ঢাকা রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

চলতি মাসেই পে-স্কেলে বেতন পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

চলতি মাসেই পে-স্কেলে বেতন পাচ্ছেন সরকারি চাকরিজীবীরা

সর্বনিম্ন গ্রেডে ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডে ১০০ শতাংশ বেতন বাড়িয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। গতকাল শনিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন প্রকাশ হয়েছে, যা চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬ নামে অভিহিত করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন হবে ধাপে ধাপে। এর মধ্যে ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা নতুন বেতন কাঠামোর বাড়তি বেতনের ৪০ শতাংশ পাবেন এবং ১০-২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ হারে পাবেন। এ ছাড়া ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা নতুন বেতন কাঠামোতে বাড়তি মূল বেতনের ৭০ শতাংশ এবং ১০-২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৭৫ শতাংশ হারে পাবেন।

২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে বেতন বৃদ্ধির শতভাগ কার্যকর হবে। আর মূল বেতনের সঙ্গে যেসব ভাতা পেয়ে থাকেন সরকারি চাকুরেরা, সেসব পুরোপুরি বাস্তবায়ন হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে।

গত ৩০ জুন তারা যে বেতন পেয়েছিলেন, সেটিকে ভিত্তি ধরে বাড়তি প্রাপ্য হিসাব করা হবে। নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও সমমর্যাদার কর্মকর্তার বেতন হবে ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা এবং জ্যেষ্ঠ সচিব ও সমমর্যাদার বেতন হবে ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। ৩১ অগাস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে নবম জাতীয় বেতন কাঠামো অনুমোদন করে সরকার। তাতে ২০তম গ্রেডে মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা হয়েছে। আর নবম গ্রেডের মূল বেতন ২২ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৪৪ হাজার টাকা। বিসিএস দিয়ে যারা প্রথম শ্রেণির গেজেটেড কর্মকর্তা পদে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন তারা এ গ্রেডে বেতন পান।

অন্যদিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে অর্থ্যাৎ প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার (নির্ধারিত) থেকে বেড়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা হয়েছে। সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তারা এ গ্রেডে বেতন পান। সেই সঙ্গে বাড়ি ভাড়াসহ অন্যান্য ভাতা ও আর্থিক সুবিধা বাড়ানোরও অনুমোদন দেওয়া হয়। বছর কয়েক ধরে আলোচনার পর গত সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে সরকারি চাকুরেদের কাঙ্ক্ষিত এ জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুমোদন করার পর এবার কীভাবে বাস্তবায়িত হবে তারও পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা মিলল নতুন এ আদেশে। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ২০ দিন আগে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ করে নবম জাতীয় বেতন কমিশন।

বেতন কমিশনের প্রস্তাব বাস্তবায়নে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ বরাদ্দ করে যাওয়ার কথা তখন বলেছিলেন তৎকালীন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ। পে-কমিশন যে সুপারিশ দিয়েছে, তা পরীক্ষা করার জন্য কমিটি করে দেওয়ার কথা তিনি সেসময় বলেছিলেন।

বিএনপি সরকার গঠন করার পর সামাজিক নিরাপত্তা খাতে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজে হাত দেয়। একই সঙ্গে আগের সরকারের বাজেটে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের অর্থের সংস্থান না থাকায় এটি বাস্তবায়নে কিছুটা সময় নেয়। এছাড়া পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতিতে জ্বালানি সংকটের মধ্যে বাড়তি দামে জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানিতেও সরকারের খরচ বাড়ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে সরকারের নতুন ঋণ কর্মসূচি শুরুর আগ্রহের আলোচনার সময় তাদের তরফে বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের অর্থ সংকুলান নিয়ে প্রশ্ন এসেছিল। চলতি অর্থবছরের বাজেটে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের কথা বলা হলেও এসব বিবেচনায় সেই সুযোগ থাকছে কি না, সেই প্রশ্ন উঠেছিল। শেষ পর্যন্ত সরকার গঠনের ছয় মাসের মাথায় সরকারি চাকুরেদের জন্য নবম এ বেতন কাঠামো আলোর মুখ দেখল।

কার বেতন কত বাড়লো

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন জাতীয় বেতনস্কেল, ২০২৬ কার্যকর করেছে সরকার। নতুন বেতনস্কেলে ২০টি গ্রেডের প্রতিটির জন্য পৃথক বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ও সমমর্যাদার পদের বেতন ১ লাখ ৭২ হাজার টাকা এবং সিনিয়র সচিব ও সমমর্যাদার পদের বেতন ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

গ্রেড ১ থেকে ৪: নতুন কাঠামো অনুযায়ী, গ্রেড-১-এর নির্ধারিত বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। গ্রেড-২-এর আগের বেতন ৬৬ হাজার টাকা থেকে শুরু হলেও নতুন স্কেলে শুরু হচ্ছে ১ লাখ ৩২ হাজার টাকা দিয়ে। এ গ্রেডের সর্বোচ্চ বেতন নতুন কাঠামোয় ১ লাখ ৫৩ হাজার টাকা।

গ্রেড-৩-এর আগের বেতন ৫৬ হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু হয়ে সর্বোচ্চ ৭৪ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত। নতুন স্কেলে এ গ্রেডের বেতন ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত। গ্রেড-৪-এর আগের বেতন ৫০ হাজার টাকা থেকে শুরু। নতুন স্কেলে তা ১ লাখ টাকা থেকে শুরু হয়ে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৪২ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

গ্রেড ৫ থেকে ৮: গ্রেড-৫-এর আগের বেতন ৪৩ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়ে ৬৯ হাজার ৮৫০ টাকা পর্যন্ত। নতুন স্কেলে শুরু হচ্ছে ৮৬ হাজার টাকা দিয়ে এবং সর্বোচ্চ ধাপ ১ লাখ ৩৯ হাজার ৭০০ টাকা। গ্রেড-৬-এর আগের বেতন ৩৫ হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু হলেও নতুন স্কেলে শুরু হবে ৭১ হাজার টাকা দিয়ে। এ স্কেলের সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা। গ্রেড-৭-এর আগের বেতন ২৯ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়ে সর্বোচ্চ ৬৩ হাজার ৪১০ টাকা। নতুন স্কেলে শুরু হচ্ছে ৫৮ হাজার টাকা দিয়ে এবং সর্বোচ্চ ১ লাখ ২৬ হাজার ৮০০ টাকা। গ্রেড-৮-এর আগের বেতন ২৩ হাজার টাকা থেকে শুরু। নতুন স্কেলে এ গ্রেডের বেতন ৪৬ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ১০ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত।

গ্রেড ৯ থেকে ১২: গ্রেড-৯-এর আগের বেতন ২২ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়ে ৫৩ হাজার ৬০ টাকা পর্যন্ত। নতুন স্কেলে শুরু হচ্ছে ৪৪ হাজার টাকা দিয়ে এবং সর্বোচ্চ ধাপ ১ লাখ ৫ হাজার ৯০০ টাকা। গ্রেড-১০-এর আগের বেতন ১৬ হাজার টাকা থেকে শুরু হলেও নতুন স্কেলে তা বেড়ে ৩২ হাজার টাকা থেকে শুরু হচ্ছে। সর্বোচ্চ বেতন হবে ৭৭ হাজার ৩০০ টাকা। গ্রেড-১১-এর আগের বেতন ১২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু হয়ে ৩০ হাজার ২৩০ টাকা পর্যন্ত। নতুন স্কেলে শুরু হচ্ছে ২৫ হাজার টাকা দিয়ে এবং সর্বোচ্চ ধাপ ৬০ হাজার ৫০০ টাকা। গ্রেড-১২-এর আগের বেতন ১১ হাজার ৩০০ টাকা থেকে শুরু। নতুন স্কেলে তা ২৪ হাজার ৩০০ টাকা থেকে শুরু হয়ে সর্বোচ্চ ৫৮ হাজার ৭০০ টাকা পর্যন্ত হয়েছে।

গ্রেড ১৩ থেকে ১৬: গ্রেড-১৩-এর আগের বেতন ১১ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়ে ২৬ হাজার ৫৯০ টাকা পর্যন্ত। নতুন স্কেলে শুরু হচ্ছে ২৪ হাজার টাকা দিয়ে এবং সর্বোচ্চ বেতন ৫৮ হাজার টাকা। গ্রেড-১৪-এর আগের বেতন ১০ হাজার ২০০ টাকা থেকে শুরু। নতুন স্কেলে শুরু হচ্ছে ২৩ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে এবং সর্বোচ্চ ৫৬ হাজার ৮০০ টাকা। গ্রেড-১৫-এর আগের বেতন ৯ হাজার ৭০০ টাকা থেকে শুরু হয়ে ২৩ হাজার ৪৯০ টাকা পর্যন্ত। নতুন স্কেলে তা ২২ হাজার ৮০০ টাকা থেকে শুরু হয়ে সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত হয়েছে। গ্রেড-১৬-এর আগের বেতন ৯ হাজার ৩০০ টাকা থেকে শুরু। নতুন স্কেলে শুরু হচ্ছে ২১ হাজার ৯০০ টাকা দিয়ে এবং সর্বোচ্চ ধাপ ৫২ হাজার ৯০০ টাকা।

গ্রেড ১৭ থেকে ২০: গ্রেড-১৭-এর আগের বেতন ৯ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়ে ২১ হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত। নতুন স্কেলে শুরু হচ্ছে ২১ হাজার ৪০০ টাকা দিয়ে এবং সর্বোচ্চ ৫১ হাজার ৯০০ টাকা। গ্রেড-১৮-এর আগের বেতন ৮ হাজার ৮০০ টাকা থেকে শুরু। নতুন স্কেলে শুরু হচ্ছে ২১ হাজার টাকা দিয়ে এবং সর্বোচ্চ ধাপ ৫০ হাজার ৯০০ টাকা। গ্রেড-১৯-এর আগের বেতন ৮ হাজার ৫০০ টাকা থেকে শুরু হয়ে ২০ হাজার ৫৭০ টাকা পর্যন্ত। নতুন স্কেলে শুরু হচ্ছে ২০ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে এবং সর্বোচ্চ ৪৯ হাজার ৬০০ টাকা। সবশেষে গ্রেড-২০-এর আগের বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে শুরু হয়ে ২০ হাজার ১০ টাকা পর্যন্ত ছিল। নতুন স্কেলে এ গ্রেডের বেতন ২০ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়ে সর্বোচ্চ ৪৮ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

যেভাবে নতুন বেতন নির্ধারণ হবে

গেজেটে বলা হয়েছে, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে বা তার আগে কোনো কর্মচারী যে মূল স্কেল, উচ্চতর গ্রেড বা অন্য কোনো গ্রেড/স্কেল পেতেন, ১ জুলাই ২০২৬ থেকে তার বিপরীতে নির্ধারিত নতুন অনুরূপ স্কেল প্রাপ্য হবেন। কোনও কর্মচারী বর্তমান স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপে বেতন পেলে নতুন স্কেলেরও প্রারম্ভিক ধাপে তার বেতন নির্ধারণ করা হবে। আর প্রারম্ভিক ধাপের চেয়ে বেশি বেতন পেলে বর্তমান বেতন ও সংশ্লিষ্ট স্কেলের সর্বনিম্ন ধাপের পার্থক্য বের করে তা নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক বেতনের সঙ্গে যোগ করা হবে। যোগফল নতুন স্কেলের কোনো ধাপের সঙ্গে মিলে গেলে সেই ধাপে এবং কোনো ধাপের সঙ্গে না মিললে পরবর্তী উচ্চতর ধাপে বেতন নির্ধারণ করা হবে।

গেজেটের উদাহরণে বলা হয়েছে, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে কোনো কর্মচারীর মূল বেতন ৯ হাজার ৩০০ টাকা হলে ১ জুলাই থেকে সংশ্লিষ্ট নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপ ২১ হাজার ৯০০ টাকা নির্ধারিত হবে। অর্থাৎ নতুন বেতনস্কেলে শুধু প্রারম্ভিক বেতনই নয়, চাকরিজীবনের বিভিন্ন ধাপের বেতনও নতুন কাঠামো অনুযায়ী পুনর্র্নিধারিত হবে।

কোন ধাপে বাড়বে কত শতাংশ

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় বেতন স্কেল গতকাল মন্ত্রিসভায় অনুমোদন পেয়েছে। নতুন স্কেলে প্রথম থেকে ১১তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন বাড়ছে ১০০ শতাংশ এবং ১২ থেকে ২০তম গ্রেডের বাড়ছে ১১৫ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত। তবে বর্ধিত এই বেতন একসঙ্গে হাতে পাওয়া যাবে না; বাস্তবায়ন হবে চার পর্যায়ে, ধাপে ধাপে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, নতুন পে-স্কেলে ২০তম গ্রেডের সর্বনিম্ন মূল বেতন দাঁড়াবে ২০ হাজার টাকা, যা আগে ছিল ৮ হাজার ২৫০ টাকা। অন্যদিকে, প্রথম গ্রেডের সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে হবে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। গত জুলাই থেকে নতুন স্কেল কার্যকর হওয়ার কথা বলা হলেও, বর্ধিত বেতনের সুবিধাগুলো নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী।

নতুন পে-স্কেলের ফলে ২৪ লাখ সরকারি চাকরিজীবী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগী সরাসরি উপকৃত হবেন। এটি বাস্তবায়নে সরকারি কোষাগার থেকে বছরে ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা বাড়তি ব্যয় হবে। নতুন পে-স্কেলে কতটা সুবিধা বাড়বে পেনশনারদের ধরা যাক, ২০১৫ সালের পে-স্কেল অনুযায়ী নবম গ্রেডে চাকরিতে যোগ দেওয়া একজন কর্মকর্তার প্রারম্ভিক মূল বেতন ২২ হাজার টাকা। নতুন পে-স্কেলে (১০০% বৃদ্ধিতে) তার প্রারম্ভিক মূল বেতন হবে ৪৪ হাজার টাকা। যেহেতু তিনি প্রথম থেকে নবম গ্রেডের আওতাভুক্ত, তাই তার বর্ধিত ২২ হাজার টাকা বেতন তিন ধাপে যুক্ত হবে। সে অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই প্রথম ধাপে বর্ধিত ২২ হাজার টাকার ৪০ শতাংশ অর্থাৎ ৮ হাজার ৮০০ টাকা তার বর্তমান বেতনের সঙ্গে যুক্ত হবে। এরপর ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় ধাপে আরও ৩০ শতাংশ বা ৬ হাজার ৬০০ টাকা এবং জুলাইয়ে তৃতীয় ধাপে বাকি ৩০ শতাংশ বা আরও ৬ হাজার ৬০০ টাকা যুক্ত হয়ে তার মূল বেতন ৪৪ হাজার টাকায় পৌঁছাবে। এরপর ২০২৮ সালের জানুয়ারি থেকে তিনি এই ৪৪ হাজার টাকার ওপর ভিত্তি করেই বাড়িভাড়াসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক ভাতা পাবেন।

বকেয়া মিলবে চলতি মাসের বেতনের সঙ্গে

নতুন পে-স্কেল কার্যকরের তারিখ থেকে বকেয়া অর্থ চলতি সেপ্টেম্বর মাসের বেতনের সঙ্গেই পাবেন সরকারি চাকরিজীবীরা। অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে আজ এই তথ্য জানানো হয়েছে। গত ১৭ সেপ্টেম্বর জাতীয় পে-স্কেল ২০২৬-এর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে বলা হয়, নতুন পে-স্কেল গত ১ জুলাই থেকে কার্যকর গণ্য হবে। গত ৩১ আগস্ট সরকারি কর্মচারীদের জন্য নবম পে-স্কেল অনুমোদন দেয় সরকার। এতে সর্বোচ্চ গ্রেডের কর্মকর্তাদের মূল বেতন দ্বিগুণ করা হয়েছে। আর নিচের গ্রেডের মূল বেতন বেড়েছে রেকর্ড ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত। অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নতুন পে-স্কেল ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে।

১০ থেকে ২০ গ্রেডের কর্মীদের ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের ৩০ জুনে পাওয়া মূল বেতনের সঙ্গে নতুন পে-স্কেল ও বিদ্যমান মূল বেতনের পার্থক্যের ৫০ শতাংশ যোগ করা হবে। এই হারে বেতন দেওয়া হবে ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। পরবর্তী ধাপে ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত বাড়তি মূল বেতনের ৭৫ শতাংশ দেওয়া হবে। সবশেষ ধাপে, ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেলের পুরো ১০০ শতাংশ বেতন এবং নিয়মিত বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি (ইনক্রিমেন্ট) কার্যকর হবে। ১ থেকে ৯ গ্রেডের কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রে ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বেতন বাড়তি বেতনের ৪০ শতাংশ দেওয়া হবে। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে এটা বেড়ে ৭০ শতাংশ হবে। আর ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে নতুন পে-স্কেলের পুরো ১০০ শতাংশ বেতন কার্যকর হবে। এদিকে, অন্যান্য সব ভাতা ২০২৬ সালের ৩০ জুনে যে হারে দেওয়া হয়েছে, সেই হারেই ২০২৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেওয়া হবে। নতুন প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত ভাতার হার কার্যকর হবে ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে। এর আগে সর্বশেষ জাতীয় পে-স্কেল চালু হয়েছিল ২০১৫ সালে। তখন সেটাই ছিল সর্বোচ্চ বেতন বৃদ্ধির ঘটনা। ওই পে-স্কেলে সর্বোচ্চ গ্রেডে মূল বেতন ৯৫ শতাংশ এবং সর্বনিম্ন গ্রেডে ১০১ শতাংশ বেড়েছিল।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত