
ঝিকরগাছা উপজেলার গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নের শ্রীচন্দ্রপুর গ্রামে জামায়াতের মহিলা, যুব জামায়াত ও শিবির কর্মীদের ওপর বিএনপি কর্মীরা হামলা চালিয়েছে। প্রতিবাদে ঝিকরগাছা বাজারে বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল করেছে মহিলা জামায়াত নেতাকর্মীরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল শনিবার বেলা ১২ টার দিকে ওই গ্রামে মহিলা জামায়াতের ১০-১২ কর্মী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোট চাইতে যান। এ সময় স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা মহিলাদের ভোটের প্রচারে বাধা প্রদান করেন। তাদের হেনস্থা করার চেষ্টা করে। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।
খবর পেয়ে যুব জামায়াত ও শিবিরের ৮-১০ জন নেতাকর্মী ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে ভোটের প্রচারে বাধা প্রদানকারী বিএনপি কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে নিবৃত করার চেষ্টা করেন। এ সময় তাদের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। ক্যামেরায় ঘটনার ছবি তোলার চেষ্টা করলে বিএনপি কর্মীরা শিবির নেতা মুস্তাকিমের ক্যামেরা ছিনিয়ে নেয়। মুস্তাকিম তাতে বাধা দিলে বিএনপি কর্মীরা তার ওপর আক্রমণ করে। হামলা সময় বিএনপি কর্মীদের হাতে এসএস পাইপ, বাঁশের লাঠি ও দা ছিল বলে জানান মুস্তাকিম। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। তিনি ঝিকরগাছা ইউনিয়নের ঝাওদিয়া গ্রামের কামাল ফারুকির ছেলে।
মোবাইল উদ্ধার করতে গেলে ১২-১৫ জনের সংঘবদ্ধ দল ধারালো দা, এসএস পাইপ, লোহার রড, বাঁশ হাতে নিয়ে আক্রমণ করে। মোবাইল ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেছে।
ঘটনায় আহত হয়েছেন শিবির নেতা মুস্তাকিম, বায়জিদ ও যুব জামায়াত নেতা জহিরুল ইসলাম। ঝিকরগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে তারা প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। প্রতিবাদে গতকাল বিকাল ৪টায় ঝিকরগাছা বাজারে বিশাল বিক্ষোভ মিছিল করেছে মহিলা জামায়াতের নেতাকর্মীরা। ঝিকরগাছা কামিল মাদ্রাসা প্রাঙ্গন থেকে মিছিল শুরু হয়। যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক প্রদক্ষিণ করে ব্রিজের ওপর থেকে ঘুরে আবারও মাদ্রাসায় এসে শেষ হয়।
এর আগে মিছিল পূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তৃতা করেন দাঁড়িপাল্লা প্রতিকের প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ। তিনি ভোটে বাধা প্রদানকারীদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। সমাবেশে বক্তৃতা করেন- নারী নেত্রী ফিরোজা ইয়াসমিন বিউটিসহ, জামায়াত, এনসিপি, শিবির নেতারা। এদিকে হামলার ঘটনা অস্বীকার করে বিএনপি প্রার্থী সাবিরা সুলতানা বলেন, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরে জামায়াত কর্মীরা আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর আক্রমণ করেছে।