ঢাকা শনিবার, ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ১৭ মাঘ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

আনসার-ভিডিপির উদ্যোগে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ফ্রি চিকিৎসাসেবা

আনসার-ভিডিপির উদ্যোগে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য ফ্রি চিকিৎসাসেবা

গণপ্রতিরক্ষার অঙ্গীকারকে মানবিক কল্যাণে রূপান্তর করে প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর বিশেষ উদ্যোগে আয়োজিত ‘ফ্রি চিকিৎসাসেবা’ কর্মসূচির প্রথম পর্ব সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে মাঠপর্যায়ের ভিডিপি সদস্য-সদস্যা ও সাধারণ জনগণের স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বাহিনীর জনবান্ধব ও গণমুখী ভূমিকা আরও সুদৃঢ় করেছে এই ব্যতিক্রমী কর্মসূচি। গত বৃহস্পতিবার কক্সবাজার জেলার মহেশখালীতে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে সদর দপ্তর থেকে ভার্চুয়্যালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য প্রদান করেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম আগেও ছিল, তবে এবারের উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল সেবার গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসাসেবা প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া।’

সমাপনী বক্তব্যে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে আনসার ও ভিডিপির সর্বাধিক সংখ্যক সদস্য-সদস্যা দায়িত্ব পালন করবেন। এই প্রেক্ষাপটে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া চিকিৎসাসেবা কর্মসূচিতে সেবাগ্রহীতাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ও উচ্ছ্বাস বাহিনীকে জনগণের আরও কাছে নিয়ে এসেছে এবং জনআস্থার ভিত্তিকে সুদৃঢ় করেছে। মহাপরিচালক বলেন, দেশের প্রত্যন্ত ও দুর্গম এলাকায় পৌঁছানোর যে বিরল সক্ষমতা এই বাহিনীর রয়েছে, তা প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় এক নতুন মাত্রা যুক্ত করেছে। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বাহিনীর ৬০ লক্ষাধিক সদস্য-সদস্যা ও তাদের পরিবারসহ প্রায় তিন কোটি মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আনসার-ভিডিপি একাডেমির হাসপাতালকে এই কার্যক্রমের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত করা হবে।’ স্বাস্থ্যসেবাকে মানব নিরাপত্তার অপরিহার্য উপাদান হিসেবে উল্লেখ করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আনসার ও ভিডিপির এই শক্তিশালী জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ সামাজিক নিরাপত্তা বলয়কে আরও সুদৃঢ় করবে।

অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম রেঞ্জ কমান্ডার ড. মো. সাইফুর রহমান জানান, সাতটি জেলার ১৫টি মেডিকেল ক্যাম্পের জন্য সেসব এলাকা নির্বাচন করা হয়েছে, যেখানে মানুষের চিকিৎসাসেবা সংকুচিত। তিনি বলেন, ‘মহাপরিচালকের মানবিক প্রশাসনের আওতায় ‘সঞ্জীবন’ প্রকল্পের মাধ্যমে সাধারণ চিকিৎসা, শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য এবং চক্ষু চিকিৎসাসহ বিভিন্ন সেবা দুর্গম এলাকায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে, যা ‘সুশাসনের জন্য প্রশাসন’ ধারণার একটি বাস্তব ও সফল প্রতিফলন। কর্মসূচির অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বসুন্ধরার আদ্-দীন মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও নিউরোসার্জন ডা. মোহাম্মদ ইলিয়াস বলেন, ‘পোর্টেবল ল্যাব, জেনারেটর এবং অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে এই চিকিৎসাসেবা প্রদান বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মানবিক প্রশাসনের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগের ফলে ভবিষ্যতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের জন্য উন্নত চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য হবে।

সমন্বয়কারী প্রতিষ্ঠান মৃদুল’স কমিউনিকেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মৃদুল হাসান বলেন, আধুনিক চিকিৎসা বঞ্চিত দুর্গম এলাকাগুলোতে- বিশেষ করে নারীদের জন্য মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে পারা ছিল অত্যন্ত আত্মতৃপ্তিদায়ক ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অনন্য অভিজ্ঞতা। উল্লেখ্য, এই কর্মসূচির প্রথম পর্বে দেশের সাতটি জেলার- বগুড়া, জামালপুর, ভোলা, লালমনিরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা ও কক্সবাজার- প্রত্যন্ত এলাকায় মোট ৮,৭২৭ জন রোগীকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছেন। প্রতিটি মেডিকেল ক্যাম্পে আধুনিক হাসপাতালের আদলে ৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে ডায়াগনস্টিক রিপোর্ট প্রদানের ব্যবস্থা ছিল, যা গ্রামীণ জনগণের জন্য এক নতুন ও ইতিবাচক অভিজ্ঞতা সৃষ্টি করেছে। সূত্র: সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত