ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ মাস্টারপ্ল্যান দ্রুত প্রণয়নের দাবি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণাঙ্গ মাস্টারপ্ল্যান দ্রুত প্রণয়নের দাবি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন এবং এর সঙ্গে সমন্বয় না করে অপরিকল্পিতভাবে ফুটপাত ও সাইকেল লেন নির্মাণ বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন করেছে শিক্ষার্থীরা। গতকাল বুধবার বেলা ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন 'জাহাঙ্গীরনগর বাঁচাও আন্দোলন'-এর সদস্যরা।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ণাঙ্গ মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কাজ চলমান আছে। কিন্তু মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন কমিটির সঙ্গে কোনো ধরনের সমন্বয় ছাড়াই প্রায় ২৫ কোটি ৫১ লাখ টাকা ব্যয়ে ৮ দশমিক ৫৬ কিলোমিটার সড়ক পুনর্নির্মাণ, ফুটপাত ও পৃথক সাইকেল লেন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গতকাল বুধবার প্রকল্পটির উদ্বোধন হওয়ার কথা থাকলেও মানববন্ধন শুরুর আগেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক বিজ্ঞপ্তিতে সেটি স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়।

এমন পরিপ্রেক্ষিতে মানববন্ধনে দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী সজীব আহমেদ জেনিচ বলেন, সাত বছর ধরে আন্দোলনের ফলে মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের জন্য কাজ শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কিন্তু এখনও আর্থিক সংকুলান ও টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হয়নি। এগুলো শেষ করে দ্রুত মাস্টারপ্ল্যানের কাজ দৃশ্যমান করতে হবে। জেনিচের অভিযোগ, প্রস্তাবিত ফুটপাত ও সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনাটি সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার প্রশাসনের। বর্তমান প্রশাসনও কোনো সামগ্রিক পরিকল্পনা ছাড়াই সেটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। তার দাবি, কেন্দ্রীয় স্যুয়ারেজ ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা ছাড়া এ ধরনের অবকাঠামো নির্মাণ করা হলে তা ভবিষ্যতে আরও সমস্যার সৃষ্টি করবে। তিনি বলেন, উন্নয়নের নামে এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৩ হাজার গাছ কাটা হয়েছে এবং অসংখ্য লেক ও জলাধার ভরাট করা হয়েছে। এর ফলে ক্যাম্পাসে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও লেক শুকিয়ে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে। প্রাণ-প্রকৃতি রক্ষার স্বার্থে তাই দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ মাস্টারপ্ল্যান জরুরি।

মানববন্ধনে সমাপনী বক্তব্যে নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী অদ্রি অংকুর বলেন, ক্যাম্পাসের জলাধার, গাছপালা ও সড়কব্যবস্থা পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় খণ্ডিত ও অপরিকল্পিত উন্নয়ন এসব প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। মূল সড়ক ঘেঁষে অপরিকল্পিতভাবে নতুন কলা ভবন নির্মাণের কারণে ক্লাস চলাকালে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার জন্য সড়ক বন্ধ রাখতে হয়। এটি প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার একটি উদাহরণ। টিএসসি সংলগ্ন পুকুর ভরাটের কারণে বর্ষাকালে ক্যাম্পাসে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। তিনি পৃথক ও সামগ্রিক পরিবেশগত মূল্যায়ন (এনভায়রনমেন্টাল অ্যাসেসমেন্ট) ছাড়া কোনো সড়ক প্রশস্তকরণ বা ফুটপাত নির্মাণ না করার দাবি জানান।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত