
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের ভোটকেন্দ্রে নিরপেক্ষ ও সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। গতকাল সোমবার সকালে রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর নির্বাচনি প্রস্তুতিমূলক সমাবেশে এ নির্দেশনা দেন তিনি। বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের ভোটকেন্দ্রে নিরপেক্ষ ও সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সন্ত্রাসীদের কোনো ধরনের চাপ বা হুমকিতে ভয় পাওয়া যাবে না। বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হলেও কোনোভাবেই ভোটকেন্দ্র ত্যাগ করা যাবে না। সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
আনসার মহাপরিচালক জানান, এবারের নির্বাচনে সারাদেশে মোট ৫ লাখ ৫৬ হাজার ১২৭ জন আনসার ও ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে ঢাকায়, যেখানে ঢাকা মহানগরের ৪টি জোনের ৩৬ থানায় ২১৩১টি ভোটকেন্দ্রে ২৭ হাজার ৭০৩ জন সদস্য নিয়োজিত থাকবেন। তিনি আরও জানান, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ১৩ জন করে প্রশিক্ষিত আনসার ও ভিডিপি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের মূল দায়িত্ব হবে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, যেকোনো ধরনের উসকানি বা বিশৃঙ্খলা প্রতিহত করা এবং নির্বাচন কমিশন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর রিপোর্টিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক সমন্বয় বজায় রাখা। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি হলে সুরক্ষাঅ্যাপের মাধ্যমে বিষয়টি জানাতে হবে। কোনো জায়গায় ইন্টারনেট সংযোগ না পেলে এই সুরক্ষাঅ্যাপ ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াই কাজ করবে।
আনসার ও ব?্যাটেলিয়নের এই মহাপরিচালক বাহিনীটির সদস্যদের উদ্দেশে আরও বলেন, এই নির্বাচন এখন আগের নির্বাচনের মতো নয় আপনারা দাঁড়িয়ে থাকবেন অন্যরা ব্যালটে সিল মারবে। আপনাকে যদি কেউ কেনার চেষ্টা করে সেটা করা যাবে না। কারণ এটা এই দেশের ১৮ কোটি মানুষের আমানত।
আমানতের খেয়ানত করলে স্বয়ং আল্লাহ তায়ালাও তাকে ছাড় দেবে না। আগামীর নতুন বাংলাদেশের এই আনসার ভিডিপির এখান থেকেই শুরু হবে। আজকের মতো এ রকম মহামিলন আগে কখনও হয়নি। আগে আনসারের কাজ ছিল জেলা উপজেলায় ভোটের একদিন আগে ব্যালট বাক্স মাথায় করে নিয়ে যাওয়া। এটাই ছিল আনসার ও ভিডিবি। সমাবেশে আনসার মহাপরিচালক বলেন, দেশের মানুষ যেন শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন উপভোগ করতে পারে সে লক্ষ্যেই আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে।