
থাইল্যান্ডে ইতিহাস গড়ে মাত্রই দেশে ফিরেছেন সাবিনা খাতুন-কৃঞ্চা রানীরা। প্রথমবারের মতো আয়োজিত সাফ নারী ফুটসালে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে লাল সবুজের প্রতিনিধিরা। এবার নেপালে শুরু হয়েছে সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ। পোখারার রঙ্গশালায় টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে ভুটানকে ১২-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। ম্যাচজুড়েই ছিল বাংলাদেশের একক আধিপত্য। ভুটানের রক্ষণভাগকে ভেঙেচুরে মাঠ ছেড়েছে পিটার বাটলারের দল। বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের জয়ে মুঙ্কি আক্তার একাই করেছেন চার গোল, হ্যাটট্রিকের দেখা পেয়েছেন তৃষ্ণা রানী ও আলপি আক্তার। একবার করে জালের দেখা পেয়েছেন মামনি ও অর্পিতা বিশ্বাস।
গতকাল শনিবার ম্যাচের শুরু থেকেই একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে খেলে পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা। তবে বল দখলে এগিয়ে থাকলেও গোলমুখ খুলতে শুরুতে কিছুটা সময় নেয় তারা। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে গোলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠতে থাকে দল। ২৫তম মিনিটে ফুরায় অপেক্ষা। আলপির শট এক ডিফেন্ডার কর্নারের বিনিময়ে ক্লিয়ার করেন। এই কর্নার থেকে দৃষ্টিনন্দন বাঁকানো শটে সরাসরি জাল খুঁজে নেন মামনি। ৪৩তম মিনিটে সুরভি আকন্দ প্রীতির আড়াআড়ি ক্রস মামনি ঠিকঠাক শট নিতে না পারলেও গোলমুখে বল পেয়ে যান তৃষ্ণা। ফাঁকা পোস্টে বল ঠেলে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি। এই গোলের রেশ থাকতেই পুজা দাসের ফ্লিকে বল পেয়ে মুনকি ব্যবধান বাড়ান আরও।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে পুজার ক্রস বক্সে দারুণভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে, পায়ের কারিকুরিতে জায়গা করে নিয়ে বাম পায়ের শটে স্কোরলাইন ৪-০ করেন মুনকি। চালকের আসনে বসে বিরতিতে যায় দল। দ্বিতীয়ার্ধে ভুটানকে আরও চেপে ধরে বাংলাদেশ। ৫৪তম মিনিটে ডান পায়ের কোনাকুনি শটে তৃষ্ণা লক্ষ্যভেদ করেন। এর ছয় মিনিট পর গোলকিপারের বাজে ভুলে ষষ্ঠ গোলটি হজম করে ভুটান। দুর্বল কিকে তৃষ্ণার পায়ে বল তুলে দেন তিনি, বক্সের একটু বাইরে পাওয়া এমন সুযোগ চিপ শটে কাজে লাগিয়ে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন এই ফরোয়ার্ড। ৭০তম মিনিটে দারুণ ক্ষিপ্রতায় পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে ভুটানের আক্রমণ ক্লিয়ার করেন ইয়ারজান বেগম। দুই মিনিট পরই ভুটানের এক ডিফেন্ডার বল ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হলে তার সঙ্গে সেঁটে থাকা আলপি বাম পায়ের কোনাকুনি শটে ব্যবধান বাড়ান আরও। ৮০তম মিনিটে সতীর্থের থ্রু পাস ধরে একক প্রচেষ্টায় অনেকটা এগিয়ে গোলকিপারের পাশ দিয়ে বল জালে পাঠিয়ে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন মুনকি। ছয় মিনিটে পর বক্সে ক্রস বাড়ান জয়নব বিবি রিতা। ফাঁকায় থাকা আলপি ডান পায়ের প্লেসিং শটে লক্ষ্যভেদ করেন। দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে আরও তিন গোল করে বাংলাদেশ। মুনকি নিজের চতুর্থ গোলটি করার পর অধিনায়ক অপির্তা বিশ্বাস গোলের খাতায় নাম তোলেন। অন্তিম সময়ে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন বাংলাদেশ উইমেনস ফুটবল লিগে গোলের বন্যা বইয়ে দেওয়া আলপি। রাউন্ড রবিন লিগে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।
তবে বড় জয় পেলেও নেপালে পোখরার মাঠ নিয়ে অসন্তুষ্টি ঝরেছে বাংলাদেশ দলের কোচ পিটার বাটলারের কণ্ঠে। ভিডিওতে যতটুকু দেখা যায়, মাঠে ঘাসের উপস্থিতি কম। কোথাও সবুজ, কোথাও ধুসর। ক্ষোভ উগরে তিনি বলেন, ‘আমরা স্রেফ এখানে খেলতে আসিনি...এবং আমি আসলেই মনে করি, এই মাঠ ভালো ফুটবল খেলার উপযোগী নয়। আপনারা জানেন, এই মাঠে স্প্রে দেওয়া হয়েছে যেন সবুজ দেখায় এবং আমার মতে, যে দুটি দল তাদের খেলোয়াড়দের উন্নতির চেষ্টা করছে এবং ভালো ফুটবল খেলার পথে আছে, তাদের এই মাঠে খেলতে বলা অন্যায়। আমি কারও দিকে অভিযোগের আঙুল তুলছি না। শুধু বলতে চাইছি, এই মাঠ যথেষ্ট মানসম্পন্ন নয়।’
পিটার বাটলার বলেন, ‘সম্ভাব্য যত বেশি বদলি নামানোর চেষ্টা আমি করেছি। আমার মনে হয়, আমরা কিছুটা খেলতে পেরেছি। আমি বলব না, আমরা দারুণ এবং ভালো খেলেছি, কেননা, এই মাঠে আপনি ভালো ফুটবল খেলতে পারবেন না। তবে আমি মনে করি, আমরা কন্ডিশনের সঙ্গে ভালোভাবে মানিয়ে নিতে পেরেছি। মেয়েদের মানসিকতা, নিবেদন এবং দলবদ্ধ হয়ে খেলার মানসিকতায় আমি মুগ্ধ।’
স্কোরলাইন দেখাচ্ছে ম্যাচে বাংলাদেশের আধিপত্য। এ নিয়ে বলতে গিয়েও বাটলার টেনেছেন মাঠ নিয়ে তার হতাশা। ‘মাঝেমধ্যে আমার মনে হয়, ছোট ছোট প্রাপ্তির জন্য কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। এই মাঠ দুই দলের জন্যই ছিল একই এবং আমি নিশ্চিত, তারাও (ভুটান) এটা নিয়ে খুশি নয়। কিন্তু স্কোরলাইনেই প্রতিফলিত হচ্ছে আমাদের আধিপত্য এবং ম্যাচটি ছিল একপেশে।’