
পারস্য উপসাগরীয় দেশ ওমানে একটি গাড়ির ভেতর থেকে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার চার প্রবাসী ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে দেশটির পুলিশ। রয়্যাল ওমান পুলিশের বরাত দিয়ে টাইমস অব ওমানে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, দক্ষিণ আল বাতিনা গভর্নরেট পুলিশের নেতৃত্ব আল-মাসনা গভর্নরেট এলাকায় গত বুধবার রাতে একটি গাড়ির ভেতর থেকে ওই চারজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ বলছে, গাড়ি চালু থাকা অবস্থায় এটির এক্সজস্ট থেকে নির্গত কার্বন মনোক্সাইড গ্যাসে শ্বাসগ্রহণের ফলে ওই চারজনের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মারা যাওয়া চার সহোদর হলেন- রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বন্দাররাজা পাড়ার প্রয়াত মোহাম্মদ হাসানের ছেলে রাশেদুল ইসলাম, সাহেদুল ইসলাম, মো. সিরাজ ও মো. শহিদ। তাদের ছোট ভাই মো. এনাম বলেছেন, তারা পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে চারজনই দীর্ঘদিন ধরে ওমানে ছিলেন। তাদের মধ্যে সিরাজ ও শহিদ অবিবাহিত, ১৫ মে তাদের দেশে ফেরার কথা ছিল। দেশে আসার প্রস্তুতিতে কেনাকাটার জন্য চার ভাই একসঙ্গে বের হয়েছিলেন। কেনাকাটা শেষে ফেরার পথে গাড়ির ভেতরেই তাদের মৃত্যু হয়।
স্থানীয় প্রবাসীরা জানান, বুধবার সন্ধ্যায় চার ভাই ওমানের বারকা এলাকা থেকে মুলাদাহর উদ্দেশ্যে রওনা হন। রাত ৮টার পর তাদের একজন এক আত্মীয়কে ভয়েস মেসেজ পাঠিয়ে অসুস্থতার কথা বলেন। নিজেদের লোকেশন পাঠিয়ে বলেন, গাড়ি থেকে বের হওয়ার মত অবস্থাও তাদের নেই। পরে একটি ক্লিনিকের সামনে পার্ক করা গাড়ির ভেতরে চারজনকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাড়ির দরজা খুলে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।
চট্টগ্রাম অ্যাসোসিয়েশন ইন ওমানের সভাপতি মোহাম্মদ ইয়াসিন চৌধুরীর বরাত দিয়ে টাইমস অব ওমান বলছে, মৃত চারজনেরই বয়স ২৫ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। তাদের মধ্যে একজন নিজওয়ায়, আরেকজন সুওয়াইকে এবং বাকি দুজন মুলাদাহে বসবাস থাকতেন।
এ ঘটনার পর বিষাক্ত গ্যাসের কারণে শ্বাসরোধের ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে রয়্যাল ওমান পুলিশ আবদ্ধ অবস্থায় যানবাহনের ভেতরে না ঘুমাতে এবং ঘুম চোখে যানবাহন চালানো থেকে বিরত থাকতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।