ঢাকা শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

মাদুরো এখনও ভেনেজুয়েলার বৈধ প্রেসিডেন্ট : দেলসি

মাদুরো এখনও ভেনেজুয়েলার বৈধ প্রেসিডেন্ট : দেলসি

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর হাতে অপহরণের শিকার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এখনও ভেনেজুয়েলার বৈধ রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানের পদে আছেন। তার অনুপস্থিতির কারণে ভেনেজুয়েলার সরকারব্যবস্থায় সাংবিধানিক কোনো বড় রূপান্তর ঘটেনি। ভেনেজুয়েলার বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগুয়েজ সম্প্রতি বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেছেন, মাদুরোকে অপহরণের পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেল ও রাজনৈতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে চুক্তি হয়েছে ভেনেজুয়েলার, কিন্তু দেশ চলছে সংবিধান মেনেই। বিবিসিকে দেলসি রদ্রিগুয়েজ বলেন, ‘আমি আপনাদের বলতে পারি যে নিকোলাস মাদুরোই দেশের বৈধ প্রেসিডেন্ট। আমি আপনাদের এ কথা বলছি একজন আইনজীবী হিসেবে, কারণ আমি নিজে একজন আইনজীবী। প্রেসিডেন্ট মাদুরো এবং ফ্রার্স্ট লেডি সিলিয়া ফ্লোরেস— উভয়েই নিরপরাধ। আমি যে এখন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি, তা সাংবিধানিক বিধি মেনেই করছি।’

ভেনেজুয়েলা তেল সম্পদে খুবই সমৃদ্ধ। এ মূহূর্তে বিশ্বে যত ভূগর্ভস্থ তেল রয়েছে তার এক পঞ্চমাংশই আছে ভেনেজুয়েলার খনিগুলোতে। ভেনেজুয়েলায় কয়েকটি স্বর্ণের খনি আছে এবং সেগুলোতে স্বর্ণের মজুতের পরিমাণও অনেক। তবে বামপন্থি প্রেসিডেন্ট মাদুরোর সঙ্গে রক্ষণশীল রাজনীতিবিদ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সম্পর্ক খুবই খারাপ। ২০১৬ সালে যখন প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় এসে ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। ট্রাম্পের উত্তরসূরি জো বাইডেনের সময়েও এই নিষেধাজ্ঞা জারি ছিল।

গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারকাসে সামরিক অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে সরকারি বাসভবন থেকে অপহরণ করে যুক্তরাষ্ট্রের নিউিইয়র্ক সিটিতে নিয়ে আসে মার্কিন সেনাবাহিনী। তাদের উভয়ের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে এবং মার্কিন আদালতে সেই অভিযোগের বিচারের প্রস্তুতি চলছে। বর্তমানে মাদুরো এবং সিলিয়া নিউইয়র্ক সিটির ফেডারেল কারাগারি বন্দি আছেন। মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে অপহরণের পর ট্রাম্প জানিয়েছিলেন- ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদের তদারক এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র করবে। তিনি আরও বলেছিলেন, ভেনেজুয়েলার তেল উত্তোলন ও বিক্রয় ব্যবস্থাপনার জন্য মার্কিন কোম্পানিগুলোকে দায়িত্ব দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত