
শিক্ষার্থীদের আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হলে অবশ্যই কম্পিউটার সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুধু প্রচলিত শিক্ষায় শিক্ষিত হলেই চলবে না; তাদের প্রযুক্তিগত জ্ঞান, ডিজিটাল পদ্ধতিতে শেখার সক্ষমতা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে বলেও জানান তিনি। এসব দক্ষতা ছাড়া ভবিষ্যৎ বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলানো কঠিন হবে বলেও যোগ করেন তিনি। গতকাল শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলের শিক্ষার্থীদের কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, শিক্ষার্থীদের এই সাফল্যের পেছনে তাদের পরিবার ও অভিভাবকদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। কোনো শিক্ষার্থী একক প্রচেষ্টায় সব অর্জন করতে পারে না; এজন্য পরিবারের সহযোগিতা প্রয়োজন। যে পরিবারে শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ নেই, সেখানে শিক্ষার্থীদের কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জন করা কঠিন। যথাযথ পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে শিক্ষার্থীরা আরও ভালো করতে পারে। এক্ষেত্রে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও পরিবারের সদস্যদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি স্কুলজীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ঐতিহাসিকভাবেই এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষাক্ষেত্রে কৃতিত্বের পরিচয় দিয়ে আসছে। স্কুলে প্রবেশের পর নিজের শিক্ষাজীবনের অনেক স্মৃতি মনে পড়ে যায়। স্কুলের সমাবেশ, ক্রিকেট খেলা ও গ্রন্থাগারকে ঘিরে শৈশবের স্মৃতিগুলো এখনো হৃদয়ে অমলিন। মানুষ জীবনের অনেক ঘটনা ভুলে গেলেও স্কুলজীবনের স্মৃতি সহজে ভোলে না। আমার সেই শিক্ষকদের নাম এখনো মনে আছে। স্কুলের দপ্তরিসহ যারা বিভিন্নভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাদের স্মৃতিও মনে ছবির মতো অঙ্কিত রয়েছে। তিনি বলেন, স্কুলটির পরিচালনা, উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীদের সর্বোত্তম শিক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টি আমার কাছে সবসময় গুরুত্বপূর্ণ।
কলেজিয়েট স্কুলের গ্রন্থাগার আগের মতো কার্যকর নেই জানতে পেরে দুঃখ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গ্রন্থাগার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জন ও পাঠাভ্যাস গড়ে তুলতে গ্রন্থাগারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। এখানে কম্পিউটার ল্যাব নেই, সেটা আমাকে বিস্মিত করেছে। এই সময়ে কম্পিউটার ল্যাব ছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলতেই পারে না। এখানে কম্পিউটার ল্যাব করে দেওয়া হবে।
এর আগে সকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নগরীর পতেঙ্গায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে নির্মিত সাইকেল ট্র্যাকের উদ্বোধন করেন। সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এই ট্র্যাকটিতে কেবল সাইকেল আরোহীরা যাতায়াত করতে পারবেন, এই ধরনের উদ্যোগ দেশে এটাই প্রথম। ট্র্যাক উদ্বোধন করে মন্ত্রী বলেন, উন্নত বিশ্বের দেশগুলোতে প্রায় প্রতিটি সড়কের পাশে সাইকেল চালানোর আলাদা লেন আছে। সেসব দেশের নাগরিকরা সাইকেল চালিয়ে অফিসে যায়। তাতে তাদের শরীরচর্চাও হয়ে যায়। এ কারণে তাদের অসুস্থ হওয়া বা রোগে আক্রান্ত হওয়ার হারও কম। বর্তমান সরকার সেই ধারণা দেশেও বাস্তবায়ন করতে চায়।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম নগরীতে আরও চার-পাঁচটি সাইকেল চলাচলের পথ নির্মাণের জন্য মেয়রকে অনুরোধ করছি। শুধু বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ির ওপর নির্ভরশীল না থেকে সাইকেল ব্যবহারের সুযোগ বাড়াতে হবে। মন্ত্রী বলেন, নগরীর খালগুলোর দুই পাশে যেখানে সম্ভব হাঁটার পথ নির্মাণের জন্য মেয়রকে বলা হয়েছে। মানুষ যেন নির্বিঘ্নে হাঁটতে ও দৌড়াতে পারে, সেজন্য পর্যাপ্ত জায়গা রাখতে হবে। দেশের ক্রীড়াঙ্গনে দৌড়, উচ্চলম্ফ ও দীর্ঘলম্ফের মতো ইভেন্টে দক্ষ ক্রীড়াবিদ গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।