ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

ট্রাম্পকে অপসারণের দাবি, ভ্যান্সের নেতৃত্বে কমিশন চায় ডেমোক্র্যাটরা

ট্রাম্পকে অপসারণের দাবি, ভ্যান্সের নেতৃত্বে কমিশন চায় ডেমোক্র্যাটরা

কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যরা ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের সঙ্গে মিলে একটি কমিশন গঠনের প্রস্তাব দিয়েছেন। ওই কমিটি ২৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রেসিডেন্ট পদ থেকে অপসারণে কাজ করবে। অবশ্য তার আগে ওই কমিটিকে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে, ট্রাম্প আর দায়িত্ব পালনের জন্য উপযুক্ত নন। হাউস জুডিশিয়ারি কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট জেমি রাসকিন গত মঙ্গলবার এই প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্যের পর এই প্রস্তাব এল। তার এসব বক্তব্যের মধ্যে রয়েছে একটি সতর্কবার্তা, ইরান যদি তার দাবি মেনে না নেয়, তবে দেশটির ‘পুরো সভ্যতা ধ্বংস করা হবে’।

এ ছাড়া ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার একটি পোস্টে, যেখানে তিনি নিজেকে যিশুখ্রিষ্ট হিসেবে চিত্রিত করেছেন। সিআইএর সাবেক পরিচালক জন ব্রেনানসহ ডেমোক্রেটিক দলের আইনপ্রণেতা এবং অন্যান্য বিরোধীরা এসব মন্তব্য তুলে ধরে যুক্তি দিচ্ছেন, ৭৯ বছর বয়সী প্রেসিডেন্ট আর দেশ পরিচালনার জন্য উপযুক্ত নন। তারা চাচ্ছেন, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট যেন ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার সঙ্গে মিলে তাকে অপসারণের কাজ করুন।

রাসকিন এক বিবৃতিতে বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের পদের দায়িত্ব পালনের সক্ষমতার ওপর জনমনে আস্থা নজিরবিহীনভাবে কমে গেছে। তিনি পুরো সভ্যতা ধ্বংস করার হুমকি দিচ্ছেন, কংগ্রেসের যুদ্ধ ক্ষমতা লঙ্ঘন করে মধ্যপ্রাচ্যে বিশৃঙ্খলা ছড়াচ্ছেন, ক্যাথলিক চার্চের পোপকে আক্রমণাত্মকভাবে অপমান করছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেকে যিশুখ্রিষ্টের মতো চিত্রিত শিল্পকর্ম পোস্ট করছেন।

রাসকিন আরও বলেন, ‘আমরা এক বিপজ্জনক খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে আছি। ক্রমবর্ধমান অস্থির ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি থেকে মার্কিন জনগণকে রক্ষা করতে ২৫তম সংশোধনীর অধীন কংগ্রেসের দায়িত্ব পালন করা এখন জাতীয় নিরাপত্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।’ অন্য ৫০ জন ডেমোক্র্যাট হাউস আইনপ্রণেতা এই বিলে সহপৃষ্ঠপোষকতা করেছেন। তবে রিপাবলিকান-নিয়ন্ত্রিত হাউসে এটি সফল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ, সেখানে কিছু সদস্য প্রেসিডেন্টের নীতির বিরোধিতা করলেও তার কার্যক্ষমতা নিয়ে তেমন কোনো গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেননি।

সংবিধানের ২৫তম সংশোধনীতে বলা হয়েছে, কীভাবে মরে যাওয়া বা পদত্যাগ করা একজন প্রেসিডেন্টের স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন ভাইস প্রেসিডেন্ট। প্রেসিডেন্ট তার ‘ক্ষমতা ও দায়িত্ব পালনে অক্ষম’ বলে ভাইস প্রেসিডেন্ট ও মন্ত্রিসভার সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য যদি মনে করেন, তবে তারা প্রেসিডেন্টকে পদ থেকে সরিয়ে দিতে পারেন। ২৫তম সংশোধনীতে এই প্রক্রিয়ার কথা স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে।

রাসকিন উল্লেখ করেন, ভাইস প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের অনুমোদিত একটি অনির্দিষ্ট ‘সংস্থার’ সঙ্গে মিলেও এই সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তার প্রস্তাবটি প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য একটি কমিশন গঠন করবে, যা কংগ্রেসের রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট নেতাদের মাধ্যমে নির্বাচিত চারজন অবসরপ্রাপ্ত নির্বাহী শাখা কর্মকর্তা (সাবেক প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রপতি, ভাইস প্রেসিডেন্ট বা ক্যাবিনেট সচিব) নিয়ে গঠিত হবে। কংগ্রেসের নেতারা এই সংস্থায় কাজ করার জন্য চারজন চিকিৎসক এবং চারজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞকেও নির্বাচন করবেন, যারা তাদের চেয়ারম্যান হিসেবে একজন ব্যক্তিকে বেছে নেবেন। সদস্যদের কেউই বর্তমান সরকারি কর্মচারী বা নির্বাচিত প্রতিনিধি হতে পারবেন না।

রাসকিন বলেন, ‘১৯৬৭ সালে যখন সংবিধানে ২৫তম সংশোধনী যুক্ত করা হয়, তখনই কংগ্রেসের উচিত ছিল এই সংস্থা গঠন করা। আমাদের কংগ্রেসে ৫৩৫ জন সদস্য আছেন, কিন্তু প্রেসিডেন্ট মাত্র একজন। সরকারের সফল ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য এই সংস্থা একটি প্রয়োজনীয় উপাদান।’ জো বাইডেন ২০২৪ সালে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে তার বিপর্যয়কর বিতর্ক অনুষ্ঠানের পর একই ধরনের দাবির মুখে পড়েছিলেন, যা তার বয়স নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত তিনি নির্বাচনি লড়াই থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন।

ওই সময় বেশ কয়েকজন রিপাবলিকান হাউস সদস্য তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসকে মন্ত্রিসভার বৈঠক ডেকে বাইডেনকে অপসারণের আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেগুলোতে কখনো ভোটগ্রহণ করা হয়নি। ট্রাম্প সেই বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হ্যারিসকে হারিয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত