ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

হাসিনা যত দিন বাঁচবেন, তত দিন অস্থিতিশীলতার চেষ্টা হতে পারে

বললেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা
হাসিনা যত দিন বাঁচবেন, তত দিন অস্থিতিশীলতার চেষ্টা হতে পারে

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যত দিন বেঁচে থাকবেন, তত দিন অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। মিরপুরে পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলন ও সহিংসতা প্রসঙ্গে গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কথা বলছিলেন তিনি। তার কথায়, সব ধরনের অস্থিতিশীলতা সরকার 'প্রতিহত করবে'। পোশাক শ্রমিকদের দাবি আদায়ে করা আন্দোলন ও সহিংসতার পেছনে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার কোন সংশ্লিষ্টতা আছে কি না জানতে চাইলে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, "বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ পলিটিক্যাল পার্টি হিসেবে কিছু করতে পারবে এটা আমরা বিশ্বাস করি না। কিন্তু যেহেতু তাদের কাছে লুটের টাকা পয়সা আছে, সেহেতু তারা কোথাও না কোথাও কোনো ফরম্যাটে নাশকতার চেষ্টা করতে পারে টাকা খরচ করে।

"যেহেতু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন তার কাছে এ বিষয়ে তথ্য আছে সে কারণে কোনো লিংক থাকতেই পারে। তার মানে এই না ডিসেম্বরে তার ফেরার পথ তৈরি করার জন্য এটা হচ্ছে। সরকার অন্তত এটা মনে করে না।" জাহেদের কথায়, "অস্থিতিশীলতা এখন না, এই ডিসেম্বরের পরও আবার কোনো না কোনো সময় সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে।" সহিংসতা ও শেখ হাসিনা নিয়ে তিনি বলেন, "আমি একটু এভাবে বলি, হাসিনার একটা কথা বলি, ১৯৯১ সালে উনি আনএক্সপেক্টেডলি, উনারা নাকি সরকার টরকার গঠন করে ফেলেছিলেন, তো উনি হেরে গিয়েছিলেন। উনি তো নিজেও হেরেছিলেন, তিনটা সিটে দাঁড়িয়ে দুটো সিটে হেরে গিয়েছিলেন। "তো সেটা যখন করছেন, সংসদে প্রথম দিন উনি বলেছিলেন এই সরকারকে একদিনও শান্তিতে থাকতে দেব না। বলেছিলেন না? মানে একটা গণতান্ত্রিক নির্বাচনে নির্বাচিত একটা সরকার যেখানে তিনি পার্টিসিপেট করেছেন এবং কিছু সিট টিট পেয়েছেন, তিনি সেখানকার সরকারকে বলছেন।" শেখ হাসিনাকে নিয়ে জাহেদ বলেন, "উনার ওই সময়কার মেন্টালিটি, ৯১ সালে হাসিনা এখনকার চাইতে কম দানব ছিলেন। কিন্তু উনি তখনও এই কথা বলেছেন। আর এখন উনি আমাদেরকে শান্তিতে থাকতে দেবেন, উনাকে হাজার হাজার, লাখ লাখ লোক নিয়ে পালিয়ে যেতে হয়েছে, উনি সেটা দেবেন না। উনি চেষ্টা করবেন। "কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি, এটা এখন না, আবারও বলছি এটা ডিসেম্বর না, এটা পুরো সময়, যত দিন উনি বেঁচে আছেন উনার এই চেষ্টা চলবে বলে আমরা মনে করি এবং আমরা এটাকে প্রতিহত করব।" গার্মেন্টস শ্রমিকদের মজুরি বোর্ড সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "এর আগে মজুরি বোর্ড রিভিশন হয়েছে পাঁচ বছর পরপর। ২০২৩ আসলে একবার রিভিশন হয়েছে। ২০২৬ এ এসে রিভিশন হওয়ার কথা ছিল না। ২০০৬, ২০১০, ২০১৩, ২০১৮ এবং ২০২৩ সালে রিভিশন হয়েছে। ২০১৩ এর পরে ২০২৬ 'এ হল। "আমরা বুঝতে প্রস্তুত আছি জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ছে। আমাদের যারা গার্মেন্টস কর্মী আছেন তাদের জীবন কঠিন হয়ে উঠছে এটাতে কোন ভুল নেই। মূল্যস্ফীতি আছে বেসিক কতগুলো জিনিস, জ্বালানির মূল্য বাড়ছে এটা সূত্র ধরে অনেক কিছুরই মূল্য বাড়ছে।"

সরকার সহানুভূতিশীল হয়ে আগেই এই কমিশন গঠন করেছে মন্তব্য করে জাহেদ উর রহমান বলেন, ফলে মূল আন্দোলনের যে দাবি সেটা শেষ হয়ে যাওয়ার কথা ছিল। "কিন্তু এরপরও যদি কনটিনিউ করে সহিংস আচরণ কারো কারো মধ্যে দেখা গেছে। এর ফলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যে বলেছেন এ সব আন্দোলন সহিংসতা দাবির কারণে হতে পারে না। "স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে যে বাহিনীগুলো তার অধীনে আছে, তাদের কাছে গোয়েন্দা কার্যক্রম আছে, তথ্য আছে তার ভিত্তিতেই তিনি হয়তো বলেছেন সীমান্তের উপর থেকে হয়েছে। এটার সাথে ডিসেম্বরের সম্পৃক্ততা আছে কিনা এটা আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি না।" এদিকে ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে এদিনও মিরপুরে আন্দোলনরত পোশাক শ্রমিকরা পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মিরপুর ১১ মেট্রো স্টেশনের নিচে এ সংঘর্ষ বাধে। এসময় পুলিশকে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়তে দেখা গেছে। পরে শ্রমিকরা মিরপুর ১১ এলাকা থেকে সরে গিয়ে কালসী মোড় এলাকায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান। গত শনিবার মিরপুরের বিভিন্ন পোশাক কারখানায় শ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। শুরুতে কারখানার ভেতরে কর্মবিরতি ও বিক্ষোভ হলেও পরে তা সড়কে ছড়িয়ে পড়ে। গত রোববার শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধকে কেন্দ্র করে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। এ সময় যানবাহনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ হয় এবং কয়েকজনকে আটক করা হয়। পরদিন আন্দোলনরত শ্রমিকদের মিরপুরের সড়কে নামতেই দেওয়া হয়নি। মিরপুর ১৪ এলাকায় শ্রমিকদের এক দফা ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করা হয়। পরে মিরপুর ২ এলাকায় আন্দোলনকারীরা জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে তাদের সরিয়ে দেয় পুলিশ। এর আগে বৃহস্পতিবার মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান পোশাক শ্রমিকরা। সেদিন দুই দফায় প্রায় ছয় ঘণ্টা সড়ক অবরোধের পর বিকালে শ্রমিকরা সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত