
হকারদের রাস্তা ও ফুটপাত বরাদ্দ দেওয়া কেন সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও অবৈধ নয়, তা জানতে চেয়েছে হাই কোর্ট।
জনস্বার্থে করা একটি রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গতকাল মঙ্গলবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি আবদুর রহমানের বেঞ্চ এ বিষয়ে রুল জারি করে। আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে স্থানীয় সরকার (এলজিআরডি) সচিব, আইন সচিব, ঢাকা দক্ষিণ ও উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. সোহেবুজ্জামান জনস্বার্থে এই রিট আবেদনটি দায়ের করেন। রিট আবেদনে বলা হয়, হকারদের রাস্তা ও ফুটপাত বরাদ্দ দেওয়া সংবিধানের ২১ ও ৩৬ অনুচ্ছেদে বর্ণিত মৌলিক অধিকার এবং ‘সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮’-এর ৩৭ ধারার পরিপন্থি। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী রোকনুজ্জামান। রিটকারী আইনজীবী মো. সোহেবুজ্জামান বলেন, ‘ফুটপাতের হকারদের জন্য ফুটপাত এবং রাস্তায় বরাদ্দ বিষয়ে সরকার ২০২৬ সালে একটা নীতিমালা প্রণয়ন করেছে। এটা সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক।’ গত সোমবার রিট করেছিলেন জানিয়ে রিটের শুনানি ও রুল জারির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘গতকালকে শুনানি হয়েছিল। এরপরে সরকার পক্ষ সময় নিয়েছিল। ‘সেটার পরে গতকালকে আবার শুনানি হয়েছে, শুনানি হয়ে হাই কোর্ট রুল ইস্যু করেছে।’ রুলের বিষয়ে এই আইনজীবী বলেন, ‘রুলটা ছিল যে, সরকারের এই নীতিমালা প্রণয়ন সংবিধানের সঙ্গে কেন সাংঘর্ষিক নয়। ফুটপাত এবং রাস্তায় হকারদের বরাদ্দ দেওয়া এবং সড়ক পরিবহন আইনের ৩৭ ধারার সঙ্গেও এটি কেন সাংঘর্ষিক নয়, এই বিষয়ে জানতে চেয়ে হাই কোর্ট রুল ইস্যু করেছেন।’ সড়ক পরিবহন আইন লঙ্ঘনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই আইনে বলা আছে রাস্তার উভয়পাশে ১০ মিটার জায়গা ফাঁকা রাখতে হবে। কিন্তু ফুটপাত বরাদ্দ দেওয়ায় সেটার লঙ্ঘন হচ্ছে। জনগণের নির্বিঘ্নে চলাচলের স্বাধীনতা নষ্ট এবং যানজট সৃষ্টি হওয়াটা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। গত ৫ স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে জারি করা ‘ঢাকা শহরের হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালায়’ ঢাকার জনবহুল এলাকায় দিনের বেলায় হকার বসার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তবে মিরপুর, গুলিস্তান, নিউ মার্কেট, সদরঘাট, বাইতুল মোকাররম মসজিদের মতো এলাকায় অফিস শেষে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত নৈশকালীন বা ‘নাইট মার্কেট’ বসানো যাবে। তাছাড়া যেসব বাণিজ্যিক এলাকায় দিনের বেলা প্রচণ্ড ভিড় থাকে, কিন্তু রাতে জনশূন্য হয়ে পড়ে, সেসব এলাকার নির্দিষ্ট লেইনে নৈশকালীন মার্কেট বসানো যাবে। নীতিমালায় বলা হয়েছে, ফুটপাতের পুরোটা দখল করা যাবে না, পথচারীদের জন্য ৫-৮ ফুট জায়গা ফাঁকা রাখতে হবে। নীতিমালার ঠিক কোন বিষয়গুলোকে আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবে রিটকারী আইনজীবী সোহেবুজ্জামান বলেন, নীতিমালার নির্দিষ্ট কোনো একটি অনুচ্ছেদ নয়, বরং ফুটপাত ও রাস্তায় হকারদের বসার সুযোগ করে দেওয়ার যে সামগ্রিক উদ্দেশ্য এই নীতিমালায় রয়েছে, রিট আবেদনে সেটিরই বিরোধিতা করা হয়েছে।