ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

প্রকৃত বেচাকেনার তথ্য আসছে না কোম্পানিগুলোর

বললেন এনবিআর চেয়ারম্যান
প্রকৃত বেচাকেনার তথ্য আসছে না কোম্পানিগুলোর

কোম্পানিগুলো বছরজুড়ে যে পরিমাণ বেচাকেনা করে তার ‘প্রকৃত চিত্র’ এর নিরীক্ষা প্রতিবেদন ও হিসাবে প্রতিফলিত হচ্ছে না বলে মনে করছেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। এ প্রবণতাকে রাজস্ব আদায়ের সবচেয়ে বড় ‘রেড ফ্ল্যাগ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি।

আবদুর রহমান বলেন, ‘আমাকে একটি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে, আর্থিক প্রতিবেদন এবং কর আদায়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ‘রেড ফ্ল্যাগ’ বা বিপজ্জনক সংকেত কোনটি? আমার কাছে, আমাদের আর্থিক প্রতিবেদনের সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, টার্নওভার বা প্রকৃত বেচাকেনা অ্যাকাউন্টিংয়ে (আয়-ব্যয়ের হিসেবে) সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয় না।’ গতকাল বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ফাইনান্সিয়াল অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড রিপোর্টিং (ফার) সামিটে বক্তব্য দিচ্ছিলেন এনবিআর চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘একটি সভ্য সমাজে এটি কল্পনাই করা যায় না, কিন্তু এটাই বাস্তবতা। নগদ লেনদেনগুলো অ্যাকাউন্টিংয়ে দেখানোই হয় না, অথবা পুরোপুরি প্রতিফলিত হয় না।’

দেশে ‘করপোরেট সুশাসন’ ও সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি) বাংলাদেশ, দ্য ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) এবং দ্য ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি)-এর যৌথ উদ্যোগে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। করপোরেট কোম্পানিগুলো তাদের বাৎসরিক নিরীক্ষা করে থাকে পেশাদার হিসাববিদদের দিয়ে। আইসিএবি ও আইসিএমএবির সনদপ্রাপ্ত পেশাদারদের নিরীক্ষার মান যাচাইয়ে কাজ করে এফআরসি।

তবে পেশাদার হিসাববিদরা কোম্পানির সঙ্গে যোগসাজশে কর ফাঁকি দিতে নানা ‘অসঙ্গতির’ আশ্রয় নেন বলে অভিযোগ আছে, তেমনি তাদের প্রতিবেদনের মান যাচাইয়ে এফআরসি সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন আছে। বিগত সময়গুলোতে ব্যাংকসহ আর্থিক খাতের প্রতিষ্ঠানের পুঁজি সরানো, অর্থপাচারসহ নানা অসঙ্গতির তথ্য সংবাদমাধ্যমে এলেও তার খুবই কম চিত্রিত হয়েছে এসব পেশাদারদের তৈরি আর্থিক প্রতিবেদনে। বিষয়টি নিয়ে সম্মেলনের উদ্বোধনী আয়োজনে কড়া সমালোচনা করেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। পরের সেশনেই এনবিআর চেয়ারম্যান রাজস্ব আদায়ের সংকট তুলে ধরতে গিয়ে আর্থিক প্রতিবেদনে অসঙ্গতির দিকে আঙুল তুলে বলেন, ‘আপনারা সবাই অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক প্রকাশিত শ্বেতপত্রটি সম্পর্কে জানেন। আমরা সবাই জানি আমাদের ব্যাংকিং খাতের কী অবস্থা হয়েছিল। এমনকি বলতে পারি যে, জালিয়াতিপূর্ণ বা মিথ্যা আর্থিক প্রতিবেদনগুলো তৈরি করা হয়েছিল। এর প্রস্তুতকারী হিসেবে নিশ্চিতভাবেই সিএফও বা অ্যাকাউন্টেন্টরা জড়িয়ে ছিলেন; যাদের সবাই এই মঞ্চের সামনে বসে আছেন।’

তার ভাষ্য, ‘এগুলোই হচ্ছে বাস্তবতা এবং এর ফলে প্রত্যেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পুরো জাতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কারণ হয় আমরা বিষয়গুলোকে খুব খামখেয়ালি বা সাধারণ হিসেবে নিয়েছি, অথবা যেভাবে পেশাদার হওয়া উচিত ছিল আমরা সেভাবে পেশাদারত্ব দেখাতে পারিনি। এর জন্য জাতিকে যে মূল্য দিতে হচ্ছে, তা অত্যন্ত চড়া।’ সরকারি কোষাগারের জন্য রাজস্ব সংগ্রহ করতে গিয়ে আর্থিক প্রতিবেদনে প্রকৃত বেচাকেনার তথ্য না আসায় জটিলতাগুলো ‘টের পাচ্ছেন’ বলেও মন্তব্য করেন রহমান খান। তিনি বলেন, ‘এর প্রথম ভুক্তভোগী সম্ভবত সরকারের তহবিল বা কোষাগার নিজেই। আমরা সঠিক রাজস্ব পাচ্ছি না, কারণ যে সমস্ত আর্থিক প্রতিবেদন তৈরি ও উপস্থাপন করা হচ্ছে এবং অডিট করা হচ্ছে, সেগুলো সঠিক বাস্তবতা প্রতিফলিত করছে না।’ এমনকি এ প্রবণতার কারণে নিয়ম মেনে যারা ব্যবসা করেন তারাও ভুগছে বলে মত দেন তিনি।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত