
সিরাজগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় এবার গ্রীষ্মকালীন করলা চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। পাশাপাশি বাজারে করলার দাম ভালো থাকায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে। বিশেষ করে মাচা পদ্ধতিতে করলা চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। এতে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক অনেক কৃষকের সচ্ছলতা ফিরছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জেলার ৯টি উপজেলার চরাঞ্চলসহ বিভিন্ন স্থানে করলাসহ নানা ধরনের সবজি চাষের জন্য ৮ হাজার ৫০০ হেক্টর জমির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে কৃষকরা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি জমিতে এসব সবজি চাষ করেছেন। এর মধ্যে শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, রায়গঞ্জ, কামারখন্দ ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বেশি চাষাবাদ হয়েছে। যমুনা নদীর চরাঞ্চলেও ব্যাপকভাবে করলা চাষ করা হয়েছে।
গ্রীষ্মকালীন সবজির মধ্যে করোলা, বেগুন, ঢ্যাঁড়স, পটোল, কুমড়া, মিষ্টি কুমড়া, লাউ, ডাঁটা, শিম ও বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি উল্লেখযোগ্য। প্রতি বছরের মতো এবারও প্রায় তিন মাস আগে কৃষকরা এসব সবজি চাষাবাদ শুরু করেন। এছাড়া জেলার বিভিন্ন স্থানে করোলাসহ হাইব্রিড সবজি সারা বছরই চাষ হয়ে থাকে। শস্যভান্ডার হিসেবে পরিচিত উল্লাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা সবজি চাষ করে বেশি লাভবান হয়েছেন। একই সঙ্গে সবজির হাট-বাজারে দাম ভালো থাকায় কৃষকদের মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, দফায় দফায় বর্ষণের কারণে অনেক সবজির বাগান নষ্ট হয়েছে। তবে গ্রীষ্মকালীন করোলাসহ বিভিন্ন সবজি চাষে খরচ তুলনামূলক কম এবং লাভ বেশি। এ কারণে এ অঞ্চলের কৃষকেরা লাভজনক এ চাষাবাদের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। যমুনা নদীর তীরবর্তী কাজিপুর, বেলকুচি, চৌহালী, শাহজাদপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার চরাঞ্চলে করলাও বিভিন্ন সবজির বাম্পার ফলন হয়েছে। এছাড়া বাড়ির আঙিনা, পুকুরপাড় এবং গ্রামাঞ্চলের সরকারি-বেসরকারি রাস্তাঘাটের আশপাশেও বিভিন্ন সবজি চাষ করা হচ্ছে। এসব চাষাবাদের রক্ষণাবেক্ষণে গ্রামাঞ্চলের গৃহবধূরাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। এদিকে চরাঞ্চলসহ সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার খোকশাবাড়ি, বহুলী, রাজাপুর, জগৎগাঁতী, শিয়ালকোল, ধিতপুর, রঘুরগাতী, খাগাসহ বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকেরা মাচা পদ্ধতিতে গ্রীষ্মকালীন করলা চাষ করেছেন। প্রায় তিন মাস ধরে জমি থেকে করলাউৎপাদন শুরু হয়েছে। বর্তমানে প্রতি কেজি করলাখুচরা বাজারে ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বিশেষ করে টিয়া করোলার চাহিদা বেশি। বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকরা এ চাষে আরও বেশি ঝুঁকে পড়ছেন। কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় অনেক ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক করলা চাষে আগ্রহী হয়েছেন। এ বিষয়ে কৃষি বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কৃষিবিদ কর্মকর্তা আলোকিত বাংলাদেশকে বলেন, এবার প্রান্তিক কৃষকদের গ্রীষ্মকালীন বিভিন্ন সবজি চাষে বীজ ও সার দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় কৃষি বিভাগও এ চাষাবাদে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছে। বিশেষ করে চরাঞ্চলের কৃষকরা করলা চাষে লাভবান হয়েছেন। করোলাসহ এসব সবজির বাজার ভালো থাকায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে।