
সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস গতকাল রোববার শেয়ারবাজারে বিমা ও বস্ত্রখাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ারের ঢালাও দরপতন হয়েছে। এতে প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি মূল্যসূচক কমেছে। সেই সঙ্গে কমেছে লেনদেনের পরিমাণ। অন্য শেয়ারবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) বেশি সংখ্যক প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমেছে। ফলে কমেছে মূল্যসূচক। তবে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। এর আগে গত সপ্তাহের শেষ দুই কার্যদিবসে বিমা ও বস্ত্রখাতের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম বাড়ে। এতে সার্বিক শেয়ারবাজারেও ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মেলে।
এ পরিস্থিতিতে গতকাল রোববার ডিএসইতে লেনদেন শুরু হয় বিমাসহ বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম বাড়ার মাধ্যমে। ফলে লেনদেনের শুরুতে সূচকের ঊর্ধ্বমুখিতার দেখা মেলে। তবে প্রথম ঘণ্টার লেনদেন শেষ হতেই একের পর এক বিমা কোম্পানির শেয়ার দাম কমতে থাকে। সেই সঙ্গে বস্ত্রখাতের বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দাম কমে যায়। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে সার্বিক বাজারে। ফলে দাম কমার তালিকা বড় হওয়ার পাশাপাশি মূল্যসূচক কমেই দিনের লেনদেন শেষ হয়। দিনের লেনদেন শেষে ডিএসইতে সব খাত মিলে দাম বাড়ার তালিকায় নাম লিখিয়েছে ১১৯টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট। বিপরীতে দাম কমেছে ২২৮টির এবং ৫৮টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অন্যদিকে ১১টি বিমা কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে কমেছে ৪২টার এবং ৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর বস্ত্রখাতের ১৩টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ৩৩টির দাম কমেছে এবং ১২টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
এদিকে ভালো কোম্পানি বা ১০ শতাংশ অথবা তার বেশি লভ্যাংশ দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ৫৮টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১১৬টির দাম কমেছে এবং ২৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। মাঝারি মানের বা ১০ শতাংশের কম লভ্যাংশ দেওয়া ২৩টি কোম্পানির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৪৯টির এবং ৩টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ না দেওয়ার কারণে ‘জেড’ গ্রুপে স্থান হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে ৩৮টির শেয়ার দাম বেড়েছে। বিপরীতে দাম কমেছে ৬৩টির এবং ১৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। আর তালিকাভুক্ত মিউচুয়াল ফান্ডগুলোর মধ্যে ৬টির দাম বেড়েছে। বিপরীতে ১৪টির দাম কমেছে এবং ১৪টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
দাম কমার তালিকা বড় হওয়ায় ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স আগের দিনের তুলনায় ১৯ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ২২৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। অন্য দুই সূচকের মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৬২ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আর বাছাই করা ভালো ৩০ কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ সূচক আগের দিনের তুলনায় ১১ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৯৭০ পয়েন্টে নেমে গেছে। মূল্যসূচক কমার পাশাপাশি ডিএসইতে লেনদেনের পরিমাণও কমেছে।
বাজারটিতে লেনদেন হয়েছে ৮৬৮ কোটি ২৩ লাখ টাকা। আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয় ৯৯৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা। এ হিসাবে আগের কার্যদিবসের তুলনায় লেনদেন কমেছে ১২৯ কোটি ৭ লাখ টাকা। এই লেনদেনে সব থেকে বড় ভূমিকা রেখেছে এনসিসি ব্যাংকের শেয়ার। কোম্পানিটির ২৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্সুরেন্সের শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২১ কোটি ৬৭ লাখ টাকার। ২০ কোটি ৮৩ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেনের মাধ্যমে তৃতীয় স্থানে রয়েছে ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং।