ঢাকা সোমবার, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৯ মাঘ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

উদ্বেগ থাকলেও ‘সঠিকভাবে’ নির্বাচন করতে প্রস্তুত সরকার

বললেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা
উদ্বেগ থাকলেও ‘সঠিকভাবে’ নির্বাচন করতে প্রস্তুত সরকার

নির্বাচনকালীন সহিংসতা নিয়ে ‘উদ্বেগ’ থাকার কথা তুলে ধরে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেছেন, সরকার তা নিরসনের চেষ্টা করবে এবং সঠিকভাবে নির্বাচন করার জন্য প্রস্তুত আছে। গতকার রোববার ঢাকায় নির্বাচনকালীন রিপোর্টিং নিয়ে সাংবাদিকদের একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন। নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে বিদেশিদের উদ্বেগ নিরসনে সরকারের উদ্যোগ জানতে চেয়ে ওই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনকালীন সহিংসতা নিয়ে আমাদের নিজেদেরও উদ্বেগ আছে, আমরা সেটা সমাধান করার চেষ্টা করছি। ‘এটা যে কোনো নির্বাচনের আগেই থাকে এবং সেরকমই আছে। আমরা প্রতিনিয়ত চেষ্টা করছি, যাতে এগুলি বাড়াবাড়ি কোনো কিছু না হয়।’ নির্বাচনি ‘জিরো-সাম’ খেলায় কেউ হারতে চায় না, সে কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় মন্তব্য করে উপদেষ্টা বলেন, ‘এমনকি যদি দলের পক্ষ থেকে ওইরকম চাপ নাও থাকে, ব্যক্তি পর্যায়ে এ ধরনের ঘটনা ঘটে এবং এটা আজকে প্রথম না, প্রতিনিয়ত ঘটেছে, প্রতি নির্বাচনে ঘটেছে; আমাদেরতো বয়সও কম হয় নাই, অভিজ্ঞতাও কম না, দেখেছি। এটা যতটুকু সম্ভব নিরসনের চেষ্টা আমরা করে যাব এবং নির্বাচন সঠিকভাবে হওয়ার বিষয়ে প্রস্তুত বলে আমি মনে করি।’

মিডিয়া রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (এমআরডিআই), ডিপ্লোম্যাটিক করেসপন্ডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ (ডিক্যাব) এবং জাতিসংঘের ‘ব্যালট’ এবং ‘ড্রিপ’ প্রকল্প যৌথভাবে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে। নির্বাচনকালীন পরিবেশকে ‘নাজুক ও অস্থির’ হিসেবে বর্ণনা করে যুক্তরাষ্ট্রের দুই কংগ্রেস সদস্যের চিঠি পাঠানোর প্রসঙ্গ টেনে করা আরেক প্রশ্নে তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘আমি আপনাদেরকে আগেই বলেছি যে, কোনো নির্বাচনই সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ হয় নাই। আমি আজকে ওই ১৯৯১ সালেরটা দেখে বললাম।’‘

‘আমি ভাবছিলাম যে ৯১টা বোধহয় খুব শান্তিপূর্ণ, পরিপূর্ণ ছিল। আমি তো বলছি যে কিছু অস্থিরতা আছে, কিছু অস্থিরতা থাকবে। একেকজন একেকভাবে বিচার করবে। সেটাকে আমাদের বিবেচনায় নিলে চলবে না। আমরা আমাদের মত করে যেভাবে এগোচ্ছি, নির্বাচনের দিকে যাব। নির্বাচন হবে।’

ভারতে অবস্থান করা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের চালানো ‘নো বোট, নো ভোট’ প্রচারের প্রসঙ্গ টেনে এক প্রশ্নে উপদেষ্টা বলেন, জামায়াত, জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ বিভিন্ন দল ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাচ্ছে। বিএনপির দিক থেকে যে অস্পষ্টতা ছিল, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্যের পর তা ‘দূর হয়েছে’।

গণভোটের প্রশ্নে থাকা চারটি বিষয় না পড়ে দলীয় অবস্থান অনুযায়ী মানুষ ভোট দেবে মন্তব্য করে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘তো সেই হিসাবে এখন মেজর তিন-চারটা পার্টি সবাই কিন্তু হ্যাঁর পক্ষেই বলেছে। কাজেই আমার মনে হয় না, এটা নিয়ে (আওয়াম লীগের প্রচার) বড় কোনো সমস্যা সৃষ্টি হবে।’

‘কিছু লোক ভোট দিতে নাও যেতে পারে, এটা সবসময় হয়। প্রতি নির্বাচনে কিছু মানুষ ভোট দিতে যায় না। এবার কিছু বেশি লোক ভোটদানে বিরত থাকবে কিনা, এটা আমি বলতে পারব না। তবে ১৯৯১ এর নির্বাচনে ৫৫ শতাংশ ভোট পড়েছিল। আমার তো মনে হয়, এর চেয়ে বেশি ভোট পড়বে এবার, দেখা যাক।’

বাংলাদেশে নির্বাচন নিয়ে বিদেশিদের তৎপরতা ও বক্তব্যের প্রসঙ্গ ধরে আরেক প্রশ্নে তৌহিদ হোসেন বলেন, প্রত্যেক দেশেই ইচ্ছাকৃত অথবা অনিচ্ছাকৃতভাবে কিছু ট্র্যাডিশন দাঁড়িয়ে যায়। ভারতের যেমন এক ধরনের ট্র্যাডিশন আছে, আমাদের দেশে এক ধরনের ট্র্যাডিশন দাঁড়িয়ে গেছে এবং এটা আমাদের কালচারের অংশ হয়ে গেছে যে, এখানকার যে কূটনৈতিক কমিউনিটি আছেন, তারা এ নিয়ে কথাবার্তা বলেন এবং আমার কাছে অনেক সময় মনে হয়েছে যে, আমাদের সমাজেরও একটা বড় অংশই চায় যে তারা কথা বলুক। কাজেই তাদেরকে আমি দোষ দিতে পারি না; এটা আমাদের সংস্কৃতির অংশ হয়ে গেছে।

ঢাকায় জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার অনুষ্ঠানে বলেন, ‘বাংলাদেশ যখন একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনি মাইলফলকের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন সাংবাদিকদের ভূমিকা জরুরি এবং অপরিহার্য। শুধু আইন ও প্রতিষ্ঠান দিয়ে নয়, বরং সচেতন নাগরিক দিয়ে গণতন্ত্র টেকসই হয়। আর সেটার কেন্দ্রে সাংবাদিকরা রয়েছেন।’

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত