
দেশের তিন জেলায় পানিতে ডুবে ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার পাবনায় বাড়ির পাশের মাঠে জমে থাকা বর্ষার পানিতে গোসল করতে গিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়। একই দিন কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদীতে গোসল করতে নেমে দুই শিশু এবং নেত্রকোনার কলমাকান্দায় পুকুরের পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এসব ঘটনায় ওইসব এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ। প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো—
পাবনা: পাবনা সদর উপজেলার চরতারাপুর ইউনিয়নের নবীন বাজার এলাকার দাশপাড়া গ্রামে বাড়ির পাশের মাঠে জমে থাকা বর্ষার পানিতে ডুবে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত তিন শিশু হলো— দাশপাড়া গ্রামের শিমুল মল্লিকের মেয়ে সুমি খাতুন (৭) এবং একই গ্রামের মো. আশরাফুল ইসলাম (আশরাফ)-এর ছেলে খালিদ হোসেন (৮) ও মেয়ে আফিয়া খাতুন (৬)। তারা স্থানীয় একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষার্থী ছিল। স্থানীয় লোকজন জানান, শুক্রবার দুপুরে বাড়ির পাশের মাঠে জমে থাকা বর্ষার পানিতে গোসল করতে নামে শিশুরা। একপর্যায়ে প্রথমে একজন পানিতে তলিয়ে যায়। তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে পরপর আরও দুজন পানিতে ডুবে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তিন শিশুকে উদ্ধার করে দ্রুত সুজানগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তাদের মৃত্যু হয়। পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
কক্সবাজার: কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপে নাফ নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শাহপরীরদ্বীপ জেটিঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিখোঁজের প্রায় চার ঘণ্টা পর তাদের উদ্ধার করা হয়। নিহত দুই শিশু হলো— শাহপরীরদ্বীপ উত্তরপাড়া এলাকার মোহাম্মদ উল্লাহর ছেলে মোহাম্মদ নিশান (১২) ও একই এলাকার কেফায়েত উল্লাহর ছেলে আরজিন (১০)।
নেত্রকোনা: নেত্রকোনার কলমাকান্দায় পুকুরের পানিতে ডুবে আব্দুল্লাহ নামের সাড়ে চার বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার উপজেলার চিনাহালা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আব্দুল্লাহ চিনাহালা এলাকার কাজল মিয়ার ছেলে। স্থানীয় লোকজন জানান, পরিবারের লোকজনের অজান্তে খেলার ছলে পুকুরের পানিতে পড়ে যায় শিশুটি। পরে পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষণা করেন। কলমাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. সামসাদ সারোয়ার সামিন শিশুটির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।