ঢাকা সোমবার, ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ২৩ চৈত্র ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

সুসংবাদ প্রতিদিন

টেকনাফে পান চাষে স্বাবলম্বী কৃষক

টেকনাফে পান চাষে স্বাবলম্বী কৃষক

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পানের বাম্পার ফলন হয়েছে। অন্য বছরের তুলনায় পানের অধিক উৎপাদন ও দাম ভালো পাওয়ায় খুশি চাষিরা। চলতি মৌসুমে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়ন, সদর, বাহারছড়া ইউনিয়ন, হোয়াইক্যং ইউনিয়ন ও সাবরাং ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ৫০০ হেক্টর জমিতে পান চাষ করেছে চাষিরা।

একাধিক কৃষকের সঙ্গে আলাপকালে জানা যায়, অন্যন্যা বছরের চেয়েও চলতি বছরের পানের ব্যাপক ফলন হয়েছে। অল্প পুঁজি, নিয়মিত শ্রম ও পরিচর্যার ফলে পান চাষ বেশ লাভজনক হওয়ায় অনেক চাষিরা নিজের জমি না থাকলেও অন্যের জমি লিজ কিংবা নগদ রেখে পান চাষ করছেন। এ কাজে পুরুষদের পাশাপাশি থেমে নেই ঘরের মহিলারাও। পানের বরজ করতে ছন, বাঁশ, খড়সহ যেসব উপকরণের প্রয়োজন হয় তা সহজেই এলাকায় পাওয়া যায়। ফলে এসব উপকরণ সংগ্রহ করতে তাদের ঝামেলা পোহাতে হয় না। সরকারি বেসরকারি সহযোগিতা ফেলে এ অঞ্চলে পান চাষ আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠতো।

টেকনাফ সদর ইউনিয়নের বড় হাবিব পাড়া এলাকার পান চাষি আবদুল আমিন জানান, বর্তমানে তার ৩০০ বরজ (২০০ লাইন) রয়েছে। অন্য বছরের তুলনায় এ বছর পানের বাম্পার ফলন হয়েছে। তার উৎপাদিত পান নিয়মিত পৌরসভার বাস স্টেশন বাজারে পাইকারি বিক্রি করেন। সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতি বছর পান থেকে ৪/৫ লাখ টাকা আয় হয়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে পান বিক্রি করে এবছরও বেশ লাভবান হওয়া হবেন বলে আশা। প্রতি মাসে তার বরজে ২৫-৩০ জন শ্রমিক কাজ করে। ফলে পান চাষ করে নিজে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি বহু লোকের কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি হয়।

বাহারছড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ শিলখালী পান চাষি জসিম উদ্দিন বলেন, আমি প্রায় ২০ বছর ধরে পান চাষ করি। আমার পরিবারের আয়ের অন্যতম উৎস হলো পান চাষ। পান চাষ করে প্রতি মাসে প্রায় ৬০/৭০ হাজার টাকা আয় করি। উপজেলা কৃষক অফিসের সার্বিক সহযোগিতায় চলতি বছর পান চাষের সাফল্য পেয়েছি।

সাবরাং সিকদার পাড়া বাজারের পান ব্যবসায়ী শওকত আলী বলেন, তিনি প্রায় এক যুগেরও বেশি সময় ধরে পানের পাইকারি ব্যবসায়ের সঙ্গে জড়িত। এ অঞ্চলের গাছ পান সুস্বাদু হওয়ায় দেশের বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি হয়। অন্যান্য বছরের চেয়ে এ বছর পানের বেশ চাহিদা রয়েছে এবং দামও ভালো পাচ্ছে চাষিরা। বড় সাইজের প্রতি বিড়া ৮০০, মাঝারি সাইজের প্রতি পাই ৭০০, ছোট সাইজের প্রতি বিড়া ৫০০/ ৬০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির বলেন, এ অঞ্চলে প্রায় ২৫০ জন চাষি ৮৬ একর জমিতে পান চাষ করে। পান একটি অর্থকরী ফসল। এ অঞ্চলে পান চাষ বৃদ্ধি করার জন্য কৃষকদের আরও উৎসাহ ও মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন পরামর্শ দেওয়া হবে। যাতে পান চাষ করে কৃষক স্বাবলম্বী হতে পারে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত