ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

সুসংবাদ প্রতিদিন

আম্রপালির বাগানে ফিরছে সচ্ছলতা

আম্রপালির বাগানে ফিরছে সচ্ছলতা

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার নশাসন ইউনিয়নের শাওড়া গ্রামে গড়ে উঠেছে সাফল্যের এক নতুন সম্ভাবনার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। প্রায় সাড়ে ৬ একর জমিজুড়ে আম্রপালির বাগান করে এলাকায় আলোচনায় এসেছেন উদ্যোক্তা আলমগীর হোসেন। তার এই উদ্যোগ এখন শুধু অর্থনৈতিক সাফল্যের গল্পই নয়, নতুন উদ্যোক্তাদের জন্যও হয়ে উঠেছে অনুপ্রেরণার প্রতীক। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারাও বলছেন, পরিত্যক্ত বা কম ব্যবহৃত জমিতে উচ্চমূল্যের ফসল নিরাপদ আম উৎপাদনের এমন উদ্যোগ স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

নড়িয়া উপজেলার শাওড়া গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে আম্রপালির বাগান যেন বদলে দিয়েছে পুরো এলাকার চিত্র। ২০২০ সালে প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে এই বাগান গড়ে তোলেন উদ্যোক্তা আলমগীর হোসেন। শুরুতে ছিল নানা প্রতিকূলতা, শঙ্কা আর অনিশ্চয়তা। তবে ধৈর্য, পরিশ্রম এবং আধুনিক নিরাপদ পরিচর্যার মাধ্যমে এখন সেই বাগানই হয়ে উঠেছে সফলতার এক নতুন দৃষ্টান্ত।

গত দুই বছরে প্রায় ১০ লাখ টাকার আম বিক্রি করেছেন তিনি। চলতি মৌসুমে গাছে ভালো ফলন হওয়ায় এবার ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা বিক্রির আশা করছেন এই উদ্যোক্তা। বাগানে রাসায়নিকের ব্যবহার কমিয়ে সেক্স ফেরোমেন ফাঁদসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে আমের পরিচর্যা করা হচ্ছে।

উদ্যোক্তা আলমগীর হোসেন বলেন, শুরুর দিকে অনেকেই এই এলাকায় এত বড় আমের বাগানের সফলতা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু আমি হাল ছাড়িনি। কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পরিচর্যা করেছি নিয়মিত। তারই ফলশ্রুতিতে এবার আলহামদুলিল্লাহ খুব ভালো ফলন হয়েছে। আশা করছি বাজার দর স্বাভাবিক থাকলে ও কোন অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি না হলে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকার আম বিক্রি করতে পারব ইনশাআল্লাহ। আমার বাগানের এই সফলতা আশপাশের মানুষের মাঝেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। অনেকেই এখন উদ্যোক্ত হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।

শাওড়া গ্রামের যুবক মো: আলী আহম্মেদ দেওয়ান, আম বাগানটি যেখানে গড়ে উঠেছে সেখানে আগে তেমন একটা ফসল হতে দেখা যায়নি। প্রথমে আলমগীর ভাই যখন বাগানটি করে তখন আমাদের মধ্যে একটা আশংকা তৈরি হয়েছিল। এত টাকা ব্যয় করে তিনি কতটুকু সফলতা অর্জন করতে পারবেন। কিন্তু ধীরে ধীরে তার বাগানের এখনকার পরিস্থিতি আমাদের সবাইকে অবাক করে দিয়ে বিস্ময় তৈরি করেছে। তার অক্লান্ত পরিশ্রম আর হাল না ছাড়ার মানসিকতা আজ আমাদের সামনে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এত সুন্দর আমের বাগান আগে আমাদের এলাকায় ছিল না। এটা দেখে আমরাও অনুপ্রাণিত।

একই গ্রামের মো: আলীম মুন্সী বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাজারে ভেজালমুক্ত ফলমূল পাওয়াটা অত্যন্ত দুরূহ ব্যাপার। আলমগীর ভাইয়ের মতো যদি নতুন নতুন উদ্যোক্তা যদি নিরাপদ বাগান করেন তাহলে নিরাপদ ফলফলাদি পাওয়া আমাদের জন্য অনেক সহজ হবে। এতে করে আমাদের স্বাস্থ্য ঝুঁকিও অনেক কমে আসবে।

বাগানের পরিচর্যাকারী দিনাজপুরের মো: শাহীন বলেন, আম্রপালির বাগান করাটা বেশ ব্যয়সাধ্য। তবে সঠিক পরিচর্যা ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে একটি আম্রপালির বাগান থেকে ১০ থেকে ১২ বছর পর্যন্ত ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। আমের বাগান অত্যন্ত লাভজনক একটি কৃষি কাজ।

শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোস্তফা কামাল হোসেন বলেন, প্রচলিত কৃষির পাশাপাশি উচ্চমূল্যের ফল চাষে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখে নিরাপদ ও বাণিজ্যিকভাবে ফল উৎপাদনে আমরা কৃষকদের পরামর্শ ও সার্বিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছি। এ ধরনের উদ্যোগ শুধু স্থানীয় অর্থনীতিকেই সমৃদ্ধ করবে না বাজারে নিরাপদ ফল সরবরাহেও কার্যকরী ভূমিকা রাখবে। তাছাড়া পরিত্যক্ত বা ফসল তুলনামূলক কম হয় এমন জমিকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিত ফল চাষ বদলে দিতে পারে একজন মানুষের ভাগ্য। আলমগীর হোসেনের আম্রপালির বাগান তারই এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ। তাছাড়া এধরনের উদ্যোগের মাধ্যমে শুধু উদ্যোক্তা নিজেই অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হন না, এলাকার বেকার যুকবদেরও কর্মমুখী করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে থাকেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত