ঢাকা রোববার, ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৮ মাঘ ১৪৩২ | বেটা ভার্সন

মুশফিকের কীর্তিময় দিনে বিসিবির বিশেষ আয়োজন

মুশফিকের কীর্তিময় দিনে বিসিবির বিশেষ আয়োজন

বাংলাদেশের ক্রিকেটের সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় মুশফিকুর রহিম। লাল সবুজ থেকে নিজেকে সরে দাঁড়িয়ে দুই দশকের ক্যারিয়ার এখন শুধু সাদা পোশাকে সীমাবদ্ধ করেছেন এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার। সাদা পোশাক, অর্থাৎ টেস্টে তার অভিষেক হয়েছিল ২০০৫ সালের মে মাসে লর্ডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। গতকাল বুধবার আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে মিরপুর টেস্ট দিয়ে ১০০ টেস্ট খেলার মাইলফলক ছুঁয়েছেন মুশফিক। তিনি এ কীর্তি গড়েছেন দেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে। তাই গতকাল বুধবার সকালটা মুশফিকের জন্য ছিল বিশেষ, বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্যও বিশেষ। এমনিতেই মুশফিক সম্ভবত ক্রিকেটারদের মাঝে সবার আগে ঘুম থেকে উঠেন। এদিন উত্তেজনা-রোমাঞ্চ হয়তো তাকে আরও আগে উঠিয়ে দিয়েছে। হয়তো তাহাজ্জুদ পড়েছেন অটুট বিশ্বাসে।

এরপর দিনের আলো ফোটা, মুশফিকের নাস্তা খাওয়া, তৈরি হওয়া, বাসে করে স্টেডিয়ামে আসা এবং ওই সাদা পোষাক আর ২০০৫ সালে পাওয়া পুরোনো কিন্তু গৌরবের টেস্ট ক্যাপটি পড়া। নিজের সব কিছু ঠিকঠাক করে মাঠে নামা এবং শততম টেস্টের গৌরব মেখে বিসিবির সুন্দর আয়োজনের কেন্দ্র হওয়া। দিনটাই ছিল মুশফিকের। বাংলাদেশের ১৫৬তম টেস্টের ১০০টিই খেলতে নেমেছিলেন মুশফিক। ক্রিকেট মাঠে পরিশ্রমের ফুল ফুটিয়ে, সততা ও নিষ্ঠার আলো ছড়িয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তার মাইলফলক ছোঁয়া দিনটি রাঙিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সম্মানজনক সংবর্ধনায় তাকে দিয়েছে বিরাট সম্মান। বিরাট এই দিনে মুশফিকুর পাশে পেয়েছেন তার বাবা-মা, স্ত্রী ও সন্তানদের।

ছুটে এসেছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদও। এছাড়া বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, তার প্রথম টেস্ট অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন, ২০০৫ সালে প্রথম টেস্টের সতীর্থরা ছিলেন মাঠে। শুরুতে তাকে বিশেষ টেস্ট ক্যাপ তুলে দেন হাবিবুল বাশার।

যিনি ২০০৫ সালে লর্ডসে মুশফিকের হাতে প্রথম টেস্ট ক্যাপ তুলে দিয়েছিলেন। এরপর ক্যাপের বিশেষ কেসকেট প্রদান করেন বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট ক্রিকেটার আকরাম খান।

এরপর বিশেষ ক্রেস্ট তুলে দেন বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান ও বর্তমান বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, সঙ্গে ছিলেন নাজমুল আবেদীন ফাহিম।

এরপর হাবিবুল বাশার এবং বর্তমান অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর অটোগ্রাফ দেওয়া জার্সি পেয়েছেন মুশফিকুর।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে নাজমুল বলেছেন, ‘আপনার মতো খেলতে চেয়েছি, ছোটবেলা থেকে আপনার দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছি। আশা করি আপনি এভাবেই খেলে যাবেন। যেভাবে আপনি মাঠে ও মাঠের বাইরে সব পরিশ্রম করেন। সবাই আপনার পরিশ্রম ও পাগলামির কথা বলে।

কিন্তু আপনি সবসময় দলের জন্য খেলেন, দলের কথা ভাবেন নিজের ক্রিকেট খেলেন না। এটা আমাদের জন্য সবসময় অনুপ্রাণার, বিশেষত যারা তরুণ ক্রিকেটার টেস্ট খেলতে চায়, তাদের জন্য। আমাদের সঙ্গে খেলায় আপনাকে ধন্যবাদ, আমি আশা করি আপনি খেলা চালিয়ে যাবেন।’

মুশফিক নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়েছিলেন মেয়েকে কোলে নিয়ে। মুখে চওড়া হাসি, বুক ভরা গর্ব নিয়ে মুশফিকুর বলেছেন, ‘আল্লাহকে ধন্যবাদ এমন দারুণ একটা সুযোগের জন্য। যারা উপস্থিত আছেন আপনাদের সবাইকেও ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমার পরিবারের সব সদস্য, বাবা-মাকে কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই। বিশেষত আমার স্ত্রীকে, যে অনেক নির্ঘুম রাত কাটিয়েছে। আমার সতীর্থ, কোচ, বন্ধু ও সব ভক্তদেরও ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমি বাংলাদেশ ক্রিকেটের ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা জানাই। আমিও বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য একশ’ ভাগ দেব, যেমনটা সবসময় চেষ্টা করি। আয়ারল্যান্ড ক্রিকেট দলকেও ধন্যবাদ জানাতে চাই এখানে আসার জন্য।’

এরপর ফটোসেশনে অংশ নেন সবাই। ২০০৫ সালে লর্ডস টেস্টে মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে থাকা হাবিবুল, আনোয়ার হোসেন মনির, মোহাম্মদ রফিক, নাফিস ইকবাল, মোহাম্মদ আশরাফুল, খালেদ মাসুদ উপস্থিত ছিলেন মুশফিকুরের ঐতিহাসিক মঞ্চে। গ্র্যান্ড স্ট?্যান্ডে থাকা সমর্থকদের সঙ্গেও ছবি তোলেন। মুশফিকুরের এই মুহূর্তটা গ্র্যান্ড স্ট্যান্ডে থেকে উপভোগ করেন বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের ক্রিকেটাররা।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত