
দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে যানবাহন ও পণ্য পরিবহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাস্তার দুই পাশে এবং অনিরাপদ ও নির্জন স্থানে গাড়ি পার্কিং না করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি। একইসঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষতি বা ভাঙচুর এড়াতে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়। গতকাল শনিবার বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন পালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মো. জোবায়ের মাসুদ সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে একথা জানান হয়। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, দৈনিক চলাচল শেষে সব ধরনের যানবাহন বাধ্যতামূলকভাবে নিজ নিজ ডিপো, নির্ধারিত গ্যারেজ অথবা টার্মিনালে নিরাপদ পাহারায় রাখতে হবে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে কার্যকর করার জন্য দেশের সব স্তরের পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
মিরপুরে যাত্রীবাহী বাসে আগুন রাজধানীর মিরপুরে চলন্ত যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগ করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় মিরপুর-১১ নম্বর এলাকায় শিকড় পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। একই দিন মিরপুর-১ নম্বরেও একটি যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সন্ধ্যা ৭টা ১৩ মিনিটে মিরপুর-১১ নম্বরের জমজম টাওয়ারের বিপরীত পাশে চলন্ত অবস্থায় থাকা শিকড় পরিবহনের একটি বাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বাছির বলেন, দুর্বৃত্তরা একটি বাসে আগুন দিয়েছে। তবে তা নিভিয়ে ফেলা হয়েছে। কোনো হতাহতের ঘটনা নেই। ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
এদিকে মিরপুর-১ নম্বরের একটি বাসেও অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করা হয়। মিরপুর থানার ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, দুর্বৃত্তরা একটি যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করে। কিন্তু স্থানীয়দের ধাওয়ায় তারা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলসহ আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
এর আগে গত শুক্রবার জুমার পর থেকে রাত পর্যন্ত রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, মগবাজার, আগারগাঁওসহ বিভিন্ন স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া একই দিন রাতে তিন স্থানে যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। একের পর এক এসব ঘটনায় রাজধানীর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এর অংশ হিসেবে রাজধানীজুড়ে দুই শতাধিক চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে পুলিশের টহল।
ডিএমপি জানায়, রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দুই শতাধিক চেকপোস্ট পরিচালনা করছে পুলিশ। একই সঙ্গে রাজধানীতে প্রবেশের চারটি গুরুত্বপূর্ণ মুখেও বিশেষ নজরদারি রাখা হয়েছে। এসব পথে রাজধানীতে প্রবেশ ও বের হওয়া যানবাহন পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি সন্দেহজনক ব্যক্তি ও যানবাহনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।