
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে নারায়ণগঞ্জে রাজনৈতিক তৎপরতা যেমন বেড়েছে, তেমনি আলোচনায় এসেছে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা প্রশ্ন। জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী, নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনে মোট ৭৯৭টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৬৩টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখে এসব কেন্দ্র ঘিরে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ২৩ লাখ ৬৬ হাজার ২৩২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১১ লাখ ৯৮ হাজারের কিছু বেশি, নারী ভোটার প্রায় সমানসংখ্যক এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন অল্পসংখ্যক। নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, অতীতের সহিংসতা, রাজনৈতিক সংঘাতের ইতিহাস, স্থানীয় প্রভাবশালী গোষ্ঠীর অবস্থান ও কেন্দ্রভিত্তিক ঝুঁকি বিবেচনায় এনে এই ১৬৩টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। আসনভিত্তিক হিসাবে নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে মোট ১২৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩২টি ঝুঁকিপূর্ণ। নারায়ণগঞ্জ-২ (আড়াইহাজার) আসনে ১১৮টি কেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ৪৪টি। নারায়ণগঞ্জ-৩ (সোনারগাঁ ও সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে মোট ২১০টি কেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ৩৯টি। নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা ও সদর উপজেলার অংশ) আসনে ১৭৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ২৭টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনে ১৬৩টি কেন্দ্রের মধ্যে ২১টি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ জেলা নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ আলমগীর হোসেন বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র মানেই সেখানে ভোট গ্রহণ করা যাবে না এমন নয়। এসব কেন্দ্রে বাড়তি নজরদারি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নতুন সীমানা অনুযায়ী নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনটি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ১১ থেকে ২৭ নম্বর ওয়ার্ড এবং বন্দর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। খসড়া ভোটার তালিকা অনুযায়ী, এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৮০ হাজার ২৮২ জন। এখানে ১৬৩টি কেন্দ্রের ৯৩৪টি কক্ষে ভোট গ্রহণ হবে। এই আসনে স্বতন্ত্রসহ একাধিক রাজনৈতিক দলের প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, যা প্রচার-প্রচারণাকে করেছে বহুমুখী ও প্রতিযোগিতামূলক। নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৩৫ হাজারের বেশি। ১৭৭টি কেন্দ্রে ১ হাজার ১৪টি কক্ষে ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি রয়েছে। এই আসনেও একাধিক স্বতন্ত্র ও দলীয় প্রার্থীর অংশগ্রহণে ভোটের মাঠ সরগরম। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে। সোনারগাঁয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার ১০টি ওয়ার্ড। ফলে ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ লাখ ৮৭ হাজারে। এখানে ২০১টি কেন্দ্রে ১ হাজার ১২৮টি কক্ষে ভোট গ্রহণ হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সীমানা পুনর্বিন্যাসের কারণে এই আসনে ভোটের সমীকরণ এবার ভিন্ন রূপ নিতে পারে।
আড়াইহাজার নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-২ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫৯ হাজারের বেশি। এখানে ১১৮টি কেন্দ্রে ভোট হবে। আর রূপগঞ্জ নিয়ে গঠিত নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখের কিছু বেশি, যেখানে ১২৯টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নারায়ণগঞ্জে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা এরমধ্যে চোখে পড়ছে। পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ ম্যাজিস্ট্রেটদের সক্রিয় থাকার কথা জানিয়েছে প্রশাসন। ভোটাররা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পারবেন এমন প্রত্যাশাই এখন সবার।
নির্বাচনের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে উত্তাপ। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারলেই নারায়ণগঞ্জে একটি গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।