
অস্থায়ী কর্মী ভিসা দ্বিগুণ করছে যুক্তরাষ্ট্র। মৌসুমি ও অস্থায়ী শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। দেশটি আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অতিরিক্ত প্রায় ৬৫ এইচ-২বি অস্থায়ী কর্মী ভিসা দেবে বলে ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রতিবছর বিভিন্ন খাতে যে ৬৬ হাজার এইচ-২বি ভিসা দেওয়া হতো, তা প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে। নির্মাণ, পর্যটন ও আতিথেয়তা, ল্যান্ডস্কেপিং এবং সামুদ্রিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের মতো ব্যবসাগুলো এই ভিসার আওতায় উপকৃত হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ শ্রমিকের অভাবে যেসব প্রতিষ্ঠান গুরুতর আর্থিক ক্ষতির ঝুঁকিতে রয়েছে, তাদের জন্য এই অতিরিক্ত ভিসা উন্মুক্ত করা হবে।
২০২৫ সালে ক্ষমতায় ফিরেই ব্যাপক অভিবাসনবিরোধী অভিযান শুরু করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। অবৈধ অভিবাসীদের অপরাধী এবং সমাজের ওপর বোঝা হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। তার প্রশাসন বৈধ অভিবাসনের ক্ষেত্রেও কড়াকড়ি আরোপ করে—যার মধ্যে রয়েছে বিস্তৃত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এবং শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের আবেদন পুনর্বিবেচনা। শ্রমঘাটতির কারণে এইচ-২বি ভিসার সংখ্যা অতীতেও বাড়ানো হয়েছিল। সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমল এবং ট্রাম্পের আগের মেয়াদে (২০১৭-২০২১) নির্দিষ্ট সময়ে এই ভিসার সংখ্যা বাড়ানো হয়। মৌসুমি ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত নিয়োগকর্তারা দীর্ঘদিন ধরেই আরও বেশি ভিসার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। বিশেষ করে হোটেল ও নির্মাণ খাতের মালিকরা অভিযোগ করছেন, ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতির কারণে তারা প্রয়োজনীয় কর্মী পাচ্ছেন না।
যদিও অভিবাসন কমানোর পক্ষে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠী এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছে। তাদের দাবি, এই ভিসাগুলো যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমিকদের মজুরি কমিয়ে দেয় এবং স্থানীয় কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অন্যদিকে, প্রযুক্তি খাতে ব্যবহৃত এইচ-১বি ভিসার ক্ষেত্রে ট্রাম্প প্রশাসন আরও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় কর্মী নিতে চাইলে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর এক লাখ ডলার অতিরিক্ত ফি আরোপ করা হয়েছে, যা এরই মধ্যে আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
ফেডারেল রেজিস্টারের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অতিরিক্ত এইচ-২বি ভিসা কার্যকর করতে একটি অস্থায়ী বিধি আগামী মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে।