলাম। আজকে তারই জ্যেষ্ঠ সন্তান তারেক রহমানের অধীনে আমি দায়িত্ব পালন করছি। কি করে ভাবতে পারেন? অন্যায়কে প্রশ্রয় দিতে আমাকে নির্দেশ দেওয়া হবে? নিশ্চয়ই না। আপনারা আপনাদের দায়িত্বে অটল থাকুন। লেখাপড়া আমাদের করতেই হবে এবং তার মান আমাদের উন্নয়ন করতেই হবে।’

সম্প্রতি কুমিল্লায় এইচএসসি পরীক্ষা চলাকালে জলাবদ্ধতার কারণে পরীক্ষা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার্থীদের স্বার্থেই মানবিক বিবেচনায় ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে প্রশ্নফাঁসের গুজব ছড়ানোর বিষয়ে তিনি গণমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। পরীক্ষা পদ্ধতি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণার সমালোচনা করে তিনি বলেন, পরীক্ষা ছাড়া মেধার মূল্যায়ন ও সনদ প্রদান সম্ভব নয়।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা এবং অতীতের নানা অনিয়মের প্রভাব থাকা সত্ত্বেও সরকার শিক্ষাখাতে বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাজেট ৮৭ হাজার কোটি টাকা থেকে ১ লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। ভবিষ্যতে জাতীয় আয়ের (জিডিপি) ৫ শতাংশ শিক্ষাখাতে বরাদ্দ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে। নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রাকে উচ্চশিক্ষার নতুন সম্ভাবনা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ৮০ শিক্ষার্থী নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হলেও দ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়টিকে নিজস্ব ক্যাম্পাসে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় চাহিদা বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক মানের ‘স্কুল অব এগ্রিকালচার’ প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি। সেশনজট কমাতে ২০২৭ সাল থেকে জানুয়ারিতে এসএসসি এবং মার্চে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।

নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ হাছানাত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড.ফরিদুল ইসলাম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. এএসএম আমানুল্লাহ, মাধ্যমিক উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড.খান মঈনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, নওগাঁ-২ আসনের সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক, নওগাঁ-৩ আসনের সাংসদ ফজলে হুদা বাবুল, নওগাঁ-৪ আসনের সাংসদ ইকরামুল বারী টিপু, নওগাঁ-৫ আসনের সাংসদ জাহিদুল ইসলাম ধলু, নওগাঁ-৬ আসনের সাংসদ শেখ মোহাম্মদ রেজাউল ইসলাম, নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।

এসময় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, রাজনৈতিক নেতারা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) এক সভায় নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে দুটি বিভাগ খোলার অনুমোদন দেওয়া হয়। অনুমোদন পাওয়া বিভাগ দুটি হলো আইন অনুষদের অধীন আইন বিভাগ ও বিজনেস স্টাডিজ অনুষদের অধীন অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন বিভাগ। ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ওই দুই বিভাগে এরইমধ্যে শিক্ষার্থী ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর বিশ্ববিদ্যালয়টিতে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত