
ছেলে সাদের খোঁজে ২০২৪ সালের ১০ আগস্ট ভোরে গাজা সিটির আল-তাবিন স্কুলের ধ্বংসস্তূপের মধ্য দিয়ে হাঁটছিলেন ইয়াসমিন মাহানি। পাশে তার স্বামী চিৎকার করছিলেন, কিন্তু তাদের ছেলের কোনো খোঁজ মিলছিল না।
আল জাজিরা আরবিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাহানি বলেন, মসজিদে ঢুকে দেখি মাংস আর রক্তের ওপর পা পড়ছে। একের পর এক হাসপাতাল ও মর্গে খুঁজেছি, কিন্তু সাদের কিছুই পাইনি। দাফন করার মতো কোনো অংশও না। এটাই ছিল সবচেয়ে ভয়ংকর। মাহানি সেই নারীদের একজন, যাদের প্রিয়জন ইসরায়েলের গাজায় ‘গণহত্যা’ চলাকালে হঠাৎ হারিয়ে গেছে।
আল-জাজিরা আরবির অনুসন্ধানী অনুষ্ঠান দ্য রেস্ট অব দ্য স্টোরিতে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গাজার সিভিল ডিফেন্স এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৮৪২ জন ফিলিস্তিনির নথি করেছে, যাদের ‘সম্পূর্ণ বাষ্পীভূত’ বলে বিবেচনা করা হয়েছে। তাদের দেহর কোনো অস্তিত্বই আর পাওয়া যায়নি। যা পাওয়া গেছে, তা শুধু রক্তের ছিটেফোঁটা বা মাংসের খুব ক্ষুদ্র অংশ। বিশেষজ্ঞ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, ইসরায়েল আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ তাপভিত্তিক ও থার্মোবারিক (ভ্যাকুয়াম বা অ্যারোসল) বোমা নিয়মিতভাবে ব্যবহার করছে, যেগুলো ৩ হাজার ৫০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের (৬ হাজার ৩৩২ ডিগ্রি ফারেনহাইট বেশি তাপ উৎপন্ন করতে সক্ষম।