
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশের জ্বালানি বাজারেও। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটতে পারে এমন আশঙ্কায় রাজশাহীতে হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে পেট্রোল ও অকটেনের চাহিদা। ফলে নগরীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে দেখা যাচ্ছে দীর্ঘ লাইন। সম্ভাব্য সংকটের আশঙ্কায় অনেকেই আগেভাগেই পেট্রোল ও অকটেন মজুত করতে পাম্পগুলোতে ভিড় করছেন। যদিও চাহিদা বাড়লেও দাম এখনও স্বাভাবিক রয়েছে।
নগরীর বিভিন্ন পেট্রোল পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, সকাল থেকেই মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের দীর্ঘ সারি। তবে বেশিরভাগ পাম্পেই একজন গ্রাহককে ৩০০ টাকার বেশি জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে না। এ নিয়ে অনেক গ্রাহকের মধ্যেই ক্ষোভ দেখা গেছে।
নগরীর লতা ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল কিনতে আসা মোটরসাইকেল চালক রবিউল ইসলাম খোকন বলেন, আমি মোটরসাইকেল নিয়ে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে যাতায়াত করব। কিন্তু আমাকে তেল দিল মাত্র ৩০০ টাকার। তেলের সংকট নেই, কিন্তু যুদ্ধের আতঙ্কে সবাই হুড়োহুড়ি করে তেল কিনছে।
নগরীর কাশিয়াডাঙ্গা এলাকার বাসিন্দা অন্য মোটরসাইকেল চালক সোহেল রানা বলেন, সকালে এসে প্রায় আধা ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। তবুও ৩০০ টাকার বেশি তেল দিচ্ছে না। এতে দূরের পথে যাতায়াত করা খুবই কষ্টকর হয়ে পড়ছে। প্রাইভেটকার চালক মাহমুদ হাসান বলেন, আমরা গাড়ি নিয়ে পরিবারসহ বাইরে যাই। ৩০০ টাকার তেলে খুব বেশি দূর যাওয়া যায় না। যদি সংকট না থাকে তাহলে এমন সীমাবদ্ধতা কেন, সেটাই বুঝতে পারছি না। মোটরসাইকেল চালক কামাল হোসেন বলেন, তেলের জন্য এত লাইন আগে কখনও দেখিনি। সবাই ভয়ে আগে থেকেই তেল নিয়ে রাখছে মনে হয়।
বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের রাজশাহী শাখার সভাপতি মনিমুল হক বলেন, এখনও সরবরাহের কোনো ঘাটতি নেই। তবে শুক্রবার ও শনিবার ছুটির দিন হওয়ায় ডিপো থেকে সরবরাহ বন্ধ থাকবে।
এ কারণে সবাইকে একটি নিয়মের মধ্যে রেখে জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি গ্রাহক জ্বালানি নিতে আসছেন, এতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর এত বেশি চাপ তৈরি হয়েছিল যে বাধ্য হয়ে কিছু সময়ের জন্য পাম্প বন্ধ করে দিতে হয়েছিল। তবে আজ সকাল থেকে আবারও সচল করা হয়েছে।